স্বর্ণের ডিলার নিয়োগ দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক
- Update Time : ০১:১৪:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ মে ২০১৮
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদিত ডিলারদের মাধ্যমে স্বর্ণ আমদানির বিধান রেখে ‘স্বর্ণ নীতিমালা-২০১৮’ নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এটি
চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
গতকাল বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশে কোনো স্বর্ণ নীতিমালা ছিল না। ফলে এ খাতে নানা ধরনের সমস্যা হচ্ছিল। এ ছাড়া অবৈধ পথে স্বর্ণ আসছিল। এসব ব্যবস্থা একটি নিয়মের আওতায় আনার জন্য স্বর্ণ নীতিমালা প্রণয়ন করা হলো। এখন বৈধভাবে স্বর্ণ আমদানি করে এ দেশের ব্যবসায়ীরা তার সঙ্গে মূল্য সংযোজন করে বিদেশে রপ্তানি করতে পারবেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, স্বর্ণ আমদানিতে তেমন ট্যাক্স হবে না। তবে এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে লাইসেন্স নিতে হবে। লাইসেন্স ফি কত হবে, সেটা বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারণ করবে।
নীতিমালায় বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদিত ডিলার সরাসরি স্বর্ণের বার আমদানি করতে পারবে। তবে স্বর্ণের বার ছাড়া কোনো স্বর্ণালঙ্কার বা অন্য কোনো ফর্মে স্বর্ণ আমদানি করতে পারবে না ডিলার। স্বর্ণের বার আমদানির সময় ডিলার বন্ড সুবিধা নিতে পারবে। সে ক্ষেত্রে স্বর্ণের বার আমদানি করাতে অনুমোদিত ডিলারকে আবশ্যিকভাবে আমদানি নীতি আদেশ এবং কাস্টমস অ্যাক্টের বিধানাবলি অনুসরণ করে বন্ড লাইসেন্স গ্রহণ করতে হবে। আর এসব ডিলার স্বর্ণালঙ্কার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে স্বর্ণের বার বিক্রি করবে।
নীতিমালায় আরও বলা হয়, নিবন্ধিত বৈধ স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা স্বর্ণালঙ্কার রপ্তানিকারক সনদ নিতে পারবে। স্বর্ণালঙ্কার রপ্তানি উৎসাহিত করতে স্বর্ণালঙ্কার তৈরির কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে রেয়াতসহ বিভিন্ন প্রকারের প্রণোদনামূলক বিশেষ সহায়তা দেওয়া হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকে দেশের স্বর্ণ খাতসংশ্লিষ্ট একটি কেন্দ্রীয় তথ্যভা-ার প্রতিষ্ঠা করা হবে। এতে বার্ষিক চাহিদা, আমদানি, রপ্তানি, ক্রয়-বিক্রয়, দোকান সংখ্যা, রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ, বাজেয়াপ্তকৃত স্বর্ণের পরিমাণ, নিলামে স্বর্ণ বিক্রির পরিসংখ্যান ইত্যাদি বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
নীতিমালায় পুরনো স্বর্ণ কেনাবেচায় স্বচ্ছতা আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, গ্রাহকের কাছ থেকে রিসাইকেলড (পুরনো) স্বর্ণ ক্রয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বিধানের লক্ষ্যে ওই গ্রাহক/বিক্রেতার জাতীয় পরিচয়পত্র/পাসপোর্টের কপি এবং পূর্ণাঙ্গ যোগাযোগের ঠিকানা সংরক্ষণ করতে হবে।
স্বর্ণ কীভাবে ও কারা ক্রয় করতে পারবেÑ এ বিষয়ে নীতিমালার ২(৭)-এ বলা হয়েছে। এডি ব্যাংক সাইট ঋণপত্র, ডেভার্ড ঋণপত্র (৯০ দিনের মধ্যে বিলম্বে মূল্য পরিশোধের শর্তে), চুক্তি বা টিটি কিংবা কনসাইনমেন্ট ভিত্তিতে স্বর্ণবার ক্রয় করতে পারবে। স্বর্ণবার ক্রয় করতে পারবে ভ্যাট কমিশনারেট নিবন্ধিত প্রকৃত স্বর্ণালঙ্কার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী ও ডিলার। তবে স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও স্বর্ণালঙ্কার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানকে একই সঙ্গে গোল্ড প্রকিউরমেন্ট, স্টোরেজ ও ডিস্ট্রিবিউশন আদেশ, ১৯৮৭-এর আওতায় জেলা প্রশাসকের কাছে লাইসেন্সপ্রাপ্ত হতে হবে। একই সঙ্গে ওই সবাইকে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধিত ব্যবসায়ী সমিতির বৈধ সদস্য হতে হবে। আর স্বর্ণালঙ্কার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বর্ণবারের চাহিদা এডি ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী কমপক্ষে ১৫ দিন আগে দিতে হবে। চাহিদাপত্র দাখিলকালে নিরাপত্তা জামানত হিসেবে ক্রয়তব্য পরিমাণ স্বর্ণবারের সে সময়ের বাজারমূল্যের কমপক্ষে ৫ শতাংশ জামানত হিসেবে এডি ব্যাংকে জমা দিতে হবে। এডি ব্যাংক স্বর্ণবার বিক্রয়ের সময়ে আবশ্যিকভাবে স্বর্ণালঙ্কার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী ও ডিলার কর্তৃক পূর্ববর্তী বছরগুলো মোট স্বর্ণালঙ্কার বিক্রয়ের পরিমাণ, সরকারি রাজস্ব পরিশোধ, স্বর্ণের প্রকৃত মজুদ, রেকর্ডপত্র ও হিসাব বিবরণীর স্বচ্ছতা ইত্যাদি যাচাই করবে। এডি ব্যাংক প্রয়োজনে ভ্যাট কমিশনারেটের সহযোগিতায় যাচাই প্রতিবেদন ভ্যাট কমিশনারেটকে প্রদান করবে। স্বর্ণবার বিক্রয়ের সময়ে প্রযোজ্য শুল্ক করাদি আদায় করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা প্রদান করবে।
অনিয়মে আইনগত ব্যবস্থার বিষয়ে ২(১২) ধারায় বলা হয়েছে, নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানকে এনবিআরের ভ্যাট কমিশনারেট নিয়মিত পরিদর্শন করতে পারবে। পরিদর্শনে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ভ্যাট নিবন্ধন বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।
নীতিমালায় স্বর্ণের মান প্রণয়ন, যাচাই ও নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলা হয়েছে, সরকার স্বর্ণের জন্য নিজস্ব মান প্রণয়ন করবে। স্বর্ণের মান যাচাই ও বিশুদ্ধ স্বর্ণের পরিমাণ যাচাই নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ল্যাবটেস্ট, ফায়ার টেস্ট বা হলমার্ক টেস্ট সুবিধাসহ পরীক্ষাগার প্রতিষ্ঠা করবে। এই পরীক্ষাগারকে বাংলাদেশের অ্যাক্রিডিটেশন বোর্ড বা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান থেকে অ্যাক্রিডিটেশন গ্রহণ করতে হবে। স্বর্ণ ও স্বর্ণালঙ্কারের মান সুনিশ্চিত করার জন্য সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে হলমার্ক ব্যবস্থা চালু করতে হবে। স্বর্ণ ও স্বর্ণালঙ্কার কেনাবেচার ক্ষেত্রে হলমার্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক হবে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নিয়ম অনুযায়ী স্বর্ণ ও স্বর্ণালঙ্কারে খাদের পরিমাণ সুনির্দিষ্ট করতে হবে।
সুত্র: অামাদের সময়




























