আজ, , ২৩শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

সংবাদ শিরোনাম :
«» জগন্নাথপুরে ছাত্রলীগ থেকে যারা পদত্যাগ করলেন «» শান্তিগঞ্জে কোটা সংস্কার আন্দোলনে উত্তাল রাজপথ, ঘন্টাব্যাপী সড়ক যোগাযোগ বন্ধ «» ইউপি চেয়ারম্যান আমির হোসেন রেজার প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করলেন পরিষদের ১১ মেম্বার «» সুনামগঞ্জে কোটা সংস্কারের সমর্থনে বিক্ষোভ, গ্রেফতার ১ «» সিলেটে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত «» জগন্নাথপুরে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার «» ছাত্রলীগ- পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষে নিহত- ৫, আহত কয়েকশ «» সিলেটে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা ওসমানী মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থীদের «» শান্তিগঞ্জে ব্যবসায়ীর ওপর দুর্বৃত্তের হামলা, টাকা-মোবাইল লুট «» ফেসবুকে নিজের লাশের ব্যাপারে যা বলেছিলেন আবু সাঈদ





কেন বারবার ডুবছে সিলেট-সুনামগঞ্জ

ডেস্ক রিপোর্ট :: দেশজুড়ে ঈদুল আজহার আমেজ থাকলেও আনন্দ বঞ্চিত সিলেট ও সুনামগঞ্জের লাখ লাখ মানুষ। আকস্মিক বন্যায় তলিয়ে গেছে সুনামগঞ্জ জেলার সিংহভাগ এলাকা। একইভাবে সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকার বেশীরভাগ অংশই পানির নিচে তলিয়ে গেছে, পানির নিচে আছে জেলার নিম্নাঞ্চল হিসেবে পরিচিত উপজেলাগুলো। ফলে এই দুই জেলার মানুষের মধ্যে ঈদের আনন্দের পরিবর্তে জায়গা করে নিয়েছে আতঙ্ক।

দুই বছর আগে ২০২২ সালে সিলেট ও সুনামগঞ্জের মানুষ মুখোমুখী হয়েছিল শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যায়। দুই বছর পর ঠিক একইসময়ে আরেকটি ভয়াবহ বন্যার মুখোমুখী তারা। জেলার অধিকাংশ উপজেলা এখন পানির নিচে তলিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রতিনিধিরা।

 

সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এই দুই জেলা এখন বছরে ৪-৫ বার ছোট বড় বন্যার মুখোমুখি হয়। বন্যার কারণ হিসেবে তারা বলছেন অতিবৃষ্টি, নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে পানি বহনের ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যাওয়া, অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও সড়ক নির্মাণ, পাথর উত্তোলন বন্ধ , বন্যা প্রতিরোধ বাঁধে পানি উন্নয়ন কর্তাদের লুটপাট ও অনিয়ম।

 

সুনামগঞ্জ ৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুহিবুর রহমান মানিক মঙ্গলবার সকাল থেকে বের হয়েছেন বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শনে। তিনি বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকা ছাতক ও দোয়ারা বাজার এই দুই এলাকার শতভাগ মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত। বন্যায় বাড়িঘর ডুবে গেছে, সড়ক তলিয়ে গেছে ফলে মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা বন্ধ হয়ে গেছে অনেক এলাকায়। আমরা বন্যায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষদের উদ্ধার করে আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে নিয়ে যাচ্ছি। ত্রাণ বিতরণ শুরু করেছি। আমার এলাকার মানুষের মধ্যে ঈদের আনন্দের জায়গায় এখন বন্যার শঙ্কা বিরাজ করছে।

 

কেন বারবার বন্যায় ডুবছে সুনামগঞ্জ এমন প্রশ্নের জবাবে বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদ বলেন, পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি প্রবণ এলাকা হচ্ছে ভারতের চেরাপুঞ্জি। চেরাপুঞ্জি এলাকার নিকটবর্তী হওয়ার কারণে এখানে সহজে বন্যা সৃষ্টি হয়। তবে শুধু এই কারণেই যে বারবার বন্যা হচ্ছে এমন নয় সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে, একই অবস্থা অন্যান্য নদীর ক্ষেত্রেও। ফলে উজান থেকে নেমে আসা পানিতে নদীর দুই পাড় সহজে ভরে গিয়ে বন্যা সৃষ্টি করছে। বারবার আমি এ বিষয়ে কথা বলছি কিন্তু নদী খননের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। সুরমা কুশিয়ারায় প্রতিবছর অল্প অল্প করে খনন করা হয় ফলে যেটুকু খনন করা হয় তা আবার পলিমাটি এসে ভরাট করে দিয়ে যায়। এভাবে নদী খনন করলে অর্থের অপচয় হলেও কোনো লাভ হবে না। একটা মাস্টার প্ল্যান নিয়ে নদী খননের কাজ না করলে সিলেট ও সুনামগঞ্জকে বন্যার হাত থেকে রক্ষা করা যাবে না। সিলেট শহর তো একদম সুরমা নদীর নিকটবর্তী। এ নিয়ে আমাদের সুপরিকল্পিত প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে।

সুনামগঞ্জকে হাওড় এলাকা উল্লেখ করে ৫ বারের এই সংসদ সদস্য বলেন, জেলার সব হাওড় ও বিলের তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে। নদীর পানি উঠে আসলে এই পানি ধারণ করার জায়গা নেই। ফলে অল্প বৃষ্টিই বন্যা সৃষ্টি করে।

সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে দেশের দীর্ঘতম সুরমা নদী। এই নদী এক সময় এই দুই জেলার জন্য আশীর্বাদ হলেও এখন অভিশাপে পরিণত হয়েছে। বছরের শুকনো মৌসুমে নদীর বেশীরভাগ জায়গায় পানি শুকিয়ে যায়, কোথাও কোথাও নদী গাঙ্গে পরিণত হয়েছে। আবার বর্ষা মৌসুমে ভারত থেকে আসা উজানের ঢলে নদীর দুই পাড় উপচে পড়ে দেখা দেয় বন্যা।

 

সরকারের সাবেক পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নানের নির্বাচনী এলাকা জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ উপজেলায় ও দেখা দিয়েছে বন্যা। কেন বারবার বন্যা দেখা দিচ্ছে এ নিয়ে আলাপকালে সাবেক এই মন্ত্রী তুলে ধরেছেন তার দীর্ঘ পর্যবেক্ষণ পাশাপাশি তিনি কিছু সুপারিশ ও তুলে ধরেছেন। সাবেক পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, একসঙ্গে হঠাৎ ভারত ও আমাদের অংশে বৃষ্টি হলে যেহেতু আমরা নিম্নাঞ্চলে তাই বন্যায় আমরাই ক্ষতিগ্রস্ত হই। আমাদের নদী নালা খনন করে তার ক্যাপাসিটি বাড়ানো আশু কর্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু নদী নালা খাল ভরাটের কাজ হচ্ছে না যা দুঃখজনক। আমরা হাওড় এলাকায় প্রচুর উন্নয়ন কাজ করেছি, সড়ক নির্মান করেছি এটা কতটা বৈজ্ঞানিক উপায়ে হয়েছে এবং এর ফলে পানির প্রবাহে কতটা বাঁধা পাচ্ছে তা নিয়েও ভাবতে হবে। সরকার ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাওড় এলাকায় নতুন করে বড় সড়ক নির্মাণ না করার।

বন্যা প্রতিরোধে কিছু পরামর্শও দেন সাবেক এই মন্ত্রী। তিনি বলেন, আমি মনে করি নতুন করে এসব এলাকায় যত রাস্তাঘাট নির্মাণ করব সেখানে প্রচুর কালভার্ট রাখতে হবে। হাওড় এলাকায় বড় সড়ক নির্মাণ না করার যে সিদ্ধান্ত সরকার প্রধান নিয়েছেন তা বাস্তবায়ন করতে হবে। সুরমা ও কুশিয়ারা নদী দুটিকে খুব জরুরি ভিত্তিতে খনন করতে হবে। প্রাকৃতিক কারণে যে বন্যা হয় তা আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারব না কিন্তু আমাদের তৎপর হতে হবে মানবসৃষ্ট কারণে যেন বন্যা না হয়।

ইটনা-মিঠামইনে যে বড় সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে সুনামগঞ্জের চলমান বন্যার জন্য তাকে দায়ী করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই পোস্ট করছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে এম এ মান্নান বলেন, আমি এভাবে সরলীকরণ করতে রাজি নই। সুনামগঞ্জ থেকে মিঠামইনের দূরত্ব কিন্তু অনেক দূর। বন্যার পানি এখান থেকে মিঠামইন পর্যন্ত যেতে হলেও কিন্তু ২ দিন লেগে যেতে পারে। ফলে না বুঝেই এটা বলা ঠিক হবে না। তবে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে হাওড় এলাকায় উঁচু রাস্তা নির্মাণ করলে পানির প্রবাহে বাঁধা সৃষ্টি হয়। এখন সেটা সুনামগঞ্জেই হোক কিংবা মিঠামইনে হোক। আমি যখন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে ছিলাম একনেকে এ বিষয়ে বিস্তর আলোচনা হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন হাওড় এলাকায় বড় সড়ক নির্মাণ না করতে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ