প্রবাসী কার্ড কী? মিলবে যেসব সুবিধা
- Update Time : ০৩:৪৯:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
- / ৩ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
ডেস্ক রিপোর্ট :: দেশে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডের পর আগামী দুই মাসের মধ্যে এবার চালু হচ্ছে প্রবাসী কার্ড। তবে এই কার্ডের মাধ্যমে পাওয়া সুবিধাগুলো নিয়ে প্রবাসী নাগরিকদের মধ্যে নানা প্রশ্ন রয়েছে। রোববার (১০ মে) যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী গণমাধ্যমকে এই তথ্য জানিয়েছেন। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের কাছে যে তথ্য রয়েছে, সে হিসেবে প্রবাসী বাংলাদেশির সংখ্যা অন্তত দেড় কোটি। তবে এর বাইরে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঠিক পরিসংখ্যান সরকারের কাছে নেই। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ডসহ নতুন নতুন অনেক কার্ড চালু করেছে। যার ধারাবাহিকতায় নতুন করে প্রবাসে থাকা বাংলাদেশিদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুরও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রবাসী কর্মীদের বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করতে সরকার ‘প্রবাসী কার্ড’ একটি কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এই কার্ডটি প্রবাসীদের জন্য একটি ডিজিটাল পরিচয়পত্র ও সেবা কার্ড হিসেবে কাজ করবে, যার মাধ্যমে তারা দেশের ভেতরে এবং বাইরে বিভিন্ন সরকারি ও আর্থিক সুবিধা পাবেন।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, ‘প্রবাসী নাগরিকরা এই কার্ড পাসপোর্টের বিকল্প হিসেবেও ব্যবহার করতে পারবে, যে কোনো সময় যে কেউ তার সম্পর্কে জানতে চাইলে একটি কিউআর কোড থাকবে, যেটি স্ক্যান করলে প্রবাসী নাগরিকদের বিস্তারিত দেখা যাবে এবং এই কার্ড মোবাইলের মাধ্যমেও ব্যবহার করা যাবে, কার্ডধারীকে সঙ্গেও রাখতে হবে না’। নির্বাচনের আগে বিএনপির ইশতেহারে বলা হয়েছিল, ‘প্রবাসী কার্ড’ দেওয়া হবে, যাতে তথ্য, দক্ষতা ও চাকরির শর্ত সংরক্ষণ থাকবে। এতে ব্যাংক পেমেন্ট গেটওয়েতে যুক্ত থাকবে, সহজ রেমিট্যান্স প্রেরণের সুবিধাও যুক্ত থাকবে।
যে সুবিধা থাকবে: বৈধভাবে বিদেশে যাওয়ার জন্য ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই চালু হয়েছিল বিএমইটি কার্ড। এই কার্ড ছাড়া কোনো শ্রমিক বৈধভাবে বিদেশ যেতে পারবে না। বিএনপির ইশতেহার অনুযায়ী, এই প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে রেমিট্যান্সে বাড়তি প্রণোদনা পাওয়া যাবে এবং দেশে ফেরত প্রবাসীদের সামাজিক সুরক্ষা প্রদান করা হবে।
প্রবাসী নাগরিকেরা বলছেন, তাদের অনেকেই এখনো জানেন না এই কার্ডটি পেলে তারা কি সুবিধা পাবেন বা তাদের জন্য এই কার্ড কতখানি জরুরি।
মালয়েশিয়া প্রবাসী শাহরিয়ার তারেক বলেন, ‘বিএমইটি কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা কিছু সুবিধা পেয়ে থাকেন। তারপরও অনেক প্রবাসীই বিমানবন্দর কিংবা বাংলাদেশে নাগরিক সুবিধা গ্রহণ করতে গিয়ে হয়রানির শিকার হন। তাদের কাছেও এটি একটি বড় প্রশ্ন যে এই কার্ড আসলে তাকে কতখানি সুরক্ষা দেবে।’
জবাবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, এই কার্ডের বড়ো একটি দিক হচ্ছে অর্থনৈতিক। এর ব্যাখ্যায় তিনি জানান, যার কাছে এই প্রবাসী কার্ডে যে ব্যাংকিং সিস্টেম যুক্ত থাকবে, তাতে ডুয়েল কারেন্সি কার্ডের সিস্টেমে ব্যবহার করা যাবে। সেক্ষেত্রে তিনি যে দেশে থাকেন, সেই দেশের মুদ্রায় তিনি খরচ করতে পারবেন এবং একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশি টাকায়ও খরচ করতে পারবেন।
নুরুল হক বলেন, ‘কোনো প্রবাসী যদি চান, তিনি তার কার্ড দিয়ে অনলাইন পেমেন্টের মাধ্যমে ওই দেশ থেকে তার পরিবারকে কিছু কিনে দিতে চাইলে, সেটাও এই প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে করতে পারবেন’।
প্রবাসী কার্ডটি চালুর উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক সময় দেশের বাইরে যারা থাকে, তারা যে টাকা পাঠায় সেটি অনেক সময় তাদের নিকট আত্নীয় বা পরিবারের লোকেরা খরচ করে ফেলে। এই কার্ডটা চালু হলে পরিবার একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা খরচ করতে পারবে। আনলিমিটেড টাকা খরচ করতে পারবে না’।
সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, বিভাগীয় শহর থেকে জেলা শহর পর্যন্ত প্রবাসীদের জন্য প্রবাসী সিটি গড়ে তোলা হবে। এক্ষেত্রে যাদের কাছে এই প্রবাসী কার্ড থাকবে, তারা প্রবাসী সিটিতে আবাসন বা প্লট ক্রয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ সুযোগ সুবিধা পাবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক বলেন, ‘এর বাইরেও বর্তমানে বিএমইটি বীমা, আর্থিক ক্ষতিপূরণসহ যে সব সুযোগ সুবিধা রয়েছে, সেগুলোও বহাল থাকবে প্রবাসী কার্ডে’।
তিনি জানান, আমরা চেষ্টা করব যে নাগরিকদের হাতে এই কার্ড থাকবে, তিনি যখন বিমানবন্দরে যাবেন, তখন যেন তিনি এই কার্ড ব্যবহারের মাধ্যমে তার সম্মানটুকু পান কিংবা তিনি যেন হয়রানির স্বীকার না হন— সেই বিষয়গুলোও যুক্ত থাকবে এই কার্ডে।




























