বিয়ের বাড়িতে শোকের মাতম
- Update Time : ০১:৫৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২১
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
ডেস্ক রিপোর্ট :: সবই ঠিক ছিলো। ভাগ্নে সুহেল আহমদের বরযাত্রায় অংশ নিতে রওনা হন মামা-খালাসহ স্বজনরা। সিলেট নগরীর কাজিটুলা থেকে আনুমানিক সকাল ১১ টায় দুটি মাইক্রোবাসে করে তাঁরা কুলাউড়ার ভাটেরা ইউনিয়নে আসেন। ভাগ্নের বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছে ছিলেনও। কিন্তু ঢাকা থেকে সিলেটগামী আন্ত:নগর পারাবত এক্সপ্রেসের সাথে ভাটেরার হোসেনপুর গ্রামে ধাক্কা লাগে একটি মাইক্রোবাসের। এ ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ যায় মাইক্রোবাসের দুই যাত্রীর। গুরুতর আহত হন ওই মাইক্রোবাসের আরও ৬ যাত্রীর। তবে দুর্ঘটনার সময় পালিয়ে যায় মাইক্রোবাসের চালক। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনাটি ঘটে রোববার দুপুর ১২ টা ২০ মিনিটে কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা রেলস্টেশন সংলগ্ন হোসেনপুর এলাকায়। আকস্মিক এই দুর্ঘটনায় বিয়ে বাড়িতে এখন শোকের মাতম বইছে। স্বজনদের আহাজারি আর আর্তনাদে ভারি হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাৎক্ষণিক আহতদের উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই নিহত হন ফরিদ আহমদ (৫০) ও তার শিশুপুত্র আশিক আহমদ লাবিব (৬)। আহতদের মধ্যে গুরুতর কামাল আহমদ (৪০) এর অবস্থা সংকটাপন্ন। তিনি আইসিইউতে আছেন বলে পারিবারিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। নিহতরা সিলেট নগরীর কাজিটুলার লোহাগড়ার বাসিন্দা। কুলাউড়া রেলওয়ে জংশনের সহকারি স্টেশন মাস্টার মুহিবুর রহমান জানান, বরমচাল স্টেশন থেকে পারাবত ট্রেনটি ১২ টা ৫ মিনিটে ছাড়ে। ভাটেরা স্টেশনের সম্মূখে ১২ টা ১৫ মিনিটে পৌঁছায়। দুর্ঘটনার ফলে প্রায় ২ ঘন্টা রেলযোগাযোগ বন্ধ ছিলো। বেলা ২ টা ১৫ মিনিটে রেলযোগাযোগ স্বাভাবিক হয়। ঘটনাস্থল থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে মাইক্রোবাসটিকে ধুমড়ে-মুছড়ে নিয়ে যায় ট্রেনটি।
স্থানীয় সুত্র ও ভাটেরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ এ কে এম নজরুল ইসলাম জানান, হোসেনপুর গ্রামের মৃত তোতা মিয়ার ছেলে সুহেল আহমদের বিয়েতে অংশ নিতে তারা আসেন। তাদের বহনকারী দুটি মাইক্রোবাসের মধ্যে প্রথম একটি মাইক্রোবাস রেললাইন অতিক্রম করে। অপর মাইক্রোবাসটি পারাপারের সময় রেললাইনে আটকে যায়। স্থানটিতে বড় বাঁক থাকার কারণে সচরাচর বিপরীত দিক থেকে আসা ট্রেন বা গাড়ি দেখা যায় না। সুহেলের আত্মীয় রুনেল জানান, ঘটনাস্থলেই সুহেলের মামা ফরিদ আহমদ ও মামাতো ভাই শিশুপুত্র আশিক আহমদ লাবিব মারা যান। আহতদের মধ্যে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন কামাল আহমদ (৪০), লিলি বেগম (৩৫), রিনু বেগম (২১), রুবি বেগমসহ (১১) ৬ জন। রুনেল আরো জানান, আমরা সবাই মিলে একই ইউনিয়নের ইসলামনগরে বরযাত্রী হিসেবে বাদ জোহর কনের বাড়িতে যাওয়ার কথা ছিলো। স্থানীয়রা জানান, ঘটনার সময় চালক ট্রেনের অবস্থান না বুঝেই গাড়িটি রেললাইন পারাপার করছিলেন। এবং ঘটনার পরপরই তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কুলাউড়া থানার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিনয় ভূষন রায় ও ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ইনচার্জ সুলেমান আহমদ জানান, নিহত ও আহতরা বিয়ে বাড়িতে যাচ্ছিলেন। ভাটেরার পুরানবাজার (হোসেনপুর) লেভেলক্রসিং অতিক্রম করার সময় আন্ত:নগর পারাবত এক্সপ্রেস রেললাইনে থাকা মাইক্রোবাসকে (নোহা) ধাক্কা দিয়ে অনেক দূর নিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলে ২ জন মারা যান। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা নিহত ও আহতদের উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে প্রেরণ করেছে। কুলাউড়া থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের থেকে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় দেড় ঘন্টা চেষ্টা চালায় এবং দুর্ঘটনা কবলিত মাইক্রোবাসটি উদ্ধার করলে ট্রেনটি নির্দিষ্ট গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।





























