সিটি নির্বাচনের মাধ্যমে ইমেজ ফেরাতে চায় ইসি
- Update Time : ০৩:৩৪:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ আগস্ট ২০১৭
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির কর্মপরিকল্পনা বা রোডম্যাপের শুরুতেই ছিল সুশীল সমাজের প্রতি-নিধিদের সঙ্গে সংলাপ। গত ৩১শে জুলাই দেশের বিশিষ্ট নাগরিকদের অংশগ্রহণে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। সংলাপে সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে ইসির ইমেজ ফেরানোর তাগিদ এসেছে। তারা বলেছেন, ইসিকে ইমেজ পুনরুদ্ধার করতে হবে। ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের মতো যেন আর কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হয়। সুশীল সমাজের এ বক্তব্যের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি নির্বাচন কমিশনাররা। নির্বাচন কমিশনারদের বক্তব্য হচ্ছে, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই ইসি আস্থার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবে। এক্ষেত্রে সামনের ছয় সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে আস্থা ফেরানোর মাধ্যম হিসেবে দেখছে ইসি। ইতিমধ্যে কুমিল্লা সিটি নির্বাচনকে সার্বিকভাবে আস্থা ফেরানোর একটি উদাহরণ হিসেবে দেখছে ইসি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নির্বাচন কমিশনার বলেন, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে রোডম্যাপের শুভ সূচনা হয়েছে। সেখানে বিশিষ্টজনেরা অনেক মূল্যবান পরামর্শ দিয়েছে। তারা তাদের কথা বলেছে। আমরা কাজে নিজেদের প্রমাণ দেব। সিটি নির্বাচনের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি আরো বলেন, আমরা এখনো কাজের সুযোগ পাইনি। আস্থার প্রমাণ দিতে তো কাজ করতে দিতে হবে। সামনে বেশ কিছু নির্বাচন আছে। আশা করছি জাতিকে আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে পারব। তবে ভোটের সময় সেনা মোতায়েন, নির্বাচনকালীন সরকার ও ‘না’ ভোটের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি ওই নির্বাচন কমিশনার।
ইসি সংশ্লিষ্টরা জানান, নাগরিক সমাজের সঙ্গে সংলাপে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিষয়টি উঠে এসেছে। কাজী রকিব উদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচন ইসির ইমেজ নষ্ট করেছে বলে সুশীল সমাজের বক্তব্যে প্রকাশ পেয়েছে। সেই হারানো ইমেজ উদ্ধারে ইসিকে তৎপর হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সুশীল সমাজ। বিষয়টিকে খুব গুরুত্ব সহকারে দেখছে ইসি। সংলাপের পরপরই রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন আয়োজন করবে ইসি। তাই এই নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে শেষ করা ইসির চ্যালেঞ্জ। রংপুর সিটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে কমিশন। রংপুর সিটির পর গাজীপুর, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল সিটিতে নির্বাচন হবে বর্তমান কমিশনের অধীনেই। তাই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এই ছয় সিটিতে সফলভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠান ইসির কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। ইতিমধ্যে কেএম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন বর্তমান কমিশন কুমিল্লায় নির্বাচন করেছে। ওই নির্বাচনে ভোটগ্রহণের শুরুতে কারচুপির অভিযোগ আনলেও চূড়ান্ত ফলে বিএনপি সমর্থিত মেয়রপ্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু বিজয়ী হন। পরাজিত ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী আঞ্জুম সুলতানা সীমা ফল মেনে নেন। পরবর্তীতে নির্বাচনে সন্তোষ প্রকাশ করেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারাও। কুমিল্লা সিটিতে ভোট অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আস্থা অর্জনের ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে ইসি পাস করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, রোডম্যাপ অনুসারে আগামী ১৭ই আগস্ট গণমাধ্যমের সিনিয়র সাংবাদিকদের সঙ্গে সংলাপ করবে ইসি। আগস্ট-সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করার কথা। এরপর পর্যায়ক্রমে পর্যবেক্ষক সংস্থা, নারী নেত্রী ও নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সংলাপের পরিকল্পনা। সংলাপ শেষে নভেম্বরে সংলাপে প্রাপ্ত সুপারিশমালার খসড়া প্রস্তুত করা হবে। ডিসেম্বরে এ খসড়া চূড়ান্ত আকারে প্রকাশ করা হবে। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে শিডিউল পরিবর্তন হতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ হতে পারে সব শেষে। এতে করে বিভিন্ন অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপে প্রাপ্ত বিষয়গুলো রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে উপস্থাপন করা যাবে। রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থা অর্জনে এই কৌশল কার্যকরী হতে পারে বলে মনে করছে ইসি। ইসি কর্মকর্তারা আরো জানান, সংলাপের সুপারিশগুলো সব রাজনৈতিক দলকে লিখিতভাবেও জানানো হতে পারে। এসব সুপারিশের ভিত্তিতে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনী আইন সংস্কার করা হবে। আইন সংস্কার হলে নির্বাচনী সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আসবে বলে তাদের বিশ্বাস। উল্লেখ্য, গত ৬ই ফেব্রুয়ারি কেএম নূরুল হুদার নেতৃত্বে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়। এই নির্বাচন কমিশনের অধীনেই আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।





























