০৬:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘বুলবুলের ২৪ এজেন্ট নিখোঁজ’

  • Update Time : ০৬:২৮:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ জুলাই ২০১৮
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: ভোটের আগের দিন বিএনপির ২৪ জন পোলিং এজেন্ট নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ করেছেন দলটির প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। গতকাল এজেন্ট নিখোঁজ হওয়াসহ ৫০টি অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। দুপুর ১২টায় বিএনপি ২০ দলীয় প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট অ্যাডভোকেট তোফাজ্জল হোসেন রিটার্নিং অফিসার বরাবরে শেষ অভিযোগটি জমা দেন। তফসিল ঘোষণার পর ধানের শীষের নেতাকর্মীদের বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেপ্তার, সবশেষে পোলিং এজেন্টদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হামলা, পরিবারবর্গকে হুমকি, মা-বাবা-ছেলে-নিকট আত্মীয়দের থানায় আটকে রাখার অভিযোগ তুলেন বিএনপি প্রার্থী বুলবুল। সকাল সাড়ে ৭টার ভেতর পোলিং এজেন্টকে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছানো নিশ্চিত করেই তিনি নির্বাচনের ময়দানে অবস্থান নিবেন।

এ সময় মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল নেতাকর্মীদের নিয়ে কাফনের কাপড় বেঁধে ভোটের মাঠে থাকার ঘোষণা দেন। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য বিএনপি প্রস্তুত। ইতিমধ্যে ১৭টি নির্দেশনা সম্বলিত একটি লিফলেট পোলিং এজেন্টদের দেয়া হয়েছে। সেখানে সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্য আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর সঙ্গে নিয়ে ব্যালট পেপার জোর করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ডাকাত, ডাকাত বলে চিৎকার করে বাইরে খবর পাঠানোর নির্দেশনা, গণনার সময় নৌকার ৮০টি ব্যালট পেপার ১০০ এবং ধানের শীষের ১২০টি ব্যালট পেপার ১০০ হিসাবে গণনা করার চেষ্টা হবেও বলে সতর্ক করা হয়।

প্রচারণার শেষদিন রাত পৌনে ১২টার দিকে ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বোর্ডঘর কাঠমিলের কাছে ৪০০-৫০০ জন অচেনা যুবকসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের জটলা দেখতে পান বিএনপি মহানগর সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন। মহানগর বিএনপি সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, ধানের শীষ প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলসহ যখন নির্বাচনে প্রচারণা শেষ করে ফিরি তখন ওই জটলা স্বচক্ষে দেখেছি। তারা ভূরিভোজের আয়োজন করেছে। আর ভেতরে আরো কি হচ্ছে তা দেখা না গেলেও বুঝতে পারছি।’ যুবলীগ-আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ-সাদা পোশাকের পুলিশ বাহিনী একসঙ্গে কখনো আবার আলাদা আলাদা বিভিন্ন পোলিং এজেন্টের বাড়িতে গিয়ে হুমকি দিচ্ছে। রাত থেকে আমরা ২৩-২৪ জন পোলিং এজেন্টের কোনো খোঁজ পাচ্ছি না। এরপরও ভোটে আছি, আন্দোলনের টার্নিং পয়েন্ট হিসেবেই দেখা হচ্ছে। জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে এবারের স্থানীয় নির্বাচন গুরুত্ব বহন করছে।’

বিএনপির পক্ষ অভিযোগের পর অভিযোগ জমা পড়েছে নির্বাচন কমিশনে। তবে উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। দুপুর ১২টায় প্রিজাইডিং অফিসারদের তালিকা বিএনপি প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের হাতে তুলে দেয়ার কথা ছিলো। কিন্তু সে জায়গায়ও নানা টালবাহানা করছেন বলে অভিযোগ তুলেছে বিএনপি।

বিএনপি প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট অ্যাডভোকেট তোফাজ্জল হোসেন তপু বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন প্রত্যক্ষভাবে সরকারের আজ্ঞাবহ হয়ে কাজ করছে। ২৪ ঘণ্টা আগে আমরা প্রিজাইডিং অফিসারের গেজেট চেয়েছিলাম যাতে কোনো আপত্তি থাকলে তা তুলে ধরা যায়। কিন্তু তা না করে গতকাল দুপুর ১২টায় সময় দেয়। কিন্তু এসে দেখলাম তারা কেউ অফিসে নেই।’
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ‘দুঃখ ভারক্রান্তভাবে বলতে বাধ্য হচ্ছি, নির্বাচন কমিশন অথর্ব অকার্যকর হয়ে পড়েছে। আমরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচনের মাধ্যমে বিজয় নিশ্চিত করতে চাই। উপমহাদেশের মধ্যে শান্তিপূর্ণ নগরী। শাহ্‌ মখদুমের পবিত্র মাটি এই রাজশাহী। আবার দেশের প্রথম শহীদ বুদ্ধিজীবী শামসুজ্জোহার রক্তে সিক্ত। আন্দোলন, সংগ্রামের সূতিকাগার রাজশাহীতে জনগণের রায়কে লুট করে নেয়ার অশুভ চক্রান্ত বাস্তবায়ন হতে দেয়া হবে না।’

শুরু থেকেই রাজশাহী সিটি করপোরশেন নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না বলে আশঙ্কার কথা জানাচ্ছে বিএনপি। অন্যদিকে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী আছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ প্রার্থী খায়রুজ্জামান লিটন বলছেন, জনগণ এখন সচেতন, তারা উন্নয়ন চাই। উন্নয়নের জন্য সবাই নৌকা প্রতীকে ঐক্যবদ্ধ। প্রায় ৭০ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
গতকাল দুপুরে রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জমা শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, মহানগর সভাপতি ধানের শীষের মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, মহানগর সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন ও প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট জেলার সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন তপু। উপস্থিত ছিলেন মহানগর যুবদলের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সুইট, সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম সমাপ্তসহ বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

এদিকে শেষ পর্যন্ত ১৩৮ ভোট কেন্দ্রের মধ্যে আওয়ামী লীগ প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ১১৪টি ভোট কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখছেন আর বিএনপি প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল দেখছেন ৫৩ কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ। এসব ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেয়ার কথা বলা হচ্ছে।
বিজিবি-১ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শামীম মাসুদ আল ইফতেখার বলেন, সিটি নির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ১৯ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবি সদস্যরা শনিবার থেকেই রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে টহল দিচ্ছে। এরা টহল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মাঠে কাজ করবে।

র‌্যাব-৫ অধিনায়ক আশরাফুল ইসলাম বলেন, এই নির্বাচন উপলক্ষে তাদের প্রায় ৪০০ সদস্য মাঠে কাজ করবে। মহানগর পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইফতেখায়ের আলম বলেন, বিজিবি র‌্যাবের পাশাপাশি পুলিশের ৩০০০ সদস্য মাঠে ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশ সব সময় সজাগ আছে এবং থাকবে। প্রত্যেক স্পেশাল বাহিনী আগামীকাল পর্যন্ত মাঠে থাকবে।

রাজশাহীতে এবারেই প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে দুইটি আলাদা কেন্দ্রে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ করা হবে। সিটির ২২ নম্বর ওয়ার্ডের বোয়ালিয়া মডেল থানার পাশে হিন্দু একাডেমি কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখানে ১৬৩৭ পুরুষ ভোটার এবং ১৭৪৬ নারী ভোটার এই নতুন পদ্ধতিতে ভোট প্রদান করবেন।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্তকর্তা আতিয়ার রহমান জানান, ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট দেয়ার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্তদের আলাদাভাবে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। তিনি আশা করেন নতুন এই পদ্ধতিতে ভোট প্রদানে ভোটারদের সমস্যা হবে না।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

‘বুলবুলের ২৪ এজেন্ট নিখোঁজ’

Update Time : ০৬:২৮:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ জুলাই ২০১৮

জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: ভোটের আগের দিন বিএনপির ২৪ জন পোলিং এজেন্ট নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ করেছেন দলটির প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। গতকাল এজেন্ট নিখোঁজ হওয়াসহ ৫০টি অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। দুপুর ১২টায় বিএনপি ২০ দলীয় প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট অ্যাডভোকেট তোফাজ্জল হোসেন রিটার্নিং অফিসার বরাবরে শেষ অভিযোগটি জমা দেন। তফসিল ঘোষণার পর ধানের শীষের নেতাকর্মীদের বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেপ্তার, সবশেষে পোলিং এজেন্টদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হামলা, পরিবারবর্গকে হুমকি, মা-বাবা-ছেলে-নিকট আত্মীয়দের থানায় আটকে রাখার অভিযোগ তুলেন বিএনপি প্রার্থী বুলবুল। সকাল সাড়ে ৭টার ভেতর পোলিং এজেন্টকে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছানো নিশ্চিত করেই তিনি নির্বাচনের ময়দানে অবস্থান নিবেন।

এ সময় মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল নেতাকর্মীদের নিয়ে কাফনের কাপড় বেঁধে ভোটের মাঠে থাকার ঘোষণা দেন। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য বিএনপি প্রস্তুত। ইতিমধ্যে ১৭টি নির্দেশনা সম্বলিত একটি লিফলেট পোলিং এজেন্টদের দেয়া হয়েছে। সেখানে সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্য আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর সঙ্গে নিয়ে ব্যালট পেপার জোর করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ডাকাত, ডাকাত বলে চিৎকার করে বাইরে খবর পাঠানোর নির্দেশনা, গণনার সময় নৌকার ৮০টি ব্যালট পেপার ১০০ এবং ধানের শীষের ১২০টি ব্যালট পেপার ১০০ হিসাবে গণনা করার চেষ্টা হবেও বলে সতর্ক করা হয়।

প্রচারণার শেষদিন রাত পৌনে ১২টার দিকে ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বোর্ডঘর কাঠমিলের কাছে ৪০০-৫০০ জন অচেনা যুবকসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের জটলা দেখতে পান বিএনপি মহানগর সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন। মহানগর বিএনপি সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, ধানের শীষ প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলসহ যখন নির্বাচনে প্রচারণা শেষ করে ফিরি তখন ওই জটলা স্বচক্ষে দেখেছি। তারা ভূরিভোজের আয়োজন করেছে। আর ভেতরে আরো কি হচ্ছে তা দেখা না গেলেও বুঝতে পারছি।’ যুবলীগ-আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ-সাদা পোশাকের পুলিশ বাহিনী একসঙ্গে কখনো আবার আলাদা আলাদা বিভিন্ন পোলিং এজেন্টের বাড়িতে গিয়ে হুমকি দিচ্ছে। রাত থেকে আমরা ২৩-২৪ জন পোলিং এজেন্টের কোনো খোঁজ পাচ্ছি না। এরপরও ভোটে আছি, আন্দোলনের টার্নিং পয়েন্ট হিসেবেই দেখা হচ্ছে। জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে এবারের স্থানীয় নির্বাচন গুরুত্ব বহন করছে।’

বিএনপির পক্ষ অভিযোগের পর অভিযোগ জমা পড়েছে নির্বাচন কমিশনে। তবে উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। দুপুর ১২টায় প্রিজাইডিং অফিসারদের তালিকা বিএনপি প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের হাতে তুলে দেয়ার কথা ছিলো। কিন্তু সে জায়গায়ও নানা টালবাহানা করছেন বলে অভিযোগ তুলেছে বিএনপি।

বিএনপি প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট অ্যাডভোকেট তোফাজ্জল হোসেন তপু বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন প্রত্যক্ষভাবে সরকারের আজ্ঞাবহ হয়ে কাজ করছে। ২৪ ঘণ্টা আগে আমরা প্রিজাইডিং অফিসারের গেজেট চেয়েছিলাম যাতে কোনো আপত্তি থাকলে তা তুলে ধরা যায়। কিন্তু তা না করে গতকাল দুপুর ১২টায় সময় দেয়। কিন্তু এসে দেখলাম তারা কেউ অফিসে নেই।’
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ‘দুঃখ ভারক্রান্তভাবে বলতে বাধ্য হচ্ছি, নির্বাচন কমিশন অথর্ব অকার্যকর হয়ে পড়েছে। আমরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচনের মাধ্যমে বিজয় নিশ্চিত করতে চাই। উপমহাদেশের মধ্যে শান্তিপূর্ণ নগরী। শাহ্‌ মখদুমের পবিত্র মাটি এই রাজশাহী। আবার দেশের প্রথম শহীদ বুদ্ধিজীবী শামসুজ্জোহার রক্তে সিক্ত। আন্দোলন, সংগ্রামের সূতিকাগার রাজশাহীতে জনগণের রায়কে লুট করে নেয়ার অশুভ চক্রান্ত বাস্তবায়ন হতে দেয়া হবে না।’

শুরু থেকেই রাজশাহী সিটি করপোরশেন নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না বলে আশঙ্কার কথা জানাচ্ছে বিএনপি। অন্যদিকে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী আছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ প্রার্থী খায়রুজ্জামান লিটন বলছেন, জনগণ এখন সচেতন, তারা উন্নয়ন চাই। উন্নয়নের জন্য সবাই নৌকা প্রতীকে ঐক্যবদ্ধ। প্রায় ৭০ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
গতকাল দুপুরে রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জমা শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, মহানগর সভাপতি ধানের শীষের মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, মহানগর সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন ও প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট জেলার সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন তপু। উপস্থিত ছিলেন মহানগর যুবদলের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সুইট, সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম সমাপ্তসহ বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

এদিকে শেষ পর্যন্ত ১৩৮ ভোট কেন্দ্রের মধ্যে আওয়ামী লীগ প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ১১৪টি ভোট কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখছেন আর বিএনপি প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল দেখছেন ৫৩ কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ। এসব ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেয়ার কথা বলা হচ্ছে।
বিজিবি-১ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শামীম মাসুদ আল ইফতেখার বলেন, সিটি নির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ১৯ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবি সদস্যরা শনিবার থেকেই রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে টহল দিচ্ছে। এরা টহল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মাঠে কাজ করবে।

র‌্যাব-৫ অধিনায়ক আশরাফুল ইসলাম বলেন, এই নির্বাচন উপলক্ষে তাদের প্রায় ৪০০ সদস্য মাঠে কাজ করবে। মহানগর পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইফতেখায়ের আলম বলেন, বিজিবি র‌্যাবের পাশাপাশি পুলিশের ৩০০০ সদস্য মাঠে ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশ সব সময় সজাগ আছে এবং থাকবে। প্রত্যেক স্পেশাল বাহিনী আগামীকাল পর্যন্ত মাঠে থাকবে।

রাজশাহীতে এবারেই প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে দুইটি আলাদা কেন্দ্রে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ করা হবে। সিটির ২২ নম্বর ওয়ার্ডের বোয়ালিয়া মডেল থানার পাশে হিন্দু একাডেমি কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখানে ১৬৩৭ পুরুষ ভোটার এবং ১৭৪৬ নারী ভোটার এই নতুন পদ্ধতিতে ভোট প্রদান করবেন।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্তকর্তা আতিয়ার রহমান জানান, ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট দেয়ার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্তদের আলাদাভাবে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। তিনি আশা করেন নতুন এই পদ্ধতিতে ভোট প্রদানে ভোটারদের সমস্যা হবে না।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ