বর্তমান সরকার জনগণের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত আশার প্রতিফলন
- Update Time : ০২:৫৯:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
- / ৪ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
ডেস্ক রিপোর্ট :: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, প্রায় দেড় দশকেরও বেশি সময় পর দেশে জনগণের সরাসরি ভোটে একটি গণতান্ত্রিক সরকার নির্বাচিত হয়েছে। এই সরকার দীর্ঘদিনের লুণ্ঠিত ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার এবং একটি জবাবদিহিমূলক, ন্যায়ভিত্তিক ও জনকল্যাণমুখী শাসনব্যবস্থার প্রত্যাশায় থাকা সাধারণ মানুষের আশার প্রতিফলন। শনিবার সকালে রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে ‘ট্রেনিং কাম ডরমিটরি ভবন’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থান আবারও প্রমাণ করেছে যে এই রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক এ দেশের জনগণ। তাই প্রশাসনের কর্মকর্তা হিসেবে আপনাদের প্রধান দায়িত্ব হলো জনগণের স্বার্থ ও কল্যাণ নিশ্চিত করা। জনসেবাকে কোনো দয়া বা অনুকম্পা নয়, বরং নাগরিকের অধিকার হিসেবে দেখতে হবে।’
বিয়াম ফাউন্ডেশনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯১ সালের ২৯ ডিসেম্বর এই প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু হয়েছিল এবং ২০০২ সালের নভেম্বরে এটি বিয়াম ফাউন্ডেশনে রূপান্তরিত হয়। তিনি উল্লেখ করেন, বিয়ামের অগ্রযাত্রার প্রতিটি মাইলফলক প্রমাণ করে যে বিএনপি সরকার সবসময়ই একটি সুদক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনপ্রশাসন গড়ে তুলতে চেয়েছে। আজকের এই নতুন ভবন কেবল একটি অবকাঠামো নয়, এটি প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জ্ঞানচর্চার প্রাণবন্ত কেন্দ্রে পরিণত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রশাসনিক সংস্কার ও আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘বর্তমান সরকার মেরিটোক্রেসির (মেধাতন্ত্র) বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রাষ্ট্রযন্ত্রের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে এখন থেকে মেধা, সততা, সৃজনশীলতা ও দক্ষতাই হবে একমাত্র মাপকাঠি। ফ্যাসিবাদের যুগে আপনারা কীভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন বা করতে বাধ্য হয়েছেন, সেই প্রশ্ন আজ না তুলে আমি শুধু বলতে চাই—জনগণের সঙ্গে আমাদের যে চুক্তি বা ইশতেহার রয়েছে, তার প্রতিটি দফা বাস্তবায়নে এই সরকার বদ্ধপরিকর।’
ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ব এখন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই-এর যুগে প্রবেশ করেছে। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে আমাদের জনপ্রশাসনকেও ডিজিটাল কর্মপ্রবাহ এবং আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ হতে হবে। ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস ও সিঙ্গেল-উইন্ডো ক্লিয়ারেন্সের মতো সেবাগুলোকে আরও কার্যকর করতে হবে।’ অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি প্রশাসনের আধুনিকায়নে সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার এবং বিয়ামের মহাপরিচালক আব্দুল মালেকসহ সরকারের পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে প্রধানমন্ত্রী বিয়াম ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং প্রশিক্ষণার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।




























