ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১২ বসতঘর পুড়ে ছাই, ক্ষতি অর্ধকোটি টাকা
- Update Time : ০৪:০৬:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
- / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
ডেস্ক রিপোর্ট :: সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার সরমঙ্গল ইউনিয়নের জারলিয়া গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১২টি পরিবারের বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনে ঘরবাড়ির পাশাপাশি ধান, হাঁস-মুরগি, স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা, আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়সহ প্রয়োজনীয় মালামাল পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। সোমবার (২ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার জারলিয়া গ্রামে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হঠাৎ একটি বসতঘরে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন আশপাশের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকলে স্থানীয় বাসিন্দারা তা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। কিন্তু আগুনের ভয়াবহতায় একের পর এক বসতঘর পুড়ে যায়। এতে ১২টি পরিবারের ঘরবাড়ি ও ঘরে থাকা মূল্যবান মালামাল রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। সরেজমিনে দেখা যায়, অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়া ঘরগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। কোথাও পড়ে আছে পোড়া টিন ও কাঠের অংশ, কোথাও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে পুড়ে যাওয়া আসবাবপত্র ও ঘরের ব্যবহার্য জিনিসপত্র। আগুনে পরিবারের সঞ্চিত ধান, হাঁস-মুরগি, স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা, কাপড়চোপড়সহ প্রয়োজনীয় সবকিছু পুড়ে গেছে। মুহূর্তের আগুনে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন পরিবারগুলোর সদস্যরা। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ১২ পরিবারের সদস্যরা হলেন—সুম লাল, অমিত লাল, কালি চরন, মেতিলাল, জিনেস, হরিমল, রামাকান্ত, সুবল, গরমহন, দিরেন্দ্র, পমত ও খুশি লাল।
এদিকে দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থার কারণে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস। দিরাই ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা শিশির দাস জানান, রাস্তার সমস্যার কারণে তাঁদের পক্ষে ঘটনাস্থলে যাওয়া সম্ভব হয়নি। গ্রামে যেতে নদীর পাড় অতিক্রম করতে হয়। ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি নিয়ে সেখানে পৌঁছানোর চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি। দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, তিনি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা শুনেছেন। বর্তমানে তিনি সিলেটে অবস্থান করছেন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো জানা যায়নি। তাঁর ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। যোগাযোগব্যবস্থার সমস্যার কারণে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি। এ সময় গ্রামের লোকজন আগুন নেভানোর কাজে সহযোগিতা করেছেন।
দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সঞ্জীব সরকার জানান, তিনি ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সরকারি অনুদানের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডে বসতঘর ও সহায়-সম্বল হারিয়ে পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগে পড়েছে। অনেক পরিবারের মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও অবশিষ্ট নেই। রাতারাতি সবকিছু হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর পরিস্থিতিতে পড়েছেন তাঁরা। নতুন করে ঘর নির্মাণ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা এখন এসব পরিবারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। প্রাথমিক হিসাবে অগ্নিকাণ্ডে ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দুর্দশা লাঘবে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

























