জগন্নাথপুরে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল ও প্রি-পেইড মিটার লাগানোর হুমকিতে গ্রাহকদের প্রতিবাদ সমাবেশ
- Update Time : ০৪:৩১:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ জুলাই ২০১৮
- / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
ইয়াকুব মিয়া :: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে বিদ্যুৎ অফিসের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের পক্ষথেকে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের একাধিক অভিযোগে বিদ্যুৎ বিল ও প্রি-পেইড মিটার লাগানোর হুমকি ও গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল নিয়ে হয়রানির প্রতিবাদে বিদ্যুৎ গ্রাহকরা প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন।
গ্রাহকদের অভিযোগের ভিক্তিতে যানাযায়, উপজেলার বিদ্যুৎ অফিস কর্তৃক গ্রহকদের বিল বৃদ্ধিকরণ, পরিশোধিত বিল পরবর্তী মাসের বিলে পূণরায় সংযুক্ত করণ এবং প্রি-পেইড মিটার বাধ্যতামূলক সংযুক্ত করতে গ্রাহকদের বিভিন্নভাবে ভূগান্তি ও হয়রানির করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ অফিস কর্তৃক ভূগান্তি ও হয়রানির শিকার হয়ে গ্রাহকদের পক্ষথেকে শনিবার সন্ধাপর উপজেলার সৈয়দপুর বাজারে প্রতিবাদ সভা সৈয়দপুর গ্রামের সভাপতি ও সৈয়দপুর বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি বিশিষ্ট সালিশি ব্যক্তিত্ব আলহাজ্ব সৈয়দ মদচ্ছির আলী (মাজন সাহেবের) সভাপতিত্বে অায়োজন করা হয় প্রতিবাদে গ্রাহক সমাবেশ।
প্রতিবাদ গ্রাহক সমাবেশে ভূক্তভোগি গ্রাহকদের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ অফিসের বিভিন্ন দূর্নীতির ব্যখ্যা দিতে গিয়ে বক্তারা বলেন, প্রায় ৩০/৩২ বছর পূর্বে সৈয়দপুর গ্রামের জনগণ তাদের নিজস্ব অর্থায়নে গ্রামের কিছু অংশে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করেন এবং পর্যায়ক্রমে প্রায় সকল ঘরে ঘরে বিদ্যুতের আলো ছড়িয়ে পড়ে। কয়েক বছর বিদ্যুতের আলো পরিপূর্ণভাবে পাওয়া গেলেও প্রায় ১০/১২ বছর বিদ্যুতের আলো পেতে ফেইজ টু ফেইজ মাধ্যমে, ধনীগণ ভলটেজারের মাধ্যমে অথবা জেনারেটরের মাধ্যমে আলোর ব্যবস্থা করেন। বিদ্যুৎ উন্নয়নে সরকারের মহত উদ্যোগ এবং স্থানীয় এমপি অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান এর সার্বিক সহযোগিতায় জগন্নাথপুরের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের পর্যাপ্ত আলো পেয়ে একটু স্বস্তি নিতে না নিতেই স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিস মাধ্যমে বাধ্য করা হয় গ্রাহকদের নিজ খরছে ডিজিটাল মিটার সংযোগ করতে। প্রায় সকল গ্রাহক ডিজিটাল মিটার সংযোগ চালু করলে পূনরায় সবুজ মিটার লাগাতে নির্দেশ প্রদান করলে অসহায় গ্রাহকবৃন্দ অফিসের নির্দেশ মেনে নিয়ে দ্বিতীয়বার মিটার লাগাতে কোন আপত্তি করেননি। এর কিছুদিন যেতে না যেতেই আবারও অফিস কর্তৃপক্ষ গ্রাহকের উপর চাপিয়ে দেন প্রিপেইড মিটার সংযোগের জন্য। শুধু চাপানো নয়, গ্রাকদের অবগতিতে কোন নোটিশ বা পত্র না দিয়ে, কোন গ্রাহক সমাবেশের আয়োজন না করে শুরু করেন প্রিপেইড মিটার সংযোগ আন্দোলন। অতি উৎসাহী উপজেলা প্রকৌশলী অফিসার আজিজুল ইসলাম আজাদ এবং ইঞ্জিনিয়ার পাবেল জগন্নাথপুর উপজেলার বিশেষ করে উপজেলার ধনী এলাকা হিসেবে পরিচিত ৭নং সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়নকে টার্গেট করে প্রিপেইড মিটার সংযোগ চালু করতে পরিকল্পিতভাবে কার্যক্রম হাতে নেন। মিটার সংযোগের কাজটি বাস্তবায়ন করতে এবং গ্রাহকদেরকে মিটার সংযোগে বাধ্য করতে শুরু করেন ২০% বিল বৃদ্ধি করণ। এমনিভাবে পর পর প্রতি মাসে প্রায় সকল গ্রাহকদের বিলে অতিরিক্ত টাকা বৃদ্ধি করে বিল প্রদান করা হয়। অনেক গ্রাহকদের বিলে ‘ই’ সংকেত দিয়ে ইষ্টিমিট বিল প্রদান করা হয়। অনেককে তার মিটার নষ্ট হয়েছে বলে ঘোষণা করেও কার্ড মিটার লাগাতে বাধ্য করা হয়। আবার অনেক গ্রাহকের পরিশোধীত বিল পরবর্তী মাসের বিলে সংযোগ করে পূণরায় বিল প্রদান করা হয়। গ্রাহকবৃন্দ অফিস কর্তৃপক্ষ বরাবর বিষয়টি জানতে চাইলে এবং পরিশোধিত বিল দেখিয়ে এর কারণ বুঝতে সরাসরি অফিসে যোগাযোগ করলে কর্তৃপক্ষ বলেন ‘এটা কোন বিষয় নয়, আপনি প্রিপেইড মিটার সংযোগ করেন, সব সমস্যা সমাধান করা হবে, সংযোজিত অতিরিক্ত বিল কর্তন করে দেয়া হবে।’
গ্রাহকবৃন্দের পক্ষ থেকে এসব নির্যাতন এবং অন্যায়ভাবে হয়রানি থেকে রেহাই পেতে প্রধান প্রকৌশলী অফিসার সিলেট অঞ্চল বরাবরে আবেদন প্রদান করা হয়। প্রধান প্রকৌশল অফিসার-এর সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করতে এবং আবেদনত্র জমা দিতে ৭নং সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব সৈয়দ লাল মিয়ার নেতৃত্বে একটি টিম সিলেট যান। প্রধান প্রকৌশলী অফিসার অফিসে না থাকায় বিতরণ বিভাগ সিলেট আঞ্চলিক অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে দেখা করে বিষয়টি মৌখিকভাবে অবগতি ও লিখিত আবেদনপত্র প্রদান করা হয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গ্রাহক প্রতিনিধিদের সামনেই তাৎক্ষণিক উপজেলা বিদ্যুৎ অফিসারের সাথে ফোনে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করেন এবং এরকম কাজ থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেন এবং প্রিপেইড মিটার সংযোগ বিষয়ে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ গ্রাহকবৃন্দের সাথে আলাপ আলোচনা করে সমঝোতার মাধ্যমে জটিলতা সমাধান করতে নির্দেশ প্রদান করেন।
এদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে বিষয়টি অবগতি করলে তিনি বিদ্যুৎ প্রকৌশলী অফিসারকে তাঁর অফিসে ডেকে এনে বিল বৃদ্ধি এবং পরিশোধিত বিল পূনরায় সংযুক্ত না করতে এবং প্রিপেইড মিটারের বিষয়ে ৭নং সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এবং এলাকার গণ্যমান্য গ্রাহকদের নিয়ে বিষয়টি আলোচনা করে পরবর্তী কার্যক্রমে অগ্রসর হতে বলেন।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে, উপজেলা বিদ্যুৎ অফিসার কোন কথায় কর্ণপাত না করে তার কার্যক্রমের গতি আরও বৃদ্ধি করে গ্রাহকদের বাড়ী বাড়ী মিটার পাঠিয়ে বসানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এরই প্রেক্ষিতে সৈয়দপুর এলাকার গ্রাহকবৃন্দের পক্ষ থেকে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর ‘তথ্য অধিকার আইন-২০০৯ এর ধারা ৮ এবং তথ্য অধিকার (তথ্য প্রাপ্তি সংক্রান্ত) বিধিমালা, ২০০৯ এর বিধি ৩ এবং বিধিমালার তফসীলের ফরম ‘ক’ অনুসারে ৬ ধরণের তথ্য চেয়ে তথ্য প্রাপ্তির অাবেদন পত্র জমা করা হয়েছে বিষয়টি সকলকে অবহিত করা হয়।
সভায় উপজেলা বিদ্যুৎ প্রকৌশলী অফিসার কর্তৃক এসব কার্যক্রমের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে ইউনিয়নবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে গ্রাহকদের সাথে হয়রানিমূলক অাচরণের বিরুদ্ধে নিয়মতান্ত্রিকভাবে অান্দোলনসহ অাইনী ব্যবস্থা নিতে উপস্থিত সকলেই একমত পোষণ করেন।
গ্রাহকদের প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের সদস্য ও জগন্নাথপুর উপজেলা অাওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি সৈয়দ সাবির মিয়া, অালহাজ্ব মো. অাব্দুল কাইয়ুম, বিশিষ্ট কমিনিটি নেতা সৈয়দ নূরুল ইসলাম দুলু, অধ্যক্ষ হাফিজ মাওলানা সৈয়দ রেজওয়ান অাহমদ, অধ্যক্ষ এডভোকেট মোঃ অাব্দুর রহমান, প্যানেল চেয়ারম্যান সৈয়দ লিলু মিয়া, সৈয়দ অালী অাহমদ দুলা, সৈয়দ ফরিদ অাহমদ, মাওলানা সৈয়দ মুনসিফ অালী, সৈয়দ মোসাব্বির অাহমদ, সৈয়দ খায়রুল ইসলাম, সৈয়দ অাকবর অালী প্রমূখ।
সভায় ৭ জুলাই সোমবার ৭নং সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কর্তৃক উপজেলার বিদ্যুৎ অফিসার কর্তৃপক্ষ ও এলাকার গণ্যমান্য গ্রাহকবৃন্দের যৌথ বৈঠক এবং উপযুক্ত ও গ্রহণযোগ্য সুরাহার অপেক্ষা করতে উপস্থিত সকলকে অনূরুধ করা হয়। এবং বৈঠকের পূর্ব পর্যন্ত অত্র এলাকায় কার্ড মিটারের কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ রাখার ব্যবস্থা গ্রহণে প্যানেল চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেয়া হয়। অাগামী ১০ জুলাই সৈয়দপুর সাধারণ পাঠাগারে বাদ মাগরিব পরবর্তী সভার তারিখ ধার্য্য করা হয়।


























