জগন্নাথপুরে ওএমএস এর চাল বিক্রিকালে আটক, এলাকায় তোলপাড়!
- Update Time : ০৫:২২:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জুন ২০১৭
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
নিজস্ব প্রতিবেদক :: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে সরকারি ওএমএস এর চাল বিক্রিকালে আটকের ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। জানাগেছে, শনিবার দুপুরে জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়ন আ.লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং ওএমএস এর চাল বিক্রির ইউনিয়ন ডিলার ফখরুল হোসেনের লোক নামে পরিচিত লিখন মিয়া স্থানীয় কালিটেকি গ্রামের পরেশ নাথের স্ত্রী কমলা রাণী নাথের কাছে ৫০ কেজির এক বস্তা সরকারি ওএমএস এর চাল ১ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি করেন।
এ সময় চাল নিয়ে যাওয়ার পথে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কলকলিয়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য তারা মিয়া উক্ত চাল আটক করেন। তখন আ.লীগের সভাপতি ও ডিলার ফখরুল হোসেনের লোকজন এসে চালগুলো ছিনিয়ে নিতে চাইলে শুরু হয় হাতাহাতি ও টানাহেঁচরা। এ সময় ইউনিয়ন পরিষদের অন্যান্য ইউপি সদস্যরা এগিয়ে যান এবং উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) শামীম আল ইমরান ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন এবং অবৈধভাবে বিক্রি করা আটককৃত ওএমএস এর চাল জব্দ করেন।
এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য তারা মিয়া অভিযোগ করে বলেন, আমাদের কাছে খবর আছে বেশ কিছু দিন ধরে ডিলার ফখরুল হোসেন গাড়ি ভর্তি করে সরকারি ১৫ টাকা কেজি দরের ওএমএস এর চাল অতিরিক্ত মূল্যে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছেন। আমরা তা বিশ্বাস না করলেও হঠাৎ করে শনিবার দেখা যায় ডিলারের লোক লিখন মিয়া পরেশের স্ত্রীর কাছে সরকারি চাল বিক্রি করছে। তা দেখে আমি আটক করি।
পরে আমার কাছ থেকে চাল ছিনিয়ে নিতে ফখরুলের অনেক লোক আসে এবং টানাহেঁচরা করে। অন্যান্য ইউপি সদস্যরা এসে সহযোগিতা করায় তারা চাল ছিনিয়ে নিতে পারেনি। অবশেষে জগন্নাথপুর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) এসে উপস্থিত লোকজনকে ঘটনার সত্যতা জিজ্ঞাসাবাদ করে চালগুলো জব্ধ করে নিয়ে যান। এছাড়া ডিলার ফখরুল হোসেনের বিরুদ্ধে গত বৃহস্পতিবারে উত্তোলনকৃত ২ টনের মধ্যে ১ টন চাল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। সেই সাথে উপজেলার কমবেশি সকল ডিলারের বিরুদ্ধে এভাবে চাল বিক্রি করার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ডিলার ফখরুল হোসেন বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সঠিক নয়। আমি কোন চাল বিক্রি করিনি। লিখন মিয়া ৫ কেজি করে চাল নিয়ে জমা করে বিক্রি করেছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন লিখন আমার কেউ নয় এবং আমার স্টকে কোন প্রকার চাল নেই।
জানতে চাইলে জগন্নাথপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা ধীরাজ নন্দী জানান, গত বৃহস্পতিবার সকল ডিলারকে ২৩ ও ২৮ জুন বিতরণ করার জন্য ২ টন করে চাল দেয়া হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, কোন ডিলার যদি চাল বিক্রি করে থাকে, তা হলে ২৮ জুন কোথা থেকে এনে মানুষকে চাল দেয় আমরা দেখবো। এ ব্যাপারে জগন্নাথপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামীম আল ইমরান জানান, এ ঘটনায় তদন্তক্রমে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এতে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।



























