জুমাতুল বিদা কাকে বলে, এই দিন কী আমল করবেন
- Update Time : ০৩:৪২:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬
- / ৮ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
ডেস্ক রিপোর্ট :: মাহে রমজানের শেষ জুমার দিনটি আমাদের সমাজে জুমাতুল বিদা নামে পরিচিত। রমজান এবং জুমার সম্মিলন এই দিনটিকে মুমিন মুসলমানদের কাছে সীমাহীন মহিমাময় করে তুলেছে।
জুমাতুল বিদার গুরুত্ব ও মহত্ত্ব
জুমাতুল বিদা মূলত দুটি কারণে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ:
- ১. রমজানের বিশেষ সওয়াব: রমজান মাসে প্রতিটি নেক আমলের সওয়াব ১০ থেকে ৭০০ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়।
- ২. জুমার দিনের শ্রেষ্ঠত্ব: হাদিস অনুযায়ী, জুমার দিন হলো সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন। এই দিনেই হজরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছিল এবং এই দিনেই দোয়া কবুলের একটি বিশেষ মুহূর্ত রয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দিনের মধ্যে সর্বোত্তম দিন হলো জুমার দিন।’ (জামে তিরমিজি)।
জুমার দিনের ৯ সুন্নত আমল
জুমাতুল বিদা বা যেকোনো জুমার দিনে বিশেষ সওয়াব হাসিলের জন্য নিচের সুন্নতগুলো পালন করা উচিত:
- ১. সাবান দিয়ে ভালোভাবে গোসল করা।
- ২. নতুন বা উত্তম পোশাক পরা।
- ৩. আতর বা সুগন্ধি ব্যবহার করা।
- ৪. পায়ে হেঁটে মসজিদে যাওয়া।
- ৫. আগে আগে মসজিদে প্রবেশ করা।
- ৬. ইমামের কাছাকাছি জায়গায় বসা।
- ৭. মনোযোগ সহকারে খুতবা শোনা।
- ৮. বেশি বেশি দরুদ শরিফ পাঠ করা।
- ৯. কাউকে কষ্ট না দেওয়া এবং অনর্থক কাজ থেকে বিরত থাকা।
জুমাতুল বিদা নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা ও বিদআত
ইসলামি শরিয়তে জুমাতুল বিদা নামে বিশেষ কোনো ইবাদতের পরিভাষা নেই। এই দিনকে কেন্দ্র করে সমাজে কিছু ভিত্তিহীন প্রথা প্রচলিত রয়েছে, যা থেকে বেঁচে থাকা জরুরি:
- সালাতুল কাজায়ে উমরি: অনেকে মনে করেন এই দিন বিশেষ নামাজ পড়লে জীবনের সব কাজা নামাজ মাফ হয়ে যায়। এটি একটি স্পষ্ট বিদআত। শরিয়তে এর কোনো ভিত্তি নেই।
- বিশেষ কোনো নামাজ: জুমাতুল বিদার জন্য নির্দিষ্ট কোনো আলাদা নামাজ বা রাকাত সংখ্যা নেই। জুমার দুই রাকাত ফরজ নামাজই মূল ইবাদত।
- জুমায়ে ইয়াতিম: এই নামে কোনো বিশেষ অনুষ্ঠান বা ইবাদত পালন করাও ইসলামি শরিয়ত বহির্ভূত।
- ভুল বিশ্বাস: এই দিন নামাজ পড়লে সারাবছর সুস্থ থাকা যায়—এমন বিশ্বাস করাও ভিত্তিহীন।
আল-কুদস দিবস ও জুমাতুল বিদা
বিশ্বব্যাপী অনেক মুসলমান রমজানের শেষ শুক্রবারকে আল-কুদস দিবস হিসেবে পালন করেন। এর মাধ্যমে ফিলিস্তিনের পবিত্র মসজিদ আল-আকসা মুক্তির দাবিতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা হয়।
জুমাতুল বিদা মূলত রমজানকে বিদায় জানানোর একটি বিষাদময় মুহূর্ত। এটি আত্মশুদ্ধির এক অনন্য সুযোগ। এই দিনে আমাদের উচিত বেশি বেশি তওবা ও ইস্তেগফার করা এবং ফিলিস্তিনসহ সারা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর জন্য দোয়া করা।



























