০৪:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লন্ডনের বইমেলায় ইতিহাস গবেষক ফারুক আহমদ ও কবি মাশূক ইবনে আনিসকে সম্মাননা

  • Update Time : ০২:৫২:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
  • / ২ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট :: প্রবাসে বাংলা ভাষা, সাহিত্য, ইতিহাস ও সংস্কৃতির ধারাবাহিক চর্চাকে সম্মান জানিয়ে যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত ১৪তম বাংলাদেশ বইমেলা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক উৎসবে এ বছরের গুণীজন সম্মাননা পদক ২০২৬ প্রদান করা হয়েছে বিশিষ্ট ইতিহাস গবেষক ফারুক আহমদকে। একই অনুষ্ঠানে বাংলা কবিতায় দীর্ঘদিনের সৃজনশীল অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সাহিত্য পদক ২০২৬ লাভ করেছেন কবি মাশূক ইবনে আনিস। ২৮ জুন লন্ডনে আয়োজিত এই উৎসব প্রবাসী বাঙালির সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়। লেখক, কবি, গবেষক, শিল্পী, সাংবাদিক ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের উপস্থিতিতে মুখর এ আয়োজনে দেশ-বিদেশ থেকে আগত বিশিষ্ট অতিথিরা দুই গুণী ব্যক্তির হাতে সম্মাননা পদক তুলে দেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও চিন্তক রূপা চক্রবর্তী। বিশেষ অতিথি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বিশিষ্ট লেখক ও অনুবাদক আনিসুজ্জামান এবং যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত কবি শামীম আজাদ। আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে এ বছর চারটি বিভাগে চারজনকে সম্মাননা দেওয়া হয়।

গবেষণা ও ইতিহাসচর্চায় বিশেষ অবদানের জন্য ফারুক আহমদকে গুণীজন সম্মাননা পদক এবং বাংলা সাহিত্যে অব্যাহত সৃজনশীল অবদানের জন্য কবি মাশূক ইবনে আনিসকে সাহিত্য পদক প্রদান করা হয়। এছাড়া সংগঠনের কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় সংগঠক ও টেলিভিশন উপস্থাপক হেনা বেগম এবং নূরজাহান শিল্পী বেস্ট পারফরম্যান্স অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন। লেখক ও সাংবাদিক সেবুল চৌধুরী পান ডিসটিংগুইশড ফ্রেন্ডস রিকগনিশন অ্যাওয়ার্ড।

বিলাতে বাঙালির ইতিহাস রচনায় ফারুক আহমদ এক সুপরিচিত নাম। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তিনি ব্রিটেনে বাংলা সংবাদপত্র, সাংবাদিকতা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, অভিবাসন এবং সিলেটের ইতিহাস নিয়ে নিরলস গবেষণা করে আসছেন। তাঁর রচিত বিলাতে বাংলা সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতা, বিলাতে বাংলার রাজনীতি, বিলাতে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চা, বিলাতে বাঙালি অভিবাসন এবং সিলেটের ইতিহাস: ব্রিটিশ আমলসহ একাধিক গ্রন্থ গবেষক ও পাঠকমহলে সমাদৃত। গবেষণা, ইতিহাসচর্চা ও সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি এর আগে বাংলা একাডেমির প্রবাসী লেখক পুরস্কার, সিলেট জেলা প্রশাসনের প্রবাসী সম্মাননা এবং লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ডসহ বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

অন্যদিকে, কবি মাশূক ইবনে আনিস নব্বইয়ের দশক থেকে বাংলা কবিতার অঙ্গনে পরিচিত একটি নাম। তাঁর কবিতায় দেশ, মানুষ, সময় ও প্রবাসজীবনের নানা অনুষঙ্গ গভীর সংবেদনশীলতায় উঠে এসেছে। যদি বিদ্রোহ করি, অবশিষ্ট শূন্য এক এবং অলৌকিক মাশুকনামা তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে তিনি সাহিত্যপত্র ‘আদি কাকতাড়ুয়া’ সম্পাদনার মাধ্যমে নতুন লেখক ও সাহিত্যচর্চাকে উৎসাহিত করে আসছেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, প্রবাসে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও ইতিহাসকে ধারণ করে যাঁরা নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন, তাঁদের এই স্বীকৃতি শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি বিশ্বব্যাপী বাংলা সংস্কৃতির বিকাশে প্রবাসী বাঙালিদের অবদানেরও একটি সম্মানজনক স্বীকৃতি। এমন আয়োজন আগামী প্রজন্মকে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও ঐতিহ্যের সঙ্গে আরও দৃঢ়ভাবে সম্পৃক্ত হতে অনুপ্রাণিত করবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেন।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

লন্ডনের বইমেলায় ইতিহাস গবেষক ফারুক আহমদ ও কবি মাশূক ইবনে আনিসকে সম্মাননা

Update Time : ০২:৫২:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট :: প্রবাসে বাংলা ভাষা, সাহিত্য, ইতিহাস ও সংস্কৃতির ধারাবাহিক চর্চাকে সম্মান জানিয়ে যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত ১৪তম বাংলাদেশ বইমেলা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক উৎসবে এ বছরের গুণীজন সম্মাননা পদক ২০২৬ প্রদান করা হয়েছে বিশিষ্ট ইতিহাস গবেষক ফারুক আহমদকে। একই অনুষ্ঠানে বাংলা কবিতায় দীর্ঘদিনের সৃজনশীল অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সাহিত্য পদক ২০২৬ লাভ করেছেন কবি মাশূক ইবনে আনিস। ২৮ জুন লন্ডনে আয়োজিত এই উৎসব প্রবাসী বাঙালির সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়। লেখক, কবি, গবেষক, শিল্পী, সাংবাদিক ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের উপস্থিতিতে মুখর এ আয়োজনে দেশ-বিদেশ থেকে আগত বিশিষ্ট অতিথিরা দুই গুণী ব্যক্তির হাতে সম্মাননা পদক তুলে দেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও চিন্তক রূপা চক্রবর্তী। বিশেষ অতিথি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বিশিষ্ট লেখক ও অনুবাদক আনিসুজ্জামান এবং যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত কবি শামীম আজাদ। আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে এ বছর চারটি বিভাগে চারজনকে সম্মাননা দেওয়া হয়।

গবেষণা ও ইতিহাসচর্চায় বিশেষ অবদানের জন্য ফারুক আহমদকে গুণীজন সম্মাননা পদক এবং বাংলা সাহিত্যে অব্যাহত সৃজনশীল অবদানের জন্য কবি মাশূক ইবনে আনিসকে সাহিত্য পদক প্রদান করা হয়। এছাড়া সংগঠনের কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় সংগঠক ও টেলিভিশন উপস্থাপক হেনা বেগম এবং নূরজাহান শিল্পী বেস্ট পারফরম্যান্স অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন। লেখক ও সাংবাদিক সেবুল চৌধুরী পান ডিসটিংগুইশড ফ্রেন্ডস রিকগনিশন অ্যাওয়ার্ড।

বিলাতে বাঙালির ইতিহাস রচনায় ফারুক আহমদ এক সুপরিচিত নাম। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তিনি ব্রিটেনে বাংলা সংবাদপত্র, সাংবাদিকতা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, অভিবাসন এবং সিলেটের ইতিহাস নিয়ে নিরলস গবেষণা করে আসছেন। তাঁর রচিত বিলাতে বাংলা সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতা, বিলাতে বাংলার রাজনীতি, বিলাতে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চা, বিলাতে বাঙালি অভিবাসন এবং সিলেটের ইতিহাস: ব্রিটিশ আমলসহ একাধিক গ্রন্থ গবেষক ও পাঠকমহলে সমাদৃত। গবেষণা, ইতিহাসচর্চা ও সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি এর আগে বাংলা একাডেমির প্রবাসী লেখক পুরস্কার, সিলেট জেলা প্রশাসনের প্রবাসী সম্মাননা এবং লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ডসহ বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

অন্যদিকে, কবি মাশূক ইবনে আনিস নব্বইয়ের দশক থেকে বাংলা কবিতার অঙ্গনে পরিচিত একটি নাম। তাঁর কবিতায় দেশ, মানুষ, সময় ও প্রবাসজীবনের নানা অনুষঙ্গ গভীর সংবেদনশীলতায় উঠে এসেছে। যদি বিদ্রোহ করি, অবশিষ্ট শূন্য এক এবং অলৌকিক মাশুকনামা তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে তিনি সাহিত্যপত্র ‘আদি কাকতাড়ুয়া’ সম্পাদনার মাধ্যমে নতুন লেখক ও সাহিত্যচর্চাকে উৎসাহিত করে আসছেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, প্রবাসে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও ইতিহাসকে ধারণ করে যাঁরা নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন, তাঁদের এই স্বীকৃতি শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি বিশ্বব্যাপী বাংলা সংস্কৃতির বিকাশে প্রবাসী বাঙালিদের অবদানেরও একটি সম্মানজনক স্বীকৃতি। এমন আয়োজন আগামী প্রজন্মকে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও ঐতিহ্যের সঙ্গে আরও দৃঢ়ভাবে সম্পৃক্ত হতে অনুপ্রাণিত করবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেন।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ