১০:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কানাডার পার্লামেন্টে প্রথম বাংলাদেশি এমপি মৌলভীবাজারের ডলি বেগম

  • Update Time : ০৩:২৪:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৮ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট :: কানাডার ফেডারেল রাজনীতিতে এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজারের কৃতী সন্তান ডলি বেগম। টরন্টোর স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসন থেকে লিবারেল পার্টির প্রার্থী হিসেবে উপনির্বাচনে জয়লাভ করে তিনি কানাডার পার্লামেন্টে প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সোমবার (১৩ এপ্রিল ২০২৬) অনুষ্ঠিত এই উপনির্বাচনে ডলি বেগমের জয়ের ফলে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নেতৃত্বাধীন লিবারেল পার্টি কানাডার সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। বর্তমানে লিবারেল পার্টির আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭৪টি-তে। মৌলভীবাজারের মনু পাড়ের মেয়ে ডলি বেগমের শিকড় মৌলভীবাজার জেলার মনুমুখ বাজরাকোনা এলাকায়। বাবা রাজা মিয়া এবং মা জবা বেগমের হাত ধরে মাত্র অল্প বয়সেই তিনি কানাডায় পাড়ি জমান। তাঁর প্রাথমিক শিক্ষার হাতেখড়ি মনুমুখ বাজরাকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এরপর মনুমুখ পিটি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় ১৯৯৯ সালে তিনি পরিবারের সাথে প্রবাস জীবনে যান। তাঁর এই সাফল্যে এখন আনন্দের জোয়ার বইছে মৌলভীবাজারে।

জানা যায়, ডলি বেগম টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং লন্ডনের বিশ্বখ্যাত ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। প্রাদেশিক রাজনীতিতে তিনি ছিলেন এক অপ্রতিরোধ্য নাম। ২০১৮ সালে প্রথমবার নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) প্রার্থী হিসেবে অন্টারিও প্রাদেশিক নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ‘এমপিপি’ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিলেন। এরপর ২০২২ এবং ২০২৩ সালেও তিনি ধারাবাহিকভাবে বিজয়ী হন। চলতি বছরের শুরুতে স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসনটি শূন্য হলে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির আমন্ত্রণে ডলি বেগম লিবারেল পার্টিতে যোগ দেন। লিবারেল দলে যোগ দেওয়ার কারণ হিসেবে তিনি দেশের শক্তিশালী অর্থনৈতিক কাঠামো গড়া এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর লড়াইকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। ডলি বেগমের এই সংগ্রামের পথটি সহজ ছিল না। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি তাঁর স্বামী, টরন্টোর বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার রিজওয়ান রহমানকে হারান। ব্যক্তিগত জীবনের এই গভীর শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে তিনি নির্বাচনী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হন এবং এই অনন্য বিজয় অর্জন করেন। মৌলভীবাজারের ডলি বেগমের সাফল্যে স্থানীয়রা বলছেন, এটি শুধু ডলি বেগমের ব্যক্তিগত জয় নয়, বরং এটি সারা বিশ্বের বাংলাদেশিদের এবং নতুন প্রজন্মের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা। বিশ্ব দরবারে মৌলভীবাজার তথা বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকাকে আরও উঁচুতে তুলে ধরলেন ডলি বেগম।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

কানাডার পার্লামেন্টে প্রথম বাংলাদেশি এমপি মৌলভীবাজারের ডলি বেগম

Update Time : ০৩:২৪:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট :: কানাডার ফেডারেল রাজনীতিতে এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজারের কৃতী সন্তান ডলি বেগম। টরন্টোর স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসন থেকে লিবারেল পার্টির প্রার্থী হিসেবে উপনির্বাচনে জয়লাভ করে তিনি কানাডার পার্লামেন্টে প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সোমবার (১৩ এপ্রিল ২০২৬) অনুষ্ঠিত এই উপনির্বাচনে ডলি বেগমের জয়ের ফলে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নেতৃত্বাধীন লিবারেল পার্টি কানাডার সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। বর্তমানে লিবারেল পার্টির আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭৪টি-তে। মৌলভীবাজারের মনু পাড়ের মেয়ে ডলি বেগমের শিকড় মৌলভীবাজার জেলার মনুমুখ বাজরাকোনা এলাকায়। বাবা রাজা মিয়া এবং মা জবা বেগমের হাত ধরে মাত্র অল্প বয়সেই তিনি কানাডায় পাড়ি জমান। তাঁর প্রাথমিক শিক্ষার হাতেখড়ি মনুমুখ বাজরাকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এরপর মনুমুখ পিটি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় ১৯৯৯ সালে তিনি পরিবারের সাথে প্রবাস জীবনে যান। তাঁর এই সাফল্যে এখন আনন্দের জোয়ার বইছে মৌলভীবাজারে।

জানা যায়, ডলি বেগম টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং লন্ডনের বিশ্বখ্যাত ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। প্রাদেশিক রাজনীতিতে তিনি ছিলেন এক অপ্রতিরোধ্য নাম। ২০১৮ সালে প্রথমবার নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) প্রার্থী হিসেবে অন্টারিও প্রাদেশিক নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ‘এমপিপি’ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিলেন। এরপর ২০২২ এবং ২০২৩ সালেও তিনি ধারাবাহিকভাবে বিজয়ী হন। চলতি বছরের শুরুতে স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসনটি শূন্য হলে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির আমন্ত্রণে ডলি বেগম লিবারেল পার্টিতে যোগ দেন। লিবারেল দলে যোগ দেওয়ার কারণ হিসেবে তিনি দেশের শক্তিশালী অর্থনৈতিক কাঠামো গড়া এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর লড়াইকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। ডলি বেগমের এই সংগ্রামের পথটি সহজ ছিল না। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি তাঁর স্বামী, টরন্টোর বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার রিজওয়ান রহমানকে হারান। ব্যক্তিগত জীবনের এই গভীর শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে তিনি নির্বাচনী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হন এবং এই অনন্য বিজয় অর্জন করেন। মৌলভীবাজারের ডলি বেগমের সাফল্যে স্থানীয়রা বলছেন, এটি শুধু ডলি বেগমের ব্যক্তিগত জয় নয়, বরং এটি সারা বিশ্বের বাংলাদেশিদের এবং নতুন প্রজন্মের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা। বিশ্ব দরবারে মৌলভীবাজার তথা বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকাকে আরও উঁচুতে তুলে ধরলেন ডলি বেগম।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ