০৯:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

খোলা আকাশে বৃষ্টিতে ভিজছে রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশুরা !

  • Update Time : ০৪:২৫:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭
  • / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

সুলতান আহমেদ খলিল, উখিয়া থেকে:
আজ ভোর থেকে প্রচুর পরিমাণে পুরো কক্সবাজার জেলা জুড়ে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। যদিও গতকাল রাত প্রায় এগারো টায় হালকা বৃষ্টি হলেও উখিয়া উপজেলায় ভোর থেকে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত হওয়ায় অনেক কষ্টে দিনপাত করছেন রোহিঙ্গা মুসলমান।
নারী পুরুষের টেনশন আর উৎকণ্ঠায় কেটে যাচ্ছে তাদের এখনকার সময়। নিজেরা বৃষ্টির পানিতে ভিজলেও তাদের ছোটছোট ছেলেমেয়েদের কে কিভাবে নিরাপদে রাখবেন সেই চিন্তায় ব্যস্ত তাঁরা।
আয়শা খাতুন মায়ানমারের হাইসুরাতা প্রদেশ থেকে গত ১৩দিন আগে বাংলাদেশে এসেছে। চোখের সামনেই খুন হতে দেখেছে মেয়ে এবং মেয়ের জামাইকে। মা-বাবাকে হারানো ৩ বছর, ৪বছর বয়সের মেয়ে ও ৫ বছরের ছেলে শিশুকে নিয়ে নাফ নদী দিয়ে ছোট নৌকা করে বাংলাদেশে প্রাণ রক্ষায় পালিয়ে এসেছেন। এখন আশ্রয় নিয়েছেন বালুখালি অস্থায়ী ক্যাম্পে।
তাহার চোখের সামনে মেয়েকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে সেনারা, আর গুলি করে মেরেছে মেয়ের জামাইকে। জালিয়ে দেয়া হয়েছে তাদের একমাত্র ঘরটিও। এখন তাঁর আশ্রয় খোলা আকাশের নিচে বাংলাদেশে।
আজ ভোর থেকে উখিয়ায় বৃষ্টি শুরু হলে অসহায় হয়ে দুই নাতনি- এক নাতিকে নিয়ে একটু আশ্রয় খোঁজার চেষ্টা করতে দেখা গেছে তাকে । কোথাও ঠাই না পেয়ে বৃষ্টিতেই ভেজেন তিনি। এছাড়া বৃষ্টি থেকে বাঁচতে কেউ গাছের নিচে কেউ আবার কারো ঘরের কার্নিশের নিচে আশ্রয় নেন। এক ছাতার নিছে ৫/৬ লোককে আশ্রয় নিতে দেখা যায়। তবে উখিয়া-টেকনাফের রাস্তার দুই ধারে হাজার হাজার রোহিঙ্গা বৃষ্টিতে ভিজে নিজেদের শেষ সম্বলটুকু আঁকড়ে ধরে আছেন এখনো।
আয়শা খাতুন বলেন, এভাবেই বৃষ্টিতে ভিজে ৩ রাত মা-বাবা হারা এই নাতি-নাতনিকে নিয়ে দিন কাটাচ্ছি। অশ্রু চোখে তিনি বলেন, আমি না হয় উপবাস, না খেয়ে থাকতে পারবো। বৃষ্টিতে ভেজা টাকার অভাবে কী খাওয়াবেন এ নাতি-নাতনিকে তা জানেন না অসহায় আয়শা খাতুন।
আয়শা শুধু নয়, এভাবেই উখিয়া থেকে টেকনাফ পর্যন্ত হাজার হাজার নারী শিশু বৃষ্টিতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। অন্যদিকে একটু ত্রাণের জন্য বৃষ্টিতে ভিজে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকা এই দৃশ্যপট এখন খুব স্বাভাবিক ব্যাপার।
ত্রাণের কোন গাড়ি আসার পর বৃষ্টি উপেক্ষা করে তোয়াক্কা না করে তারা হুমড়ি খেয়ে খাবার সংগ্রহ এবং নিজের চাদরের আচল দিয়ে কোলের শিশুকে যেন বৃষ্টির পানিতে না ভিজে সেজন্য গায়ে থাকা চাঁদর (ওড়না) খুলেই তাঁরা শিশুদের নিরাপদ রাখার চেষ্টা করছেন।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

খোলা আকাশে বৃষ্টিতে ভিজছে রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশুরা !

Update Time : ০৪:২৫:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭

সুলতান আহমেদ খলিল, উখিয়া থেকে:
আজ ভোর থেকে প্রচুর পরিমাণে পুরো কক্সবাজার জেলা জুড়ে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। যদিও গতকাল রাত প্রায় এগারো টায় হালকা বৃষ্টি হলেও উখিয়া উপজেলায় ভোর থেকে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত হওয়ায় অনেক কষ্টে দিনপাত করছেন রোহিঙ্গা মুসলমান।
নারী পুরুষের টেনশন আর উৎকণ্ঠায় কেটে যাচ্ছে তাদের এখনকার সময়। নিজেরা বৃষ্টির পানিতে ভিজলেও তাদের ছোটছোট ছেলেমেয়েদের কে কিভাবে নিরাপদে রাখবেন সেই চিন্তায় ব্যস্ত তাঁরা।
আয়শা খাতুন মায়ানমারের হাইসুরাতা প্রদেশ থেকে গত ১৩দিন আগে বাংলাদেশে এসেছে। চোখের সামনেই খুন হতে দেখেছে মেয়ে এবং মেয়ের জামাইকে। মা-বাবাকে হারানো ৩ বছর, ৪বছর বয়সের মেয়ে ও ৫ বছরের ছেলে শিশুকে নিয়ে নাফ নদী দিয়ে ছোট নৌকা করে বাংলাদেশে প্রাণ রক্ষায় পালিয়ে এসেছেন। এখন আশ্রয় নিয়েছেন বালুখালি অস্থায়ী ক্যাম্পে।
তাহার চোখের সামনে মেয়েকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে সেনারা, আর গুলি করে মেরেছে মেয়ের জামাইকে। জালিয়ে দেয়া হয়েছে তাদের একমাত্র ঘরটিও। এখন তাঁর আশ্রয় খোলা আকাশের নিচে বাংলাদেশে।
আজ ভোর থেকে উখিয়ায় বৃষ্টি শুরু হলে অসহায় হয়ে দুই নাতনি- এক নাতিকে নিয়ে একটু আশ্রয় খোঁজার চেষ্টা করতে দেখা গেছে তাকে । কোথাও ঠাই না পেয়ে বৃষ্টিতেই ভেজেন তিনি। এছাড়া বৃষ্টি থেকে বাঁচতে কেউ গাছের নিচে কেউ আবার কারো ঘরের কার্নিশের নিচে আশ্রয় নেন। এক ছাতার নিছে ৫/৬ লোককে আশ্রয় নিতে দেখা যায়। তবে উখিয়া-টেকনাফের রাস্তার দুই ধারে হাজার হাজার রোহিঙ্গা বৃষ্টিতে ভিজে নিজেদের শেষ সম্বলটুকু আঁকড়ে ধরে আছেন এখনো।
আয়শা খাতুন বলেন, এভাবেই বৃষ্টিতে ভিজে ৩ রাত মা-বাবা হারা এই নাতি-নাতনিকে নিয়ে দিন কাটাচ্ছি। অশ্রু চোখে তিনি বলেন, আমি না হয় উপবাস, না খেয়ে থাকতে পারবো। বৃষ্টিতে ভেজা টাকার অভাবে কী খাওয়াবেন এ নাতি-নাতনিকে তা জানেন না অসহায় আয়শা খাতুন।
আয়শা শুধু নয়, এভাবেই উখিয়া থেকে টেকনাফ পর্যন্ত হাজার হাজার নারী শিশু বৃষ্টিতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। অন্যদিকে একটু ত্রাণের জন্য বৃষ্টিতে ভিজে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকা এই দৃশ্যপট এখন খুব স্বাভাবিক ব্যাপার।
ত্রাণের কোন গাড়ি আসার পর বৃষ্টি উপেক্ষা করে তোয়াক্কা না করে তারা হুমড়ি খেয়ে খাবার সংগ্রহ এবং নিজের চাদরের আচল দিয়ে কোলের শিশুকে যেন বৃষ্টির পানিতে না ভিজে সেজন্য গায়ে থাকা চাঁদর (ওড়না) খুলেই তাঁরা শিশুদের নিরাপদ রাখার চেষ্টা করছেন।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ