এমপি লিংকনকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী না করার দাবি কওমি আলেমদের
- Update Time : ০২:২৪:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬
- / ২ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
ডেস্ক রিপোর্ট :: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে সংসদ সদস্য শামীম কায়সার লিংকনকে নিয়োগ না দেওয়ার দাবি জানিয়েছে কওমি সংশ্লিষ্ট সম্মিলিত উলামা মাশায়েখ বাংলাদেশ। একই সঙ্গে উলামায়ে কেরামের সঙ্গে আলোচনা করে একজন যোগ্য, অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। এ দাবি না মানলে দেশের উলামায়ে কেরামের সঙ্গে সরকারের বিদ্যমান সম্পর্ক ও পারস্পরিক আস্থায় দূরত্ব তৈরি হতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা। বৃহস্পতিবার রাজধানীর খিলগাঁওয়ে জামিয়া ইসলামিয়া মাখজানুল উলুম মিলনায়তনে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব দাবি ও বক্তব্য তুলে ধরা হয়। প্রেস ব্রিফিংয়ে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দিন রাব্বানী।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শামীম কায়সার লিংকনকে মনোনীত করার সংবাদ দেশের আলেম সমাজ ও সাধারণ তাওহিদী জনতার প্রত্যাশার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। তার দাবি, লিংকন দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় মতাদর্শ ও চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নন।
মাওলানা মুহিউদ্দিন রাব্বানী আরও বলেন, শামীম কায়সার লিংকন পীর-মাশায়েখ, তাবলিগ জামাতের কার্যক্রম ও চার মাজহাবের বিরোধী এবং লা-মাজহাবি আকিদায় বিশ্বাসী। অথচ বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকেই দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠী হানাফি মাজহাবের অনুসারী। এ কারণে ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে তাকে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয় বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ধর্মীয় সংস্কৃতি, রীতি-নীতি ও সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর বিশ্বাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হলে আলেমদের মর্যাদা রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের ধর্মীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরও সহজ হবে।
মুহিউদ্দিন রাব্বানী বলেন, বর্তমান সরকার নিজেদের ইসলামবান্ধব সরকার হিসেবে দাবি করে আসছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের শীর্ষ মুরুব্বি আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এ অবস্থায় আলেম-উলামাদের এ ন্যায্য দাবি সরকার মেনে না নিলে বিদ্যমান পারস্পরিক আস্থার সম্পর্কে ফাটল ধরতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।
তিনি বলেন, এই দূরত্ব তৈরি হলে তা সহজে মেরামত করা সম্ভব হবে না। তাই উলামায়ে কেরামের পরামর্শ ও মতামতের ভিত্তিতে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মনোনীত করাই সরকারের জন্য কল্যাণকর হবে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তারা ধর্ম প্রতিমন্ত্রী নিয়োগের ক্ষেত্রে দেশের আলেম সমাজের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ধর্মীয় বিষয়ে অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে—এমন ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানান তারা।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল হামিদ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সহসভাপতি মুফতি নাজমুল হাসান কাসেমী, জামিয়া ইসলামিয়া মাখজানুল উলুম খিলগাঁওয়ের মুহতামিম মাওলানা জহুরুল ইসলাম, হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি বশিরুল্লাহসহ বিভিন্ন কওমি মাদরাসা ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতারা।




























