জগন্নাথপুরে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রিয়মুখ ইমু’র অকাল মৃত্যুতে বিভিন্ন মহলের শোক প্রকাশ
- Update Time : ০১:২৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ জুলাই ২০১৮
- / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
কলি বেগম :: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রিয়মুখ ও তরুণ সংবাদকর্মী তানভীর আহমদ ইমু (১৯) আর নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন। সে জগন্নাথপুর বাজারের ঘড়ি ব্যবসায়ী আবদাল মিয়ার ছেলে। তাদের গ্রামের বাড়ি দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার সিচনী গ্রামে।
জানাগেছে, ১০জুলাই মঙ্গলবার হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হলে ইমুকে সিলেট নর্থইষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১১ জুলাই বুধবার সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। এ সময় ওসমানীতে যাওয়ার পথে ইমুর মৃত্যু হয়।
এদিকে-ইমুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে জগন্নাথপুর উপজেলার সর্বত্র শোকের ছায়া নেমে আসে। বিকেল ৫ টার দিকে জগন্নাথপুর পৌর সদরের শহীদ মিনারে ইমুর মৃতদেহ রাখা হলে ইমুকে শেষবারের মতো এক নজর দেখতে হাজারো শোকার্ত নারী-পুরুষের ঢল নামে। সন্ধ্যা ৭ টার দিকে ইমুর নানা বাড়ি উপজেলার চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের রসুলপুর নোয়াপাড়া গ্রামে নামাজে জানাজা শেষে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এতে কয়েক হাজার শোকার্ত জনতা অংশ গ্রহন করেন।
জানাযায়, তানভীর আহমদ ইমু একজন ভাল মানের তরুণ অভিনেতা ছিলেন। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অবলম্বনে প্রয়াত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মানস রায় রচিত“সিংহাসন” নাটকের জমিদার চরিত্রে অভিনয় করে ইমু দেশ ব্যাপী ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছিল। নাটকটি বিটিভি সহ বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচারিত হয় এবং পুরস্কার লাভ করে। এছাড়া ভদ্র ছেলে হিসেবে ইমু এলাকায় ব্যাপক সমাদিত। ইমুকে নিয়ে তার পিতা আবদাল মিয়া সহ তার পরিবারের অনেক স্বপ্ন ছিল। বিধির নির্মম নিয়তি সবাইকে মেনে নিতে হবেই। পিতা-মাতা, আত্বীয়স্বজন সহ সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেল সকলের প্রিয় ইমু। তাঁর অকাল মৃত্যু যেন কেউ মেনে নিতে পারছেন না। তাই প্রিয়জনদের আহাজরীতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।
এদিকে-সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রিয়মুখ তরুণ অভিনেতা ও সংবাদকর্মী তানভীর আহমদ ইমুর অকাল মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান, সুনামগঞ্জ জেলা আ.লীগের সহ-সভাপতি ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ সিদ্দিক আহমদ, জগন্নাথপুর উপজেলা আ.লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আকমল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রিজু, জগন্নাথপুর উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আতাউর রহমান, জগন্নাথপুর পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব আবদুল মনাফ, প্যানেল মেয়র-২ সুহেল আহমদ, উপজেলার চিলাউড়া-হলদিপুর ইউপি চেয়ারম্যান আরশ মিয়া, আশারকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আবু ইমানী, লন্ডন জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক শাহ শাহীদুর রাহমান, জগন্নাথপুর উপজেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সভাপতি যুক্তরাজ্য প্রবাসী রমজান আলী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সুনামগঞ্জ জেলা জাপা নেতা ডা.আছকির খান, জগন্নাথপুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি আফছর উদ্দিন ভূইয়া, বাজার সেক্রেটারি জাহির উদ্দিন, সহ-সেক্রেটারি জুনেদ আহমদ ভূইয়া, জগন্নাথপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের পক্ষে প্রেসক্লাব উপদেষ্টা ও জগন্নাথপুর অনলাইন প্রেসক্লাব সভাপতি ওয়াহিদুর রহমান ওয়াহিদ, জগন্নাথপুর উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি ডা.নয়ন রায়, সাধারণ সম্পাদক মো.শাহজাহান মিয়া, জগন্নাথপুর পত্রিকার সম্পাদক ইয়াকুব মিয়া, যুগ্ম-সম্পাদক হিফজুর রহমান তালুকদার জিয়া, সাহিত্য সম্পাদক মিছলুর রহমান, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মীরজাহান মিজান, কলি বেগম, আফজাল মিয়া প্রমূখ। এছাড়া পৃথকভাবে বিবৃতি দিয়েছেন জগন্নাথপুর সামাজিক ঐক্য পরিষদের সমন্বয়কারী (নির্বাহী) হাজী সোহেল আহমদ খান টুনু, সংবাদকর্মী সাদিকুর রাহমান, ব্যবসায়ী সুমন মিয়া। বিবৃতিদাতারা শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে হতভাগ্য তানভীর আহমদ ইমুর রূহের মাগফেরাত কামনা করেন।


























