নবীগঞ্জে স্কুলছাত্রী ধর্ষণচেষ্টা, ৩০ হাজার টাকায় রফাদফা-মামলা
- Update Time : ০৫:৪৯:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
নিজস্ব প্রতিবেদক :: ১০ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তার চাচাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে। স্থানীয় মাতব্বররা এ ঘটনায় বিচার-সালিশ করে স্কুলছাত্রীর পরিবারকে ৩০ হাজার টাকা প্রদানের রায় প্রদান করেছেন বলে জানা গেছে। তবে এ রায় প্রত্যাখান করে ওই স্কুলছাত্রী বাদী হয়ে সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে অভিযুক্ত মোর্শেদ মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য নবীগঞ্জ থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন। জানা যায়, উপজেলার কুর্শি ইউনিয়নের সমরগাঁও গ্রামের মৃত আপ্তাব মিয়ার ছেলে মোর্শেদ মিয়া দীর্ঘদিন ধরে তার স্কুলপড়ুয়া চাচাতো বোন সৈয়দ আজিজ হাবিব উচ্চবিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে ও বাড়িতে একা পেলে উত্যক্ত করে আসছিলেন। ঘটনাটি জানিয়ে ওই ছাত্রীর পরিবার মোর্শেদ মিয়ার বাড়ির লোকজনের নিকট বিচারপ্রার্থী হলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। মোর্শেদ কয়েকদিন আগে ওই মেয়ের বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারকে হুমকি দেন। গত ৭ সেপ্টেম্বর দুপুরে ওই স্কুলছাত্রীর পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে না থাকার সুযোগে মেয়েটিকে ঘরে একা পেয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন মোর্শেদ মিয়া। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে মোর্শেদ মেয়েটিকে আঘাত করেন। মেয়েটির চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। এছাড়া তার ভাই ও ভাবী বাড়িতে এসে ঘটনাটি দেখে মোর্শেদকে আটকের চেষ্টা করলে তিনি দৌড়ে পালিয়ে যান। পরে মেয়েটির স্বজনরা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করান। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বারসহ এলাকার মুরুব্বীরা বিষয়টি আপসে মীমাংসার উদ্যোগ নেন। মেয়ের অসহায় পরিবার ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় এতে সম্মতি দেয়। সালিশে ওই স্কুলছাত্রীর সম্মানের মূল্য ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করে রায় প্রদান করা হয়। ওই রায় প্রত্যাখান করে নির্যাতিত স্কুলছাত্রী ও তার পরিবার। অবশেষে ওই ছাত্রী বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে মোর্শেদ মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। এ ব্যাপারে সে বলে, ক্লাস সেভেনে পড়া অবস্থা থেকেই মোর্শেদ আমাকে উত্যক্ত করত। তার কারণে ঘর থেকে বের হতে পারতাম না। মোর্শেদের কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত সে আমার ইজ্জতের ওপর আঘাত করেছে। স্কুলছাত্রী আরও বলে, আমরা গরিব হতে পারি। কিন্তু টাকার বিনিময়ে ইজ্জত বিক্রি করতে পারি না। গ্রাম্য মাতব্বরগণ আমাকে ন্যায়বিচার দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। তারা পক্ষপাতিত্বের বিচার করায় আমি আইনের আশ্রয় নিয়েছি। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নাম না প্রকাশের শর্তে এক সালিশকারী বলেন, ঘটনাটি সত্য। তবে তাদের মধ্যে আত্মীয়তার বন্ধনের কারণে এমন সিদ্ধান্ত দিতে হয়েছে। এ বিষয়ে কথা বলতে মোর্শেদ মিয়ার মোবাইল নম্বরে কল করলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।





























