রাজনৈতিক চাপের কথা প্রধানমন্ত্রীকে বললেন ডিসিরা
- Update Time : ০৩:১০:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ জুলাই ২০১৮
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: রাজনৈতিক চাপে জেলা প্রশাসক (ডিসি)দের নাভিশ্বাস অবস্থা। এছাড়া চাঁদাবাজ এবং টেন্ডারবাজরাও বেপরোয়া। তাদের ঠেকাতে গেলে কর্মকর্তাদের হেনস্তার শিকার হতে হয়। মাঠ প্রশাসনে কাজ করতে গিয়ে নিজেদের যেসব সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়, সেসব সমস্যার কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরলেন ডিসিরা। এসব বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সামনে খোলাখুলিভাবে কথা বললেন ১৭ জন ডিসি। দুই জন বিভাগীয় কমিশনার ও সাত জন ডিসি’র সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মন বেশ ভালো ছিল। বেলা ১২টা ৫০ মিনিট থেকে ২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সেশনে খোলাখুলিভাবে ডিসিদের কাছে তাদের সমস্যা ও অভিজ্ঞতার কথা জানতে চান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় ডিসিরা সংক্ষেপে তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন। ওই সময় রাজনৈতিক চাপসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন মাঠ প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্মকর্তারা। এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভাগীয় কমিশনার ও ৬৪ জেলার ডিসিদের উদ্দেশ্যে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূলে জেলা প্রশাসকদের কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেন। বলেন, এসব কাজে কোনো বাধা এলে প্রয়োজনে সরাসরি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। শেখ হাসিনা বলেন, শিল্পাঞ্চলে শান্তি রক্ষা, পণ্য পরিবহন ও আমদানি-রপ্তানি নির্বিঘ্ন করা এবং চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, পেশিশক্তি ও সন্ত্রাস নির্মূল করার ব্যবস্থা নিতে হবে জেলা প্রশাসকদের। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে আমি বলতে চাই, বিনা দ্বিধায় আপনারা এই টেন্ডারবাজি, পেশিশক্তি, সন্ত্রাস, মাদক এগুলো নির্মূল করবেন। এখানে কে কোন দল করে, কে কি করে- ওগুলো দেখার কোনো দরকার নেই। যদি কেউ বাধা দেয়, আমি এটুকু বলতে পারি, আমি সরকারপ্রধান হতে পারি, কিন্তু আমি জাতির পিতার কন্যা, আপনারা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। আমার অফিসে যোগাযোগ করতে পারবেন। বাধা এলে আমরা দেখবো। সারা দেশের সব জেলা থেকে আসা ডিসি ছাড়াও মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, সন্ত্রাস নির্মূলের বাইরেও ডিসিদের ২২ দফা নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসকদের ঔপনিবেশিক মানসিকতা পরিহার করে সেবার মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি সরকারের নেয়া উন্নয়ন প্রকল্পগুলো যাতে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয়, সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। উন্নয়নের জন্য গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা একান্ত প্রয়োজন। একমাত্র গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাই পারে একটি দেশের আর্থসামাজিক উন্নতি নিশ্চিত করতে, যা আমরা প্রমাণ করেছি। দেশের সম্পদ কাজে লাগিয়ে দারিদ্র্যকে জয় করতে হবে। তৃণমূলে মানুষের সমস্যা সমাধানে উদ্ভাবনী কৌশল কাজে লাগাতে হবে। শেখ হাসিনা বলেন, জনগণের কল্যাণে সরকারের গৃহীত কার্যক্রম জেলা প্রশাসকরাই মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন করেন। আমরা যতই পরিকল্পনা করি, কিন্তু বাস্তবায়নের দায়িত্ব জেলা প্রশাসকদেরই। এবার প্রায় দুই লাখ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী এর সঠিক বাস্তবায়নে ডিসিদের মনোযোগী হতে বলেন। একই সঙ্গে ২০২১ থেকে ২০৪১ সাল পর্যন্ত প্রেক্ষিত পরিকল্পনা প্রণয়নে জেলা প্রশাসকদের মতামত দেয়ার আহ্বান জানান তিনি। আওয়ামী লীগ সরকার দেশকে এগিয়ে নেয়ার প্রত্যয়ে ক্ষমতায় এসেছে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী সব উন্নয়ন প্রকল্প যাতে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে ডিসিদের নির্দেশ দেন। এছাড়া দেশের জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দূর করতেও ডিসিদের নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, যুবসমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। মাদকবিরোধী অভিযান যেটা চলমান, অব্যাহত থাকবে। এছাড়া, সরকারি সেবা পেতে সাধারণ মানুষ যাতে কোনোভাবেই হয়রানি বা বঞ্চনার শিকার না হয়, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও সামপ্রদায়িকতা দূর করে সর্বক্ষেত্রে শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ডিসিদের নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে বলেন প্রধানমন্ত্রী। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তির উন্নয়ন ও বিকাশ ঘটাতেও জেলা প্রশাসকদের উদ্যোগী হতে হবে। তৃণমূল পর্যায়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে কাজ করতে হবে। ভেজাল খাদ্য প্রতিরোধে ব্যাপক গণসচেতনতা সৃষ্টি এবং এ ধরনের ‘অনৈতিক কর্মকাণ্ড’ কঠোর হাতে দমনের নির্দেশ দেন তিনি। সাধারণ মানুষ যাতে সহজে সুবিচার পায় এবং আদালতে যাতে মামলার জট কমে আসে, সে জন্য গ্রাম আদালতগুলোকে আরো কার্যকর করার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জেলা প্রশাসকরা জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এসব কমিটিকে সক্রিয়, গতিশীল ও ফলপ্রসূ করতে হবে। সরকারি দপ্তরগুলোর বিদ্যমান সেবা তৃণমূলে পৌঁছানোর জন্য তথ্য মেলা, সেবা সপ্তাহ পালনের মতো কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। বাজারব্যবস্থার সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করতে হবে। বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। ভিক্ষুক পুনর্বাসন এবং স্কুলে মিড ডে মিল চালুর ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকদের উদ্যোগের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। সেইসঙ্গে যেসব স্কুলে এখনো মিড ডে মিল চালু হয়নি তা বাস্তবায়নের তাগিদ দেন। শেখ হাসিনা ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং ২০২১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উৎসবের প্রস্তুতি নেয়ার কথা বলেন। তিনি বলেন, সরকার রাজধানী ও দেশের বড় শহরগুলোর মধ্যে বুলেট ও দ্রুত গতির ট্রেন চালুর পরিকল্পনা করেছে। প্রতিটি গ্রামের মানুষ যাতে সব নাগরিক সুবিধা পায়, সে পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম। অন্যদের মধ্যে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। এছাড়া সম্মেলনে আসা কর্মকর্তাদের মধ্যে নওগাঁ, চুয়াডাঙ্গা, মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক এবং রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন। তিন দিনের এ সম্মেলন আগামীকাল পর্যন্ত চলবে।



























