০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুনামগঞ্জে কালবৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড দিরাই

  • Update Time : ০১:২৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১২ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ে বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। ঝড়ে অসংখ্য ঘরবাড়ি, গাছপালা ও যানবাহন, বিদ্যুতের খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। রবিবার (২৬ এপ্রিল) দিবাগত গভীর রাতে হঠাৎ করে আঘাত হানা এই ঝড়ে দিরাই পৌরসভার ২, ৩, ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামীণ জনপদেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে দিরাই পৌরসভার মজলিশপুর গ্রামের বাসিন্দা রাজিব চৌধুরী জানান, তার জীবিকার একমাত্র অবলম্বন পিকআপ ভ্যানটির ওপর একটি বড় গাছ ভেঙে পড়ে সেটি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল এসে গাড়িটি উদ্ধার করে। তিনি বলেন, গাড়িটি মেরামত করতে প্রায় ১ থেকে দেড় লাখ টাকা লাগবে। আমি ভাড়াটিয়া বাসায় থাকি, এই গাড়ি চালিয়েই পরিবার চালাতাম। এখন কীভাবে চলবো বুঝতে পারছি না। একই গ্রামের কাজল কান্তি তালুকদার জানান, তার পাশের বাড়ির গোবিন্দ দাসের ঘরের ওপর শতবর্ষী একটি বটগাছ ভেঙে পড়ে ঘরটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয়ভাবে ‘কালাচাঁন গাছ’ নামে পরিচিত এই গাছটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে পূজিত ও ঐতিহ্যবাহী হিসেবে পরিচিত ছিল। গ্রামের বাসিন্দা নিলয় দাস ও জয়চান বলেন, ঝড়ে তাদের টিনের ঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। আমরা গরিব মানুষ, এখন মাথা গোঁজার ঠাঁইও নেই,—বলেন তারা। পৌর বিএনপির ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক হরিপদ দেবনাথ জানান, মজলিশপুর গ্রামে প্রায় ২০-২৫টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় শতাধিক গাছ উপড়ে পড়েছে। শতবর্ষী বৃহৎ বটগাছটিও ঝড়ে ভেঙে পড়েছে। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য দ্রুত প্রশাসনিক সহায়তা কামনা করেন। দোওজ গ্রামের বাসিন্দা রাজু চক্রবর্তী বলেন, রাতের ঝড়ে আমাদের পাড়ায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেকের ঘরবাড়ি ও গাছপালা ভেঙে গেছে।

এদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজীব সরকার বলেন, ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পেয়েছি, তবে সঠিক পরিসংখ্যান এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে ঘরবাড়ি ও গাছপালার ক্ষতি বেশি হয়েছে। মজলিশপুর এলাকায় পরিদর্শন করেছি। তিনি বলেনে,তবে একটা জিনিস ভাল লেগেছে ঝড়ে  এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি আহত বা নিহতের খবর পাওয়া যায়নি। তিনি আরও জানান, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের নির্দিষ্ট ফরম্যাটে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের সহায়তায় সরকারি উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। স্থানীয় শিক্ষক সুধাসিন্ধু দাস  রানা বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ের এই তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এখন চরম দুর্ভোগে পড়েছে। দ্রুত সহায়তা না পেলে তাদের মানবেতর জীবনযাপন করতে হতে পারে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

সুনামগঞ্জে কালবৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড দিরাই

Update Time : ০১:২৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ে বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। ঝড়ে অসংখ্য ঘরবাড়ি, গাছপালা ও যানবাহন, বিদ্যুতের খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। রবিবার (২৬ এপ্রিল) দিবাগত গভীর রাতে হঠাৎ করে আঘাত হানা এই ঝড়ে দিরাই পৌরসভার ২, ৩, ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামীণ জনপদেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে দিরাই পৌরসভার মজলিশপুর গ্রামের বাসিন্দা রাজিব চৌধুরী জানান, তার জীবিকার একমাত্র অবলম্বন পিকআপ ভ্যানটির ওপর একটি বড় গাছ ভেঙে পড়ে সেটি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল এসে গাড়িটি উদ্ধার করে। তিনি বলেন, গাড়িটি মেরামত করতে প্রায় ১ থেকে দেড় লাখ টাকা লাগবে। আমি ভাড়াটিয়া বাসায় থাকি, এই গাড়ি চালিয়েই পরিবার চালাতাম। এখন কীভাবে চলবো বুঝতে পারছি না। একই গ্রামের কাজল কান্তি তালুকদার জানান, তার পাশের বাড়ির গোবিন্দ দাসের ঘরের ওপর শতবর্ষী একটি বটগাছ ভেঙে পড়ে ঘরটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয়ভাবে ‘কালাচাঁন গাছ’ নামে পরিচিত এই গাছটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে পূজিত ও ঐতিহ্যবাহী হিসেবে পরিচিত ছিল। গ্রামের বাসিন্দা নিলয় দাস ও জয়চান বলেন, ঝড়ে তাদের টিনের ঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। আমরা গরিব মানুষ, এখন মাথা গোঁজার ঠাঁইও নেই,—বলেন তারা। পৌর বিএনপির ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক হরিপদ দেবনাথ জানান, মজলিশপুর গ্রামে প্রায় ২০-২৫টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় শতাধিক গাছ উপড়ে পড়েছে। শতবর্ষী বৃহৎ বটগাছটিও ঝড়ে ভেঙে পড়েছে। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য দ্রুত প্রশাসনিক সহায়তা কামনা করেন। দোওজ গ্রামের বাসিন্দা রাজু চক্রবর্তী বলেন, রাতের ঝড়ে আমাদের পাড়ায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেকের ঘরবাড়ি ও গাছপালা ভেঙে গেছে।

এদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজীব সরকার বলেন, ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পেয়েছি, তবে সঠিক পরিসংখ্যান এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে ঘরবাড়ি ও গাছপালার ক্ষতি বেশি হয়েছে। মজলিশপুর এলাকায় পরিদর্শন করেছি। তিনি বলেনে,তবে একটা জিনিস ভাল লেগেছে ঝড়ে  এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি আহত বা নিহতের খবর পাওয়া যায়নি। তিনি আরও জানান, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের নির্দিষ্ট ফরম্যাটে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের সহায়তায় সরকারি উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। স্থানীয় শিক্ষক সুধাসিন্ধু দাস  রানা বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ের এই তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এখন চরম দুর্ভোগে পড়েছে। দ্রুত সহায়তা না পেলে তাদের মানবেতর জীবনযাপন করতে হতে পারে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ