১২:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সুনামগঞ্জে বাঁধের নামে লুটপাটের প্রতিবাদে সমাবেশ করলো হাওর বাঁচাও আন্দোলন

  • Update Time : ১১:২৮:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৭ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

আল হেলাল, সুনামগঞ্জ :: সুনামগঞ্জে হাওরের বোরো ফসল রক্ষায় নির্মিত বাঁধে ভয়াবহ দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে স্থানীয় আলফাত উদ্দিন স্কয়ারে ‘হাওর বাঁচাও আন্দোলন’-এর ব্যানারে আয়োজিত এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তারা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে একে অপরের যোগসাজশের মাধ্যমে সরকারি অর্থ লুটপাটের তীব্র অভিযোগ তোলেন। তারা বলেন বাঁধের কাজ করতে গিয়ে প্রাক-জরিপ এবং পরবর্তী জরিপে ব্যাপক তথ্য গোপন ও জালিয়াতি করা হয়েছে। অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে গত বছরের অক্ষত বাঁধে নতুন করে বরাদ্দ দেখিয়ে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পের নামে টাকা লোপাট করা হচ্ছে। নীতিমালার তোয়াক্কা না করে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ করে কৃষকদের জীবন-জীবিকাকে হুমকির মুখে ফেলা হয়েছে।

এতে হাওর বাঁচাও আন্দোলন এর কেন্দ্রীয় সহসভাপতি কমরেড চিত্তরঞ্জন তালুকদার বলেন, “আমরা আর কতকাল দুর্নীতির বলি হবো? আমাদের পাহারাদাররাই এখন ভক্ষক হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
বিক্ষোভ শেষে ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। তাদের উল্লেখযোগ্য দাবিগুলো হলো,দুর্নীতির সাথে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ। ‘কাবিটা’ (কাজের বিনিময়ে টাকা) নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করা। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে প্রকৃত কৃষকদের দিয়ে পিআইসি গঠন। বাঁধ নির্মাণে স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা চালু। অকাল বন্যায় ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে অবিলম্বে ‘ফসল বীমা’ কার্যকর করা।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “বাঁধের কাজে দুর্নীতি মানেই কৃষকের পেটে লাথি মারা। তদন্ত ও বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়বনা।” সমাবেশে জেলা কমিটির সভাপতি ইয়াকুব বখত বাহলুল, সাংবাদিক কুদরত পাশা,আনোয়ারুল হক ও আবু সাঈদসহ তৃণমূলের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। বক্তারা একবাক্যে জানান, হাওরের ফসল কেবল কৃষকের সম্পদ নয়, এটি জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তার অংশ। তাই এই সম্পদ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বন্ধ করতে হবে। সুনামগঞ্জের এই গণবিক্ষোভ প্রমাণ করে যে, ফসল রক্ষায় কৃষকরা এখন সচেতন এবং নিজেদের অধিকার আদায়ে তারা যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত। এর আগে মধ্যনগর উপজেলার গুরমার হাওরের শৌলডুয়ারী বাঁধ কাটতে গিয়ে মাটি চাপায় পড়ে উপজেলার শালীয়ানী গ্রামের চাঁনফর মিয়ার একমাত্র ছেলে আরমান মিয়া (২০) নামে এক কৃষকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। কৃষক পরিবারগুলো জীবন দিয়ে হাওরের ধান রক্ষায় চেষ্টা করলেও সরকারের উপরমহলে এ নিয়ে কোন তৎপরতা নেই। সমাবেশে বক্তারা,পিআইসি বাণিজ্য ও ফসলহানীর জন্য সুনামগঞ্জে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় দুর্নীতিবাজ জেলা প্রশাসক ইলিয়াস মিয়া ও তার সকল দুর্নীতিবাজ সহযোগীদেরকে দায়ী করে তাদেরকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

সুনামগঞ্জে বাঁধের নামে লুটপাটের প্রতিবাদে সমাবেশ করলো হাওর বাঁচাও আন্দোলন

Update Time : ১১:২৮:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

আল হেলাল, সুনামগঞ্জ :: সুনামগঞ্জে হাওরের বোরো ফসল রক্ষায় নির্মিত বাঁধে ভয়াবহ দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে স্থানীয় আলফাত উদ্দিন স্কয়ারে ‘হাওর বাঁচাও আন্দোলন’-এর ব্যানারে আয়োজিত এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তারা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে একে অপরের যোগসাজশের মাধ্যমে সরকারি অর্থ লুটপাটের তীব্র অভিযোগ তোলেন। তারা বলেন বাঁধের কাজ করতে গিয়ে প্রাক-জরিপ এবং পরবর্তী জরিপে ব্যাপক তথ্য গোপন ও জালিয়াতি করা হয়েছে। অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে গত বছরের অক্ষত বাঁধে নতুন করে বরাদ্দ দেখিয়ে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পের নামে টাকা লোপাট করা হচ্ছে। নীতিমালার তোয়াক্কা না করে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ করে কৃষকদের জীবন-জীবিকাকে হুমকির মুখে ফেলা হয়েছে।

এতে হাওর বাঁচাও আন্দোলন এর কেন্দ্রীয় সহসভাপতি কমরেড চিত্তরঞ্জন তালুকদার বলেন, “আমরা আর কতকাল দুর্নীতির বলি হবো? আমাদের পাহারাদাররাই এখন ভক্ষক হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
বিক্ষোভ শেষে ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। তাদের উল্লেখযোগ্য দাবিগুলো হলো,দুর্নীতির সাথে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ। ‘কাবিটা’ (কাজের বিনিময়ে টাকা) নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করা। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে প্রকৃত কৃষকদের দিয়ে পিআইসি গঠন। বাঁধ নির্মাণে স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা চালু। অকাল বন্যায় ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে অবিলম্বে ‘ফসল বীমা’ কার্যকর করা।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “বাঁধের কাজে দুর্নীতি মানেই কৃষকের পেটে লাথি মারা। তদন্ত ও বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়বনা।” সমাবেশে জেলা কমিটির সভাপতি ইয়াকুব বখত বাহলুল, সাংবাদিক কুদরত পাশা,আনোয়ারুল হক ও আবু সাঈদসহ তৃণমূলের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। বক্তারা একবাক্যে জানান, হাওরের ফসল কেবল কৃষকের সম্পদ নয়, এটি জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তার অংশ। তাই এই সম্পদ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বন্ধ করতে হবে। সুনামগঞ্জের এই গণবিক্ষোভ প্রমাণ করে যে, ফসল রক্ষায় কৃষকরা এখন সচেতন এবং নিজেদের অধিকার আদায়ে তারা যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত। এর আগে মধ্যনগর উপজেলার গুরমার হাওরের শৌলডুয়ারী বাঁধ কাটতে গিয়ে মাটি চাপায় পড়ে উপজেলার শালীয়ানী গ্রামের চাঁনফর মিয়ার একমাত্র ছেলে আরমান মিয়া (২০) নামে এক কৃষকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। কৃষক পরিবারগুলো জীবন দিয়ে হাওরের ধান রক্ষায় চেষ্টা করলেও সরকারের উপরমহলে এ নিয়ে কোন তৎপরতা নেই। সমাবেশে বক্তারা,পিআইসি বাণিজ্য ও ফসলহানীর জন্য সুনামগঞ্জে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় দুর্নীতিবাজ জেলা প্রশাসক ইলিয়াস মিয়া ও তার সকল দুর্নীতিবাজ সহযোগীদেরকে দায়ী করে তাদেরকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ