সৈয়দপুরবাসীর সিলেট মানববন্ধনে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হাফিজ সৈয়দ নাঈমের মামলার রায় পুনর্বিবেচনা ও ন্যায়বিচারের দাবি
- Update Time : ০৮:৫৫:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
- / ৬ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
ইয়াকুব মিয়া :: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হাফিজ সৈয়দ নাঈম আহমেদের মামলার রায় পুনর্বিবেচনা, ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ এবং তাঁর সাংবিধানিক ও আইনি অধিকার সুরক্ষার দাবিতে বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে সিলেট কোর্ট পয়েন্টে সিলেটে বসবাসরত সৈয়দপুরবাসীর উদ্যোগে গ্রামের বিশিষ্ট মুরুব্বি আলহাজ্ব ফজলুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সিলেট জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মাওলানা মুছাদ্দিক আহমদের পরিচালনায় বিশাল মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান, আইন ও বিচারব্যবস্থার প্রতি তাঁদের পূর্ণ শ্রদ্ধা ও আস্থা রয়েছে। তাঁরা আদালতের কোনো রায়ের অবমাননা নয়; বরং আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে মামলাটির সকল দিক উচ্চতর আদালতে যথাযথভাবে পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।
বক্তারা উল্লেখ করেন, ২০০৬ সালে গ্রেপ্তার হওয়ার পর হাফিজ সৈয়দ নাঈম আহমেদ প্রায় দুই দশক কারাবন্দী ছিলেন। পরবর্তীতে ২০২৬ সালে জামিনে মুক্তি লাভের পর ২৫ জুন মামলার হাজিরা দিতে গেলে একই মামলায় অভিযুক্ত ৯ জন জীবিত আসামির মধ্যে ৮ জন বেকসুর খালাস পেলেও একমাত্র হাফিজ সৈয়দ নাঈম আহমেদকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও ন্যায়বিচার নিয়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। বক্তারা আরও বলেন, মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ, সাক্ষীদের বক্তব্য এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে জনমনে যে প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে, তা নিরসনের স্বার্থে উচ্চতর আদালতে মামলার পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে তাঁরা হাফিজ সৈয়দ নাঈম আহমেদের আপিল, আত্মপক্ষ সমর্থন এবং সংবিধান ও আইন অনুযায়ী প্রাপ্য সকল অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। বক্তারা বলেন, তাঁদের একমাত্র প্রত্যাশা হলো-প্রকৃত সত্য উদঘাটনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হোক এবং কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন অন্যায়ভাবে শাস্তির শিকার না হন। বক্তারা বলেন, “আমরা প্রতিশোধ চাই না, আমরা ইনসাফ চাই। বিচারব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা অটুট রাখতে ন্যায়ভিত্তিক বিচার নিশ্চিত হওয়া সময়ের দাবি।”
মানববন্ধনে গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন, বিশিষ্ট মুরুব্বি মল্লিক খসরুজ্জামান, হাফিজ মাওলানা সৈয়দ শামিম আহমদ, সাবেক সংসদ সদস্য এডভোকেট মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী, কবি ও গবেষক সৈয়দ মবনু, সৈয়দ রেজাউল হক হুরেস, মাওলানা মাহমুদুল হাসান, মাওলানা আব্দুল মালেক চৌধুরী, আক্তারুজ্জামান তালুকদার, মাওলানা সৈয়দ ছলিম কাসেমী, মুফতি সৈয়দ শামীম, হাফিজ মাওলানা সৈয়দ আলমগীর গাজি প্রমূখ। এসময় সাবেক ইউপি সদস্য সৈয়দ কামাল মিয়া, মোঃ আব্দুল জলিল, সাবেক ইউপি সদস্য সৈয়দ ছয়ফুল মিয়া, সৈয়দ উমর মিয়া, সৈয়দ মারুফ, সৈয়দ আব্দুল কাইয়ুম ফটিক মিয়া, হাফিজ মাসুম, মাওলানা মুছান্না, মোঃ মিজান কোরেশী, মাওলানা শেখ বেলাল, হাফিজ সালেহ, হাজী জুনেদ, ডাঃ সৈয়দ মুমিন, মির্জা আবুল বরাত, সৈয়দ আবু বক্কর, সৈয়দ মুহাদ্দিস আহমদ, সৈয়দ আমীর আলী, সৈয়দ রোম্মান, সৈয়দ আবিদ সরদার, সৈয়দ রাকিব, মুফতি ফরহাদ কোরেশী, আছাদ কোরেশী, সৈয়দ আলীনুর, সৈয়দ আব্দুল কাদির, সৈয়দ আব্দুর রহিম, সৈয়দ আব্দুর কাহার, সৈয়দ আনিস, মাওলানা সৈয়দ আরসদ, মাওলানা জিয়া উদ্দিন, সৈয়দ আবু মুসা, সৈয়দ সালওয়ান, কাজি সৈয়দ জুনেদুর রহমান, সৈয়দ মাহফুজ, সৈয়দ সাইফ, সৈয়দ নাঈম, সৈয়দ নাসিম, মাওলানা সৈয়দ ইসমাঈল, সৈয়দ সাকির সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সামাজিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, শিক্ষার্থী এবং সচেতন নাগরিকবৃন্দ বিশাল মানববন্ধন উপস্থিত ছিলেন।


















