ওসমানীনগরে সকালে ৬ চোর আটক, বিকেলেই ফের মোটরসাইকেল চুরি
- Update Time : ০১:৫৭:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
- / ৩ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
ডেস্ক রিপোর্ট :: সিলেটের ওসমানীনগরে চুরির উপদ্রব চরমে পৌঁছেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় জনতা ৬ জন সন্দেহভাজন চোরকে ধরে পুলিশে দিলেও তার কয়েক ঘণ্টার মাথায় বিকেলে তাজপুর বাজার থেকে ফের একটি মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটেছে। একের পর এক চুরির ঘটনায় অতিষ্ঠ স্থানীয় সাধারণ মানুষ প্রশাসনের ‘নীরব ভূমিকা’ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে উপজেলার তাজপুর বাজারে চোর সন্দেহে ৬ জনকে হাতেনাতে আটক করে স্থানীয় জনতা। পরে থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটককৃতদের থানা হেফাজতে নিয়ে যায়। চোর আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিগত দিনে চুরির শিকার হওয়া ২০ থেকে ২৫ জন ভুক্তভোগী সাধারণ ডায়েরির (জিডি) কপি নিয়ে থানায় হাজির হন। আটককৃতদের কয়েকজনকে স্থানীয় বাসিন্দা হিসেবে শনাক্ত করেছেন অনেক ভুক্তভোগী।
তবে এই আটকের রেশ কাটতে না কাটতেই বিকেলে তাজপুর বাজার এলাকা থেকে নজরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির একটি লাল রঙের মোটরসাইকেল (রেজিস্ট্রেশন নম্বর: সিলেট হ- ১৩-৮৮৩৬) চুরির ঘটনা ঘটে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মুখে মাস্ক ও চেক শার্ট পরা আনুমানিক ২৫-২৬ বছর বয়সী এক যুবক মোটরসাইকেলটি চালিয়ে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এর আগে গত সোমবার রাতেও গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের কাজী আব্দুল মুমিনের একটি ‘হোন্ডা গ্ল্যামার’ মোটরসাইকেল চুরি হয়। এ ছাড়া গত ডিসেম্বরে (২০২৪) তাজপুর ইউনিয়নের ভাড়েরা গ্রামের রেহাদ আহমেদের প্রায় ৩ লক্ষ টাকা মূল্যের একটি ‘ইয়ামাহা এফজেড’ মোটরসাইকেল চুরি হয়েছিল।
ভুক্তভোগী রেহাদ আহমেদ বলেন, সকালে চোর আটকের খবর শুনে থানায় এসেছি। ভেবেছিলাম পুলিশ এদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে হয়তো আমার বাইকটির কোনো সন্ধান মিলবে। গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের ভুক্তভোগী কাজী আব্দুল মুমিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, চোর ধরা প্রশাসনের কাজ, কিন্তু প্রশাসন ব্যর্থ হচ্ছে বলেই সাধারণ মানুষ চোর ধরছে। আমাদের দাবি, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় যদি কেউ এসব অপকর্মে জড়িত থাকে, তবে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হোক। এ বিষয়ে সিলেট জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর সার্কেল) মনছুরা আক্তার বলেন, জনতা কয়েকজনকে আটকে মারধর করেছিল, আমরা তাদের উদ্ধার করে নিয়ে এসেছি। বর্তমানে তাদের যাচাই-বাছাই ও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এদের সাথে আর কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তিনি আরও বলেন, “আমাদের কাছে সঠিক তথ্য থাকলে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। তথ্য ছাড়া অপরাধী শনাক্ত করা কঠিন, তাই জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন।


















