০৭:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাজ শেষ না করলে বিল নয়: টিআর-কাবিখার দুর্নীতি ঠেকাতে এমপি নাছির চৌধুরীর কঠোর নির্দেশনা

  • Update Time : ০৬:৩৯:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
  • / ২ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট :: কাজের শতভাগ বাস্তবায়ন নিশ্চিত না করে কোনো প্রকল্পের বিল পরিশোধ করা যাবে না, এমন কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নাছির চৌধুরী। তাঁর এই নির্দেশনার ফলে টেস্ট রিলিফ (টিআর), কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) ও কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) কর্মসূচির প্রকল্প বাস্তবায়নে জোরদার হয়েছে তদারকি। কাজ শেষ না করায় কয়েকটি প্রকল্পের দ্বিতীয় কিস্তির বিল আটকে রয়েছে। এমপির নির্দেশনা বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে প্রকল্পগুলোর কার্যক্রম তদারকি করছেন তাঁর ব্যক্তিগত সচিব রুদ্র মিজান। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্পের কাজ সরেজমিনে যাচাই এবং বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিশ্চিত হওয়ার পরই বিল পরিশোধের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে দিরাই উপজেলায় ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৮০টি টেস্ট রিলিফ (টিআর) প্রকল্প এবং ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৬টি কাবিটা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৩৪ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য (চাল ও গম) বরাদ্দের বিপরীতে ১৬টি কাবিখা প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে তিন কর্মসূচির আওতায় অনুমোদিত প্রকল্পের সংখ্যা ১২২টি। প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্র জানায়, অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর বেশির ভাগের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া ও স্থানীয় ভৌগোলিক পরিস্থিতির কারণে কয়েকটি প্রকল্প এলাকায় কাজ করা সাময়িকভাবে কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সদস্যরা এখনো কিছু প্রকল্পের কাজ শুরু বা শেষ করতে পারেননি। পরিস্থিতি অনুকূলে এলে বাকি কাজগুলোও নিয়ম অনুযায়ী সম্পন্ন করা হবে।

এদিকে এমপির এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, অতীতে কিছু ক্ষেত্রে প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন না করেই বিল উত্তোলনের অভিযোগ ছিল। এবার কাজের বাস্তব অগ্রগতি নিশ্চিত না করে বিল না দেওয়ার নির্দেশনায় সরকারি অর্থের অপচয় রোধ এবং উন্নয়নকাজের মান বজায় রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। দিরাই উপজেলার জগদল গ্রামের বাসিন্দা জিতু হাসান বলেন, আগে দেখতাম, কাগজে-কলমে কাজ দেখিয়ে একশ্রেণির মানুষ টাকা তুলে নিয়ে যেতেন। নাছির চৌধুরী এমপি হওয়ার পর তিনি স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, কাজ না করলে কোনো বিল দেওয়া হবে না। তাঁর এই সততা ও কঠোর অবস্থানকে আমরা সাধুবাদ জানাই। সরজমিনে দেখা গেছে, কোনো কোনো প্রকল্পে বরাদ্দের চেয়ে বেশি টাকা ব্যয় করে কাজ হয়েছে৷ জনস্বার্থে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা তা করেছেন। এরমধ্যে জগদল ও চন্ডিপুরের দুটি প্রকল্প উল্লেখযোগ্য। দিরাই পৌরসভার হারানপুর এলাকার এক বাসিন্দা শিপু বলেন, আমাদের পৌর এলাকায় এবার উন্নয়নকাজের মান ভালো হচ্ছে। ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ নেই। এমপি সাহেব নিজে কাজের খোঁজখবর নিচ্ছেন। কাজ যথাযথভাবে না হলে বিল আটকে দেওয়া হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ সন্তুষ্ট।

সংসদ সদস্য নাছির চৌধুরীর ব্যক্তিগত সচিব রুদ্র মিজান বলেন, মাননীয় সংসদ সদস্য এলাকার উন্নয়নে বরাদ্দের প্রতিটি টাকার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে চান। জনগণের অর্থের কোনো অপচয় বা অনিয়ম তিনি বরদাশত করবেন না। এ লক্ষ্যেই আমরা নিয়মিত প্রকল্পগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করছি। কাজের মান ও বাস্তব অগ্রগতি যাচাই করেই বিল পরিশোধের বিষয়টি নিশ্চিত করা হচ্ছে। কেউ কাজ না করালে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মির্জা আবু সাইদ বলেন, চলতি অর্থবছরে বেশ কিছু প্রকল্পের কাজ নিয়ম অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে। তবে নিচু এলাকা ও প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে কয়েকটি প্রকল্পের কাজ সাময়িকভাবে আটকে আছে। সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলো কাজের উপযোগী হলে পিআইসি কমিটির মাধ্যমে দ্রুত কাজ শেষ করা হবে। প্রকল্পের কাজ সরেজমিনে যাচাই ও যথাযথভাবে বুঝে নেওয়ার পরই চূড়ান্ত বিল দেওয়া হচ্ছে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

কাজ শেষ না করলে বিল নয়: টিআর-কাবিখার দুর্নীতি ঠেকাতে এমপি নাছির চৌধুরীর কঠোর নির্দেশনা

Update Time : ০৬:৩৯:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট :: কাজের শতভাগ বাস্তবায়ন নিশ্চিত না করে কোনো প্রকল্পের বিল পরিশোধ করা যাবে না, এমন কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নাছির চৌধুরী। তাঁর এই নির্দেশনার ফলে টেস্ট রিলিফ (টিআর), কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) ও কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) কর্মসূচির প্রকল্প বাস্তবায়নে জোরদার হয়েছে তদারকি। কাজ শেষ না করায় কয়েকটি প্রকল্পের দ্বিতীয় কিস্তির বিল আটকে রয়েছে। এমপির নির্দেশনা বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে প্রকল্পগুলোর কার্যক্রম তদারকি করছেন তাঁর ব্যক্তিগত সচিব রুদ্র মিজান। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্পের কাজ সরেজমিনে যাচাই এবং বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিশ্চিত হওয়ার পরই বিল পরিশোধের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে দিরাই উপজেলায় ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৮০টি টেস্ট রিলিফ (টিআর) প্রকল্প এবং ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৬টি কাবিটা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৩৪ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য (চাল ও গম) বরাদ্দের বিপরীতে ১৬টি কাবিখা প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে তিন কর্মসূচির আওতায় অনুমোদিত প্রকল্পের সংখ্যা ১২২টি। প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্র জানায়, অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর বেশির ভাগের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া ও স্থানীয় ভৌগোলিক পরিস্থিতির কারণে কয়েকটি প্রকল্প এলাকায় কাজ করা সাময়িকভাবে কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সদস্যরা এখনো কিছু প্রকল্পের কাজ শুরু বা শেষ করতে পারেননি। পরিস্থিতি অনুকূলে এলে বাকি কাজগুলোও নিয়ম অনুযায়ী সম্পন্ন করা হবে।

এদিকে এমপির এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, অতীতে কিছু ক্ষেত্রে প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন না করেই বিল উত্তোলনের অভিযোগ ছিল। এবার কাজের বাস্তব অগ্রগতি নিশ্চিত না করে বিল না দেওয়ার নির্দেশনায় সরকারি অর্থের অপচয় রোধ এবং উন্নয়নকাজের মান বজায় রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। দিরাই উপজেলার জগদল গ্রামের বাসিন্দা জিতু হাসান বলেন, আগে দেখতাম, কাগজে-কলমে কাজ দেখিয়ে একশ্রেণির মানুষ টাকা তুলে নিয়ে যেতেন। নাছির চৌধুরী এমপি হওয়ার পর তিনি স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, কাজ না করলে কোনো বিল দেওয়া হবে না। তাঁর এই সততা ও কঠোর অবস্থানকে আমরা সাধুবাদ জানাই। সরজমিনে দেখা গেছে, কোনো কোনো প্রকল্পে বরাদ্দের চেয়ে বেশি টাকা ব্যয় করে কাজ হয়েছে৷ জনস্বার্থে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা তা করেছেন। এরমধ্যে জগদল ও চন্ডিপুরের দুটি প্রকল্প উল্লেখযোগ্য। দিরাই পৌরসভার হারানপুর এলাকার এক বাসিন্দা শিপু বলেন, আমাদের পৌর এলাকায় এবার উন্নয়নকাজের মান ভালো হচ্ছে। ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ নেই। এমপি সাহেব নিজে কাজের খোঁজখবর নিচ্ছেন। কাজ যথাযথভাবে না হলে বিল আটকে দেওয়া হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ সন্তুষ্ট।

সংসদ সদস্য নাছির চৌধুরীর ব্যক্তিগত সচিব রুদ্র মিজান বলেন, মাননীয় সংসদ সদস্য এলাকার উন্নয়নে বরাদ্দের প্রতিটি টাকার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে চান। জনগণের অর্থের কোনো অপচয় বা অনিয়ম তিনি বরদাশত করবেন না। এ লক্ষ্যেই আমরা নিয়মিত প্রকল্পগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করছি। কাজের মান ও বাস্তব অগ্রগতি যাচাই করেই বিল পরিশোধের বিষয়টি নিশ্চিত করা হচ্ছে। কেউ কাজ না করালে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মির্জা আবু সাইদ বলেন, চলতি অর্থবছরে বেশ কিছু প্রকল্পের কাজ নিয়ম অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে। তবে নিচু এলাকা ও প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে কয়েকটি প্রকল্পের কাজ সাময়িকভাবে আটকে আছে। সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলো কাজের উপযোগী হলে পিআইসি কমিটির মাধ্যমে দ্রুত কাজ শেষ করা হবে। প্রকল্পের কাজ সরেজমিনে যাচাই ও যথাযথভাবে বুঝে নেওয়ার পরই চূড়ান্ত বিল দেওয়া হচ্ছে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ