বরকতপূর্ণ রাত্রি শবে বরাত
- Update Time : ০২:৫১:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ মে ২০১৮
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
শাবান মাসকে বলা হয় পবিত্র রমজান মাসে একাগ্রচিত্তে সিয়াম-সাধনা ও অধ্যবসায়ের প্রস্তুতি গ্রহণের মাস। এই মাস আসিলেই মহানবী (স) স্বীয় আমলের পরিমাণ বাড়াইয়া দিতেন। বিশেষত এই মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত্রিকে বলা হয় শবে বরাত। এই রাত্রের ইবাদত-বন্দেগীর গুরুত্ব অপরিসীম। ফার্সি শব্দগুচ্ছ শবে বরাত অর্থ ভাগ্য রজনী। তবে আরবিতে ইহাকে বলা হয় লাইলাতুল বারাআত বা মুক্তির রাত্রি। পবিত্র কোরআন মাজীদের সূরা আদ্দুখানের ৩-৬ নং আয়াতে যে লাইলাতুম মুবারাকাহ বা পবিত্র রজনীর আলোচনা করা হইয়াছে, অনেক তাফসিরকারকের মতে, লাইলাতুল বারাআতই হইতেছে সেই রজনী। অবশ্য হাদিস শরীফে এই রাতকে বলা হইয়াছে ‘লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান’ তথা অর্ধশাবানের রাত্রি। হযরত আল্লামা জালালুদ্দিন মহল্লী (রহ) ইহাকে লাইলাতুর রহমাত বা করুণার রাত হিসাবেও অভিহিত করিয়াছেন। কেননা যে চার রাত্রে আল্লাহর নির্দেশে তাঁহার রহমতের দরজাসমূহ খুলিয়া দেওয়া হয় তাহার অন্যতম হইল শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত্রি (ইবনে মাজাহ)। তাই শবে বরাত অনেক মর্যাদা ও বরকতপূর্ণ রাত্রি।
শবে বরাতে দীর্ঘ নামাজ পড়া, সেজদা দীর্ঘ করা ও দোয়া-ইস্তেগফার ও জিকির-আসকার করা মহানবীর (স) হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। ইহাছাড়া এই রাত্রে তিনি জান্নাতুল বাকিতে গিয়া কবর জিয়ারত করিয়াছেন। হজরত আলী ইবনে আবু তালিব (রা) হইতে বর্ণিত, রাসূল (স) বলিয়াছেন, শাবানের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত যখন আসে, তখন তোমরা এই রাতটি ইবাদত-বন্দেগীতে কাটাও এবং দিনের বেলা রোজা রাখ। কেননা এই রাত্রে সূর্যাস্তের পর আল্লাহ তায়ালা প্রথম আসমানে আসেন এবং বলেন, কোনো ক্ষমাপ্রার্থী আছে কি? আমি তাহাকে ক্ষমা করিব। আছে কি কোনো রিজিকপ্রার্থী? আমি তাহাকে রিজিক দিব। এভাবে সুবহে সাদিক পর্যন্ত আল্লাহ তায়ালা মানুষের প্রয়োজনের কথা বলিয়া তাহাদের ডাকিতে থাকেন ( ইবনে মাজাহ)। তাই এই রাত্রি আগমনের পূর্বেই আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন থাকিলে তাহা ঠিক করা ও কাহারও হক থাকিলে তাহা আদায় করা বাঞ্ছনীয়।
নানা পারিপার্শ্বিক কারণে শবে বরাতের রাত্রি উদযাপনে আমাদের দেশে এমন কিছু কুসংস্কার ও অপসংস্কৃতির অনুপ্রবেশ ঘটিয়াছে যাহা গ্রহণযোগ্য নহে। যেমন—এই রাত্রে প্রয়োজনাতিরিক্ত আলোকসজ্জা, আতশবাজি এবং শহর-বন্দরে অযথা, উদ্দেশ্যহীন ঘোরাফেরা ও হৈ-হল্লা করা ইত্যাদি এই রাত্রির মর্যাদার জন্য হানিকর ও অশোভনীয়। এই রাত্রে হালুয়া-রুটিসহ ভালো খাবারের আয়োজন ও বণ্টন করা যাইতেই পারে, কিন্তু ইহাই মুখ্য উদ্দেশ্য হওয়া উচিত নহে। মুখ্য উদ্দেশ্য হইল এই রাত্রে নফল ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং ধর্মীয় দিক হইতে এই রাত্রের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করা। এই রাত্রে আমরা দেশ ও দশের উন্নয়ন ও মঙ্গল কামনায় প্রার্থনাও করিতে পারি। এই রাত্রে কয়েক শ্রেণির কবিরা গুনাহকারীকে ক্ষমা করা হয় না। যেমন— মুশরিক, জাদুকর, গণক, হিংসুক, আত্মীয়তা ছিন্নকারী, মদ্যপ, পরস্ত্রীগামী, মা-বাবার অবাধ্য সন্তান, পরনিন্দাকারী ইত্যাদি। অতএব, এইসকল পাপাচার হইতে মুক্ত থাকা ও আল্লাহর নিকট খাঁটি দিলে তাওবা-ইসতেগফার করাই এই রাত্রির প্রধান শিক্ষা।





























