সিলেটে এসআই আকবরই রায়হানের হত্যাকারী, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের দাবি
- Update Time : ০৩:৪৯:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২০
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: ৭২ ঘণ্টার মধ্যে রায়হান উদ্দিনের হত্যাকারী বরখাস্ত হওয়া উপ-পরিদর্শক (এসআই) আকবরসহ জড়িত পুলিশ সদস্যদের গ্রেফতারের দাবিতে আলটিমেটাম দিয়েছে সিলেট নগরীর বৃহত্তর আখালিয়াবাসী।বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেফতার না করা হলে এলাকাবাসীর উদ্যোগে হরতাল, সড়ক অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে নিহত রায়হানের বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন তার মা সালমা বেগম। তিনি বলেন, আমার ছেলে কোনো দল করতো না। তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমার একটাই দাবি, আমার ছেলের হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পড়ে শোনান নিহত রায়হানের মায়ের মামা শওকত হোসেন।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, রায়হান একটি ডাক্তারের চেম্বারে কাজ করতো। কে বা কারা তাকে বন্দরবাজার ফাঁড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে নির্যাতন করা হয়। ভোরে তৌহিদের মোবাইল থেকে রায়হান ফোন করে বলে তাকে বাঁচাতে। তিনি জানায় ১০ হাজার টাকা নিয়ে থানায় যেতে। ভোরে বন্দরবাজার ফাঁড়িতে গেলে রায়হানের চাচাকে দেখা করতে না দিয়ে সকালে আসতে বলেন। সকালে গেলে রায়হানের শরীর খারাপ করেছে এবং মেডিক্যাল যেতে বলে। হাসপাতালে সকাল ৭টা ৫০মিনিটে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা দিতে গেলে পুলিশ মামলা নিতে গড়িমিস করে।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, পরে উপ পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) গেলে আমরা আশাবাদী হলেও এখন মামলার ভবিষ্যত অন্ধকার দেখতে পাচ্ছি। তাই তাদের আইনের আওতায় না আনলে কঠোর আন্দোলনে নামবো আমরা।
রায়হানের মা আরও বলেন, ১০ হাজার টাকা জন্য আমার ছেলেকে হত্যা করা হবে, এটা আমি বিশ্বাস করি না। নিশ্চয়ই আরও বড় কোনো গ্যাং জড়িত রয়েছে। ১০ হাজার কেন ৫০ হাজার টাকা চাইলেও আমি দিয়ে দিতাম।
তিনি বলেন, ক্ষতিপূরণ বলতে আমি একটাই চাচ্ছি আমার ছেলের হত্যাকারীদের প্রকাশ্যে ফাঁসি দেওয়া হোক। কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিলেও আমার ছেলেকে ফিরে পাবো না। ক্ষতিপূরণ একটাই আমার, ছেলে হত্যার ফাঁসি চাই।
সিলেটে কর্মরত ইলেক্ট্রনিক, প্রিন্ট ও অনলাইন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, রায়হান আহমদ হত্যায় জড়িতদের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করা হলে পরিবার এবং এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে হরতাল ও সড়ক অবরোধসহ দুর্বার আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে।
একই সাথে এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ৬ দফা দাবিও জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে নিহত রায়হানের মা সালমা বেগমের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রায়হানের মামাতো ভাই ও স্থানীয় মুরুব্বি শওকত।
দাবিগুলো হচ্ছে-
১. রায়হান হত্যাকাণ্ডে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি,
২. রায়হান হত্যায় জড়িত পুলিশের উপ পরিদর্শক (এসআই) আকবর ভূঁইয়াসহ দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার, ৩.পলাতক এসআই আকবর ভূঁইয়াকে গ্রেফতারে আইজিপির নির্দেশ,
৪.পুলিশ কমিশনারের পক্ষ থেকে পুর্ণাঙ্গ বক্তব্য,
৫.নিহতের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন ও ৬. ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জড়িতদের গ্রেফতার না করলে হরতাল-সড়ক অবরোধসহ বৃহত্তর আন্দোলন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনকি সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, ৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মখলিছুর রহমান কামরান ও ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, ১০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর তারেক উদ্দিন তাজ, ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইলিয়াসুর রহমান, কাউন্সিলর তৌফিক বক্স লিপন, নারী কাউন্সিলর রেবেকা বেগম, সাবেক কমিশনার জগদীশ দাশ ও রায়হানের চাচা হাবিবুল্লাহসহ এলাকার মুরব্বিয়ানরা।
উল্লেখ্য, গত রোববার (১১ অক্টোবর) রায়হান উদ্দিন নিহত হন। রায়হান উদ্দিন সিলেট নগরীর আখালিয়ার নেহারিপাড়ার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে। তাঁর তিন মাসের এক মেয়ে রয়েছে। তিনি নগরীর রিকাবিবাজার স্টেডিয়াম মার্কেটে এক চিকিৎসকের চেম্বারে কাজ করতেন।





























