বয়স্কভাতার কথা বলে টিপসই, পরে বৃদ্ধ জানলেন বিক্রি হয়ে গেছে জমি
- Update Time : ০৫:৩৫:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
- / ৬ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
ডেস্ক রিপোর্ট :: সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ৮৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের জমি প্রতারণার মাধ্যমে লিখে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাবেক এক ইউপি সদস্য ও তার দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে। বয়স্কভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে কাগজে টিপসই নিয়ে ১৪ শতক ফসলি জমি নিজেদের নামে রেজিস্ট্রি করে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। গত ৪ অক্টোবর উপজেলার কয়ড়া ইউনিয়নের বাঘলপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্য আবুল কালাম আজাদ অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, নগদ টাকা দিয়ে জমি কিনেছেন তারা তিন ভাই। ভুক্তভোগী আজিজুল হকের অভিযোগ, বয়স্কভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে তাকে একটি বাড়িতে নিয়ে কয়েকটি কাগজে টিপসই নেন আবুল কালাম আজাদ। এ সময় তার সঙ্গে আরও দু-একজন ছিলেন। টিপসই নেওয়ার পর বয়স্কভাতার টাকা হিসেবে ২০, ৫০ ও ১০০ টাকার নোট মিলিয়ে মোট ৫ হাজার টাকা দেওয়া হয় তাকে। দলিলের নকল ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিস সূত্রে জানা গেছে, কয়ড়া ইউনিয়নের বাঘলপুর মৌজার আরএস ২২১ নম্বর দাগে থাকা ১৪ শতক ফসলি জমি ৫ লাখ ৭১ হাজার টাকা মূল্য দেখিয়ে গত ৪ অক্টোবর রেজিস্ট্রি করা হয়। আজিজুল হক অসুস্থ এমন কারণ দেখিয়ে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের পরিবর্তে উল্লাপাড়া পৌর শহরের ঝিকিড়া মহল্লার একটি বাড়িতে কমিশনের মাধ্যমে দলিল সম্পাদন করা হয়।
দলিলগ্রহীতারা হলেন একই গ্রামের মৃত ময়নাল সরকারের ছেলে সাবেক ইউপি সদস্য আবুল কালাম আজাদ এবং তার দুই ভাই শাহ আলম ও শাহাদাৎ হোসেন। জমির মালিক আজিজুল হক একই গ্রামের মৃত মফিজ সরকারের ছেলে। আজিজুলের পরিবারের দাবি, তিনি মানসিক অসুস্থতায় ভুগছেন। তাকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। এ ছাড়া তিনি চোখেও দেখেন না। আজিজুলের ছেলে ফারুক সরকার বলেন, ‘আমার বাবা মানসিক অসুস্থ। বয়স্কভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে আবুল কালাম ও তার দুই ভাই কৌশলে বাবার ১৪ শতক জমি লিখে নিয়েছেন।’ তিনি দলিল বাতিলের পাশাপাশি ঘটনার তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আবুল কালাম আজাদ। দেশের এক গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, বয়স্কভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে নয়, আজিজুল হকের হাতে নগদ ৭ লাখ টাকা দিয়ে তারা তিন ভাই জমিটি কিনেছেন। কোনো অবৈধ পদ্ধতি বা জালিয়াতি করা হয়নি, সরকারি বিধিবিধান মেনেই জমি নেওয়া হয়েছে। দলিল লেখক আব্দুল মতিন বলেন, আবুল কালাম জমির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং দাতা ও গ্রহীতাদের ছবি দিয়ে দলিল তৈরি করতে বলেছিলেন। সে অনুযায়ী কমিশনের মাধ্যমে একটি বাড়িতে দলিল সম্পাদন করা হয়। পরে তিনি জানতে পারেন, কৌশল ও প্রতারণার মাধ্যমে জমিদাতার কাছ থেকে জমি লিখে নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে সাব-রেজিস্ট্রার ফারহানা আজিজ বলেন, আজিজুল হকের শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে গ্রহীতারা কমিশনের মাধ্যমে বাড়িতে দলিল সম্পাদনের আবেদন করেছিলেন। আবেদন মঞ্জুরের পর তার প্রতিনিধি আবদুল্লাহ আল নাঈমকে সেখানে পাঠানো হয়। পরে অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি জানতে পারেন তিনি। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় দলিল লেখককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ে জবাব না দেওয়ায় তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




























