হবিগঞ্জে স্ত্রীর কথায় প্রেমিকাকে খুন
- Update Time : ০৩:১৮:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২০
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
ডেস্ক: রিপোর্ট :: বাসায় সাবলেট থাকা তরুণীর সাথে পরকিয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন আফসার মিয়া কাওছার। কিন্তু বিষয়টি জেনে ফেলন কাওছারের স্ত্রী রিপা বেগম। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে চরম বিরোধ দেখা দেয়। প্রতিদিনই এ ব্যাপারে তাদের ঝগড়া হত। এক পর্যায়ে রিপা স্বামীর সাথে অভিমান করে বাবার বাড়ি চলে আসেন।
কয়েকদির পর কাওছার তার স্ত্রীকে বাসায় ফিরিয়ে নিতে চাইলে রিপা বেগম তার স্বামীকে পরকিয়া প্রেমিকা মিষ্টিকে জীবন থেকে সরিয়ে নিতে হবে বলে জানায়। এক পর্যায়ে দু’জন পরিকল্পনা করে মিষ্টিকে মৌলভীবাজার থেকে চুনারুঘাট নিয়ে আসেন এবং পরিকল্পা অনুযায়ী রাতের আধারে যোগী টিলায় নিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।
হত্যাকাণ্ডের ৭ মাস পর এমত চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, গত ৭ ফেব্রুয়ারি চুনারুঘাট উপজেলার যোগীর আসন টিলা থেকে অজ্ঞাত এক তরুণীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে পরিচয় শনাক্তসহ ঘটনা তদন্তে নামে পুলিশের একটি চৌকশ টিম। দীর্ঘ তদন্ত শেষে এ হত্যাকান্ডে বেড়িয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। উদঘাটন করা হয়েছে নিহত তরুণীর পরিচয়। নিহত তরুণী রোকশানা আক্তার মিষ্টি নোয়াখালী জেলার চাটখিল থানার কামালপুর গ্রামের মৃত খোরশেদ আলী মজুমদারের কন্যা।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, নিহত মিষ্টি মৌলভীবাজার শহরে একটি বেসরকারী কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করত। হত্যাকান্ডের প্রায় এক মাস আগে ঘটনাচক্রে আসামী রিপার সাথে ভিকটিমের পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে বাসা ভাড়া নিয়ে কথবার্তা হয়। এক পর্যায়ে রিপা মিষ্টিকে তাদের বাসায় সাবলেট হিসেবে থাকার প্রস্তাব দেয়। এতে রাজি হয় মিষ্টি। পরে মিষ্টি মৌলভীবাজার শহরের দূর্গা মহল্লার রিপার ভাড়া বাসায় উঠে। এক পর্যায়ে মিষ্টির সাথে পরিচয় রিপার স্বামী কাওছারের। পরে তাদের মধ্যে গড়ে উঠে প্রেমের সম্পর্ক।
সেই সম্পর্ক গড়ায় শারীরিক সম্পর্কে। বিষয়টি বুঝতে পেরে রিপা তার স্বামীর সাথে ঝগড়া করে তার বাবার বাড়ি শহরতলীর ধুলিয়াখাল এলাকায় চলে যায়। এর একদিন পর কাওছার তার স্ত্রীকে অনুরোধ করে তাদের বাসায় যেতে বলে। এসময় রিপা মিষ্টিকে তার জীবন থেকে না সরালে যাবে বলে জানায়। এক পর্যায়ে দু’জন পরিকল্পনা করে মিষ্টিকে চুনারুঘাট নিয়ে আসে এবং পরিকল্পা অনুযায়ী রাতের আধারে যোগী টিলায় নিয়ে যায়। সেখানে কাওছার আবারও তাকে ধর্ষণ করে এবং শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে তারা মৃত্যু নিশ্চিত করে মৌলভীবাজার চলে যায়।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, গ্রেফতারকৃতরা ওই তরুণী হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। ঘাতক স্বামী স্ত্রীকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। আর কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।





























