শান্তিগঞ্জে অবৈধ জালবিরোধী অভিযান ঘিরে জলমহালে সংঘর্ষ, আহত- ২০
- Update Time : ০৬:৩০:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৪ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
নিজস্ব প্রতিবেদক :: সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে বনুয়া-কৈয়া গ্রুপ জলমহালে অবৈধ রিং জাল ও কারেন্ট জালের বিরুদ্ধে প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের অভিযানকে কেন্দ্র করে ইজারাদারের লোকজন ও স্থানীয় জেলেদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার শিমুলবাক ইউনিয়নের থলেরবন্দ গ্রামের জলমহাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। এর আগে অভিযানে প্রায় ১০০ মিটার অবৈধ রিং জাল আটক করে মৎস্য বিভাগ। আটক জাল ফেরত দেওয়ার জন্য স্থানীয় কয়েকজন জেলে প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করলে ইজারাদারের লোকজন বাধা দেনÑএমন অভিযোগ জেলেদের। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের সদস্যরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। তবে মৎস্য বিভাগের দাবি, তাদের উপস্থিতিতে কোনো সংঘর্ষ হয়নি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে শান্তিগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের একটি দল থলেরবন্দ গ্রামের বনুয়া-কৈয়া গ্রæপ জলমহালের আশপাশে অভিযান চালায়। অভিযানে অবৈধ রিং জালসহ প্রায় ১০০ মিটার জাল জব্দ করা হয়। জেলেদের দাবি, জব্দ করা জাল তাদের এবং তারা জলমহালের ইজারাকৃত অংশের বাইরে মাছ ধরছিলেন। এ সময় তারা প্রশাসনের সদস্যদের কাছে জাল ফেরত দেওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু ইজারাদার গোলাম আমিনের লোকজন এতে বাধা দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে বলে স্থানীয়রা জানান। প্রশাসনের সদস্যরা তখন দ্রæত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এরপরও প্রায় এক ঘণ্টা দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলে বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি। থলেরবন্দ গ্রামের আনোয়ার হোসেন, আব্দুল হান্নান ও তাজুল মিয়াসহ জেলেদের পক্ষের কয়েকজন বলেন, ‘আমরা মাছ মেরে ভাত খাই। আমরা প্রকৃত মৎস্যজীবী। ইজারাদারের বিলে আমরা জাল দিয়ে মাছ ধরি না; বিল থেকে অনেক দূরে মাছ ধরি।’ তাদের অভিযোগ, ইজারাদার ও প্রশাসনের লোকজন তাদের হাওরে পাতা জাল তুলে নিয়ে যান। পরে জাল ফেরত চাওয়ার সময় ইজারাদারের লোকজন বাধা দেন এবং একপর্যায়ে হামলা চালান। এতে তাদের পক্ষের ১০-১২ জন আহত হয়েছেন বলে তারা দাবি করেন। জেলেদের আরও অভিযোগ, প্রশাসনের সদস্যরা চলে যাওয়ার পর তাদের প্রায় ১০টি নৌকা এবং দুই থেকে তিন শতাধিক জাল নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঘটনার পর তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও দাবি করেন তারা। তবে জেলেদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বনুয়া-কৈয়া গ্রæপ জলমহালের ইজারাদার ও থলেরবন্দ মৎস্য সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম আমিন। তিনি বলেন, ‘প্রশাসনের লোকজনকে দেখেই জব্বারের লোকজন লাঠি, রামদা ও চুলফি নিয়ে আমাদের দিকে তেড়ে আসে। আমরা বাধা দিলে তারা আমাদের ওপর হামলা চালায়। আমাদের হাতে কিছুই ছিল না।’ গোলাম আমিনের দাবি, তাদের পক্ষের ৯-১০ জনকে মারধর করা হয়েছে। প্রশাসনের সদস্যরা কোনো রকমে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে তার পক্ষের লোকজনকেও বাজার ও গ্রামের রাস্তায় মারধর করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তার আরও দাবি, কিছু স্থানীয় জেলে নিয়মিত তার ইজারাকৃত জলমহালে অবৈধ রিং জাল ও কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ শিকার করেন। তাদের কারণে জলমহাল ইজারাদাররা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সংঘর্ষে জেলেদের পক্ষের মাসুক মিয়া (৪০), তমজিদ মিয়া (২০), সফর আলী (১৮), তাজুল ইসলাম (৪৫), সাহের আলী (৩৬), জাহির আলী (৩৮), জুনাইদ মিয়া (১০), আব্দুল হান্নান (৪০), রতন মিয়া (১৮), আকরাম (১৮), আল আমিন (২৩), আব্দুল কাইয়ূম (২৫) ও আক্কাস আলী (২১)সহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জেলেরা দাবি করেছেন। অন্যদিকে ইজারাদারের পক্ষের দিলোয়া হোসেন (৫০), জবর আলী (৭৫), শাহিন আলম (১৮), আজাদ মিয়া (৪৫), মঙ্গল মিয়া (৪৫), হাম্মাদ (২০), কুতুব উদ্দিন (১৮) ও গোলাম আমিন (৫০)সহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে ইজারাদার পক্ষের দাবি। শান্তিগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কামরুল হাসান বলেন, ‘নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে বুধবার থলেরবন্দ হাওরে গিয়ে প্রায় ১০০ মিটার অবৈধ রিং জাল আটক করি। খবর পেয়ে জলমহালের ইজারাদারের লোকজনও আমাদের সহযোগিতা করেন।’ তিনি বলেন, পরে আটক জালের মালিকরা জাল ফেরত দেওয়ার অনুরোধ করলে ইজারাদারের লোকজন ও স্থানীয় জেলেদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। সঙ্গে থাকা পুলিশ সদস্যরা উভয় পক্ষকে শান্ত করেন। মৎস্য কর্মকর্তা জানান, পরে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে আটক জালগুলো আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করেন। তাদের উপস্থিতিতে কোনো মারামারি বা সংঘর্ষ হয়নি। তারা চলে যাওয়ার পর কী ঘটেছে, তা তাদের জানা নেই। শান্তিগঞ্জ থানার এসআই মিজানুর রহমান জানান, থলেরবন্দ গ্রামের সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, জলমহালে অবৈধ জাল ব্যবহার বন্ধের পাশাপাশি প্রকৃত মৎস্যজীবীদের অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে ইজারাদার ও স্থানীয় জেলেদের মধ্যকার বিরোধের স্থায়ী সমাধানে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।




























