১২:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

৩১ পুলিশ পোস্টে হামলা, ৫৯ রোহিঙ্গা ১২ পুলিশ নিহত রাখাইনে রক্তাক্ত সংঘাত

  • Update Time : ০৪:১৫:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ আগস্ট ২০১৭
  • / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: ফের রক্তাক্ত সংঘাতে উত্তাল মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য। সরকার বলছে, রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরা ৩১টি পুলিশ পোস্টে হামলা চালিয়েছে। এ সময় ৫৯ রোহিঙ্গা ও মিয়ানমানের নিরাপত্তা বাহিনীর ১২ সদস্য নিহত হয়েছে। মিয়ানমারের ডি ফ্যাক্টো নেতা অং সান সু চি’র কার্যালয় গতকাল এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, নিহত রোহিঙ্গারা ছিল যোদ্ধা। মিয়ানমারের গণমাধ্যম ইরাবতি নিহত রোহিঙ্গাদের সন্দেহভাজন মিলিট্যান্ট বলে উল্লেখ করেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর নিহত ১২ জনের মধ্যে ১০ জন পুলিশ, এক জন সেনা এবং আরেকজন অভিবাসন কর্মকর্তা।
সুচির কার্যালয় থেকে দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়, আনুমানিক রাত ১টার দিকে আনুমানিক ১৫০ জন যোদ্ধা উত্তরের মং ডু শহরে সমন্বিত হামলা চালায়। আল-জাজিরার খবরে বলা হয়, জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বাধীন একটি প্যানেল নিপীড়িত মুসলিম সম্প্রদায় রোহিঙ্গাদের উপর বিধিনিষেধ উঠিয়ে নেয়ার আহ্বান জানানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই সংঘর্ষের ঘটনা।
এদিকে, এক টুইটার পোস্টে হামলার দায় স্বীকার করেছে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (এআরএসএ)। তবে, তারা মৃতের সংখ্যা বা কতজন যোদ্ধা হামলা চালিয়ে তা উল্লেখ করেনি। মিয়ানমারের বাহিনীগুলোর বিরুদ্ধে হত্যাযজ্ঞ ও ধর্ষণের অভিযোগ এনে তারা বলেছে, ২৫টিরও বেশি স্থানে তারা ‘আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে’। এআরএসএ আরো বলেছে, উত্তর রাখাইনের রাথেতাউং শহর ‘দু’সপ্তাহের বেশি সময় ধরে নিষেধাজ্ঞার অধীনে রয়েছে ফলে সেখানকার রোহিঙ্গারা ক্ষুধার যন্ত্রণায় মারা যাচ্ছে। তারা যখন মংদ্যুতেও একই কাজ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে… তখন বার্মিজ উপনিবেশি শক্তিকে হটিয়ে দেয়ার জন্য আমাদের এগিয়ে আসতে হয়েছে।’ গ্রুপটি আরো হামলার হুমকি দিয়েছে। উল্লেখ্য, ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের মতে ২০১২ সালে মারাত্মক সাম্প্রদায়িক সহিংসতার পর সৌদি আরবে বসবাসরত রোহিঙ্গারা এআরএসএ গঠন করেছিল।
শুক্রবারের হামলার জবাবে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও সীমান্ত পুলিশ ‘নির্মূল অভিযান’ শুরু করেছে বলে জানিয়েছে সুচি’র কার্যালয়। মংডু এলাকার এক প্রত্যক্ষদর্শী বার্তা সংস্থা এপিকে ফোনে জানিয়েছেন, সেনারা তার গ্রামে প্রবেশ করে শুক্রবার সকাল দশটার দিকে। তারা বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়। গুলি করে হত্যা করে কমপক্ষে ১০ জনকে। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে তিনি আরো জানান, গ্রামবাসীরা যে যেদিকে পেরেছে পালিয়েছে। বেশির ভাগই গেছে নিকটস্থ পর্বত এলাকার দিকে। গুলি আর বিস্ফোরণের শব্দ শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্তও শোনা যাচ্ছিল।
এর আগে গেল অক্টোবর মাসে সীমান্ত পুলিশ চৌকিতে সন্দেহভাজন মিলিট্যান্টদের হামলায় নয় পুলিশ নিহত হয়েছিল। ওই ঘটনার পর এটাই সবথেকে বড় হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা। সেবার হামলার জবাবে রাখাইনের রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ওপর ব্যাপক অভিযান চালায় মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযাগ করেছে, সেনা অভিযানে গর্হিত মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে। হত্যাযজ্ঞ, ধর্ষণ ছাড়াও অগ্নিসংযোগে সহস্রাধিক বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয় সেনারা। জাতিসংঘের তথ্য মতে অক্টোবর মাসের পর থেকে এখন পর্যন্ত ৮০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।
শুক্রবারের হামলা নতুন করে নিপীড়ন, নির্যাতনের ঘটনা উস্কে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। রোহিঙ্গা সম্প্রদায় বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমারে দীর্ঘ দিন ধরে মারাত্মক বৈষম্যের শিকার। ২০১২ সালের সাম্প্রয়িক সহিংসতায় কয়েক শ’ রোহিঙ্গা নিহত হয়েছিল। আর বাস্তুচ্যুত হয়েছিল আনুমানিক ১ রাখ ৪০ হাজার মানুষ, যাদের বেশির ভাগই ছিল রোহিঙ্গা।
গতকাল সুচির কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কট্টরপন্থি বেঙ্গলি বিদ্রোহীরা মংডুর একটি পুলিশ স্টেশনে হাতে বানানো বিস্ফোরক দিয়ে হামলা চালিয়েছে এবং আরো অনেক পুলিশ পোস্টে সমন্বিত হামলা চালিয়েছে।’ প্রসঙ্গত, রোহিঙ্গাদের ‘বেঙ্গলি’ বলে অভিহিত করে থাকে মিয়ানমার। তাদের দাবি এ সম্প্রদায় বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অবৈধ অভিবাসী। অথচ, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তারা মিয়ানমারে বসবাস করে আসছে।
ইয়াঙ্গুন থেকে আল-জাজিরার প্রতিনিধি ফ্লোরেন্স লুই জানিয়েছেন, নতুন এই সহিংসতা মিয়ানমারকে আরো বিভক্ত করে দিতে পারে। তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের জনগণের মধ্যে এর মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব পড়বে। যেসব রাখাইন বৌদ্ধদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি তারা মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে বসবাস করতে চায় না। তারা বলে, রোহিঙ্গারা সন্ত্রাসী আর যোদ্ধাদের সঙ্গে মিলিত। আর রোহিঙ্গা গ্রামবাসীদের তরফে আমরা মারধোর, বাছবিচারহীন হত্যাকাণ্ড আর ঢালাও গ্রেপ্তারের খবর পাচ্ছি। কাজেই উদ্ভূত পরিস্থিতি দু’পক্ষকে আরো দূরে ঠেলে দিলো।’
গতকালের সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে জাতিসংঘ সকল পক্ষকে সহিংসতা থেকে নিবৃত্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে বেসামরিকদের সুরক্ষা দেয়া এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
আনান কমিশন বলেছে, বিদ্যমান সঙ্কট মোকাবিলায় সরকারের অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করা উচিত হবে না। নিজেদের রিপোর্টে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেয়ার পথ সুগম করে দেয়ার আহ্বান জানায় কমিশন। রিপোর্টে সতর্কবার্তা দিয়ে বলা হয়, দ্রুতই সমস্যা সমাধা না করা হলে, রোহিঙ্গা মুসলিম ও সংখ্যগরিষ্ঠ বৌদ্ধ উভয় পক্ষই উগ্রপন্থায় ধাবিত হতে পারে। গত বছর কমিশনটি গঠন করা হয়েছির সু চির অনুরোধে। তার সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে কমিশনের সুপারিশ মেনে চলবে তারা।
উল্লেখ্য, ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ রাখাইন প্রদেশে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের প্রবেশ করতে দেয় না মিয়ানমার। মানবাধিকার লঙ্ঘনগুলো তদন্তে সেখানে জাতিসংঘের একটি মিশনকেও যাওয়ার অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানায় দেশটির সরকার।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

৩১ পুলিশ পোস্টে হামলা, ৫৯ রোহিঙ্গা ১২ পুলিশ নিহত রাখাইনে রক্তাক্ত সংঘাত

Update Time : ০৪:১৫:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ আগস্ট ২০১৭

জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: ফের রক্তাক্ত সংঘাতে উত্তাল মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য। সরকার বলছে, রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরা ৩১টি পুলিশ পোস্টে হামলা চালিয়েছে। এ সময় ৫৯ রোহিঙ্গা ও মিয়ানমানের নিরাপত্তা বাহিনীর ১২ সদস্য নিহত হয়েছে। মিয়ানমারের ডি ফ্যাক্টো নেতা অং সান সু চি’র কার্যালয় গতকাল এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, নিহত রোহিঙ্গারা ছিল যোদ্ধা। মিয়ানমারের গণমাধ্যম ইরাবতি নিহত রোহিঙ্গাদের সন্দেহভাজন মিলিট্যান্ট বলে উল্লেখ করেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর নিহত ১২ জনের মধ্যে ১০ জন পুলিশ, এক জন সেনা এবং আরেকজন অভিবাসন কর্মকর্তা।
সুচির কার্যালয় থেকে দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়, আনুমানিক রাত ১টার দিকে আনুমানিক ১৫০ জন যোদ্ধা উত্তরের মং ডু শহরে সমন্বিত হামলা চালায়। আল-জাজিরার খবরে বলা হয়, জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বাধীন একটি প্যানেল নিপীড়িত মুসলিম সম্প্রদায় রোহিঙ্গাদের উপর বিধিনিষেধ উঠিয়ে নেয়ার আহ্বান জানানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই সংঘর্ষের ঘটনা।
এদিকে, এক টুইটার পোস্টে হামলার দায় স্বীকার করেছে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (এআরএসএ)। তবে, তারা মৃতের সংখ্যা বা কতজন যোদ্ধা হামলা চালিয়ে তা উল্লেখ করেনি। মিয়ানমারের বাহিনীগুলোর বিরুদ্ধে হত্যাযজ্ঞ ও ধর্ষণের অভিযোগ এনে তারা বলেছে, ২৫টিরও বেশি স্থানে তারা ‘আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে’। এআরএসএ আরো বলেছে, উত্তর রাখাইনের রাথেতাউং শহর ‘দু’সপ্তাহের বেশি সময় ধরে নিষেধাজ্ঞার অধীনে রয়েছে ফলে সেখানকার রোহিঙ্গারা ক্ষুধার যন্ত্রণায় মারা যাচ্ছে। তারা যখন মংদ্যুতেও একই কাজ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে… তখন বার্মিজ উপনিবেশি শক্তিকে হটিয়ে দেয়ার জন্য আমাদের এগিয়ে আসতে হয়েছে।’ গ্রুপটি আরো হামলার হুমকি দিয়েছে। উল্লেখ্য, ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের মতে ২০১২ সালে মারাত্মক সাম্প্রদায়িক সহিংসতার পর সৌদি আরবে বসবাসরত রোহিঙ্গারা এআরএসএ গঠন করেছিল।
শুক্রবারের হামলার জবাবে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও সীমান্ত পুলিশ ‘নির্মূল অভিযান’ শুরু করেছে বলে জানিয়েছে সুচি’র কার্যালয়। মংডু এলাকার এক প্রত্যক্ষদর্শী বার্তা সংস্থা এপিকে ফোনে জানিয়েছেন, সেনারা তার গ্রামে প্রবেশ করে শুক্রবার সকাল দশটার দিকে। তারা বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়। গুলি করে হত্যা করে কমপক্ষে ১০ জনকে। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে তিনি আরো জানান, গ্রামবাসীরা যে যেদিকে পেরেছে পালিয়েছে। বেশির ভাগই গেছে নিকটস্থ পর্বত এলাকার দিকে। গুলি আর বিস্ফোরণের শব্দ শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্তও শোনা যাচ্ছিল।
এর আগে গেল অক্টোবর মাসে সীমান্ত পুলিশ চৌকিতে সন্দেহভাজন মিলিট্যান্টদের হামলায় নয় পুলিশ নিহত হয়েছিল। ওই ঘটনার পর এটাই সবথেকে বড় হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা। সেবার হামলার জবাবে রাখাইনের রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ওপর ব্যাপক অভিযান চালায় মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযাগ করেছে, সেনা অভিযানে গর্হিত মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে। হত্যাযজ্ঞ, ধর্ষণ ছাড়াও অগ্নিসংযোগে সহস্রাধিক বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয় সেনারা। জাতিসংঘের তথ্য মতে অক্টোবর মাসের পর থেকে এখন পর্যন্ত ৮০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।
শুক্রবারের হামলা নতুন করে নিপীড়ন, নির্যাতনের ঘটনা উস্কে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। রোহিঙ্গা সম্প্রদায় বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমারে দীর্ঘ দিন ধরে মারাত্মক বৈষম্যের শিকার। ২০১২ সালের সাম্প্রয়িক সহিংসতায় কয়েক শ’ রোহিঙ্গা নিহত হয়েছিল। আর বাস্তুচ্যুত হয়েছিল আনুমানিক ১ রাখ ৪০ হাজার মানুষ, যাদের বেশির ভাগই ছিল রোহিঙ্গা।
গতকাল সুচির কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কট্টরপন্থি বেঙ্গলি বিদ্রোহীরা মংডুর একটি পুলিশ স্টেশনে হাতে বানানো বিস্ফোরক দিয়ে হামলা চালিয়েছে এবং আরো অনেক পুলিশ পোস্টে সমন্বিত হামলা চালিয়েছে।’ প্রসঙ্গত, রোহিঙ্গাদের ‘বেঙ্গলি’ বলে অভিহিত করে থাকে মিয়ানমার। তাদের দাবি এ সম্প্রদায় বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অবৈধ অভিবাসী। অথচ, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তারা মিয়ানমারে বসবাস করে আসছে।
ইয়াঙ্গুন থেকে আল-জাজিরার প্রতিনিধি ফ্লোরেন্স লুই জানিয়েছেন, নতুন এই সহিংসতা মিয়ানমারকে আরো বিভক্ত করে দিতে পারে। তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের জনগণের মধ্যে এর মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব পড়বে। যেসব রাখাইন বৌদ্ধদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি তারা মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে বসবাস করতে চায় না। তারা বলে, রোহিঙ্গারা সন্ত্রাসী আর যোদ্ধাদের সঙ্গে মিলিত। আর রোহিঙ্গা গ্রামবাসীদের তরফে আমরা মারধোর, বাছবিচারহীন হত্যাকাণ্ড আর ঢালাও গ্রেপ্তারের খবর পাচ্ছি। কাজেই উদ্ভূত পরিস্থিতি দু’পক্ষকে আরো দূরে ঠেলে দিলো।’
গতকালের সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে জাতিসংঘ সকল পক্ষকে সহিংসতা থেকে নিবৃত্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে বেসামরিকদের সুরক্ষা দেয়া এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
আনান কমিশন বলেছে, বিদ্যমান সঙ্কট মোকাবিলায় সরকারের অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করা উচিত হবে না। নিজেদের রিপোর্টে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেয়ার পথ সুগম করে দেয়ার আহ্বান জানায় কমিশন। রিপোর্টে সতর্কবার্তা দিয়ে বলা হয়, দ্রুতই সমস্যা সমাধা না করা হলে, রোহিঙ্গা মুসলিম ও সংখ্যগরিষ্ঠ বৌদ্ধ উভয় পক্ষই উগ্রপন্থায় ধাবিত হতে পারে। গত বছর কমিশনটি গঠন করা হয়েছির সু চির অনুরোধে। তার সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে কমিশনের সুপারিশ মেনে চলবে তারা।
উল্লেখ্য, ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ রাখাইন প্রদেশে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের প্রবেশ করতে দেয় না মিয়ানমার। মানবাধিকার লঙ্ঘনগুলো তদন্তে সেখানে জাতিসংঘের একটি মিশনকেও যাওয়ার অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানায় দেশটির সরকার।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ