ফেসবুকে পরিচয়, ডেকে নিয়ে গণধর্ষণ
- Update Time : ০৮:৩৭:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ আগস্ট ২০১৭
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে রাজশাহীতে গিয়ে দুই বন্ধুর হাতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক তরুণী গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে। গত সোমবার নগীর শাহ মুখদুম থানাধীন নওদাপাড়া এলাকার গ্রীণ গার্ডেন নামের গেস্ট হাউজের একটি কক্ষে ন্যাক্কারজনক এই ঘটনা ঘটে। ওই ছাত্রী রাজধানীর একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ পাস করেছেন। গণধর্ষণের শিকার হওয়ার পর ওইদিন রাতেই তিনি স্থানীয়দের সহায়তায় শাহ্ মখদুম থানায় গিয়ে ওই দুই জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মঙ্গলবার ভোরে ওই তরুণীর দায়ের করা মামলায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষকসহ (ফেসবুক ফ্রেন্ড) দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্সের (ইউআইটিএস) রাজশাহী শাখার সাবেক শিক্ষক সামশুল আলম বাদশা ও রাজশাহীর গোরহাঙ্গা এলাকার একটি কম্পিউটার দোকানের মালিক আবু ফায়েজ নাহিদ। বাদশার বাড়ি রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার মচমইল গ্রামে আর নাহিদের বাড়ি একই উপজেলার হাসনিপুর গ্রামে। তারা দুজনই রাজশাহী শহরের বোয়ালিয়া থানাধীন সাগরপাড়া এলাকার ভাড়া বাসায় থাকেন।
মামলার এজহার সূত্রে জানা গেছে, ৩১শে জুলাই সকালে ভুক্তভোগী ওই তরুণী চিকিৎসার জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেনযোগে রাজশাহী আসেন। তার পরে চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান। হাসপাতালের আউট ডোরে লাইনে প্রচুর ভিড় দেখে সাহায্যের জন্য চার বছরের পুরানো ফেসবুক বন্ধু বাদশাকে ফোন দিয়ে হাসপাতালে আসতে বলেন। কিন্তু বাদশা হাসপাতালে না এসে সুকৌশলে ওই নারীকে নগরীর গোরহাঙ্গায় অবস্থিত আরেক বন্ধু নাহিদের কম্পিউটারের (ইজিটাচ) দোকানে ডাকেন। ওই তরুণী তখন রামেক হাসপাতাল থেকে বের হয়ে অটোরিক্সাযোগে চলে আসেন সেই কম্পিউটারের দোকানে। ইজিটাস নামের সেই কম্পিউটারের দোকানের গেলে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত বাদশা কম্পিউটারের দোকানের মালিক নাহিদের সঙ্গে তরুণীর পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর দীর্ঘসময় তাদের মধ্যে কথাবার্তা হয়। এরই মধ্যে দুপুর হয়ে গেলে দুপুরের খাবার খাওয়ার কথা বলেই ওই ছাত্রীকে তারা নগরীর নওদাপাড়া এলাকায় গ্রীণ গার্ডেন নামের একটি বাগান বাড়িতে (গেস্ট হাউজ) নিয়ে যায়। পরে তারা তাকে সুকৌশলেই ওই গেস্ট হাউজে দুই তলার একটি রুমে নিয়ে যায়। তারা সেখানেই তিনজনে মিলে দুপুরের খাওয়া-দাওয়াও করেন। পরে নাহিদ সেই রুম থেকে বেরিয়ে আসে। ধর্ষণের শিকার ওই তরুণী আর ফেসবুকে পরিচয় হওয়া ওই বন্ধুর (বাদশা) মধ্যে তখনো কথাবার্তা হচ্ছিল। গল্পের এক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়পড়–য়া সেই তরুণীকে বাদশা জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এরপর তরুণীটিকে ঘরের মধ্যে রেখে বাইরে বেরিয়ে আসে বাদশা। তার কিছুক্ষণ পরে আবুল খায়ের ওরফে নাহিদ (২৬) নামের সেই কম্পিউটার দোকান মালিকও সেই ঘরে প্রবেশ করে ওই ছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে ধর্ষণের শিকার ওই তরুণীকে তারা সেখানে রেখেই দুইজনই পালিয়ে যায়। এরপর তাকে গেস্ট হাউজের কর্মচারিরা গিয়ে উদ্ধার করে। কর্মচারিদের সহযোগিতায় ওই তরুণী ওইদিন রাত ৮টার দিকে শাহ মুখদুম থানায় গিয়ে ওই দুইজনের নামে ধর্ষণের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা হওয়ার পর রাতেই আসামিদের ধরতে অভিযান শুরু করে পুলিশ। রাতভর অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার ভোরে নগরীর গোরহাঙ্গা এলাকা থেকে পুলিশ বাদশা ও নাহিদকে গ্রেপ্তার করে।
শাহ্ মখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান জানান, চার বছর আগে ওই তরুণীর সঙ্গে বাদশার ফেসবুকে পরিচয় হয়। এরপর থেকে আস্তে আস্তে ফোনেও তাদের মধ্যে কথাবার্তা শুরু হয়। ওই তরুণী রাজশাহীতে এসে তাকে (বাদশা) ফোন করলে কৌশলে ওই গেস্টহাউজে নিয়ে গিয়ে বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে ধর্ষণ করে। এঘটনায় ওই দিন রাতেই দুইজনকে আসামি করে ওই তরুণী থানায় মামলা করে।
তিনি জানান, মামলা হওয়ার পর সোমবার রাত থেকেই ওই তরুণী শাহ মখদুম থানার ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়েছিল। গতকাল বুধবার পরীক্ষার জন্য রামেক হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসি সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হয়। সেখানে দুপুরে ওই তরুণীর ডাক্তারি সম্পন্ন হয়। পরে হাসপাতাল থেকে ওই তরুণীর জবানবন্দি রেকর্ড করার জন্য আদালতে নিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ডাক্তারি পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে কি না তা জানাননি চিকিৎসকরা। কয়েকদিনের মধ্যে তারা পুলিশকে লিখিত প্রতিবেদন দেবেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও নগরীর শাহ্ মখদুম থানার পরিদর্শক আনোয়ার আলী তুহিন জানান, ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া দুই যুবকের আদালতে তুলে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হবে। আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করলে তাদেরকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।





























