০৬:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কানাইঘাটে প্রবাসীর বাড়িতে দুধর্ষ ডাকাতি ও গুলি: নিহত ১

  • Update Time : ০৮:৪২:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ এপ্রিল ২০১৮
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

মুমিন রশিদ :: সিলেটের কানাইঘাটে প্রবাসীর বাড়িতে দুধর্ষ ডাকাতির সময় ডাকাতের গুলিতে ৪ সন্তানের জনক ইফজাল উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম আতংক বিরাজ করছে।

 

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাত প্রায় আড়াইটার দিকে ১০-১৫ জনের অস্ত্রধারী একদল ডাকাত উপজেলার সদর ইউপির ছোটদেশ আগফৌদ গ্রামের আব্দুল জলিলের বাড়িতে হানা দেয়। তারা বসত ঘরের গ্রীলের তালা ও সাবল দিয়ে দরজার ছিটকিনি ভেঙ্গে একে একে চারটি কক্ষে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদেরকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বেধে রাখে।

 

এ সময় বাড়ির কর্তা আব্দুল জলিল ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের শোর চিৎকার শুনতে পেয়ে মূল ঘরের দক্ষিণ পাশের ঘরে ঘুমিয়ে থাকা আব্দুল জলিলের বড় ছেলে ইফজাল উদ্দিন (৪৫) এর ঘুম ভেঙ্গে যায়। তিনি জেগে উঠে ডাকাতের হানা বুঝতে পেরে তাদের একাই প্রতিরোধ করার চেষ্টা করেন। এতে ডাকাত দল তার প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে গুলি ছুড়ে তাকে গুরুতর আহত করে মুল্যবান কিছু জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে নির্বিঘেœ পালিয়ে যায়। এ সময় ডাকাতের হামলায় পরিবারের আরো ৩ সদস্য আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পরে পরিবারের লোকজনের চিৎকারে এলাকার লোকজন এগিয়ে এসে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ইফজাল উদ্দিনকে উদ্ধার করে দ্রুত সিওমেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

 

এ ব্যাপারে নিহতের বাবা আব্দুল জলিল জানান, তার ৪ ছেলের মধ্যে ৩ ছেলে দীর্ঘ দিন থেকে প্রবাসে রয়েছেন। বড় ছেলে ও তিনি ব্যাতিত বাড়িতে কোন পুরুষ লোক নেই। এমনকি একটি খোলা মাঠে তারা নতুন বাড়ি তৈরী করে বসতী স্থাপন করায় তাদের বিপদের চিৎকার কেউ শুনতে পায়নি। তার কাছে পরিবারের মালামাল লুটপাটের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন আমরা পুত্র হারানোর শোকে শোকাহত। তবে তার এক পুত্রবধুর কিছু স্বর্ণ ও মুল্যবান জিনিস ডাকাতরা লুট করে নেয় বলে তিনি জানান।

 

এ ঘটনার খবর পেয়ে সাথে সাথে ঘটনাস্থলে একদল পুলিশ নিয়ে ছুটে যান কানাইঘাট থানার ওসি মো: আব্দুল আহাদ। পরে ঘটনার খবর পেয়ে সিলেট উত্তর সার্কেলের এডিশনাল পুলিশ সুপার আবুল হাসনাত খাঁন, সিলেটের ডিএসবি’র এএসপি আনিছুর রহমান, কানাইঘাট সার্কেলের এএসপি আমিনুল ইসলাম সরকার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

 

এ ব্যাপারে কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আব্দুল আহাদ জানান, থানা পুলিশ সহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মাঠে রয়েছেন। অচিরেই এই ঘটনার সাথে জড়িতদের তথ্য উদঘাটন করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বাড়ীর মালিক আব্দুল জলিল ও ঘরের প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলেন এবং ডাকাতির আলামত ঘুরে দেখেন।

 

এডিশনাল পুলিশ সুপার আবুল হাসনাত খান স্থানীয় এলাকাবাসী ও সাংবাদিকদের আশ্বস্থ করে বলেন, যে ঘটনাটি সংগঠিত হয়েছে অত্যন্ত জগন্যতম ঘটনা। ডাকাতি করে মালামাল লুট ও হত্যার ঘটনার মতো বড় অপরাধ যারা ঘটিয়েছে তাদেরকে চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেফতার করা হবে। ঘটনার সাথে জড়িতদের আটক করতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

এদিকে, ডাকাতির ঘটনাস্থল সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় এলাকার শত শত নারী পুরুষ আব্দুল জলিলের বাড়ীতে ভিড় করছেন। তবে এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

কানাইঘাটে প্রবাসীর বাড়িতে দুধর্ষ ডাকাতি ও গুলি: নিহত ১

Update Time : ০৮:৪২:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ এপ্রিল ২০১৮

মুমিন রশিদ :: সিলেটের কানাইঘাটে প্রবাসীর বাড়িতে দুধর্ষ ডাকাতির সময় ডাকাতের গুলিতে ৪ সন্তানের জনক ইফজাল উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম আতংক বিরাজ করছে।

 

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাত প্রায় আড়াইটার দিকে ১০-১৫ জনের অস্ত্রধারী একদল ডাকাত উপজেলার সদর ইউপির ছোটদেশ আগফৌদ গ্রামের আব্দুল জলিলের বাড়িতে হানা দেয়। তারা বসত ঘরের গ্রীলের তালা ও সাবল দিয়ে দরজার ছিটকিনি ভেঙ্গে একে একে চারটি কক্ষে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদেরকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বেধে রাখে।

 

এ সময় বাড়ির কর্তা আব্দুল জলিল ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের শোর চিৎকার শুনতে পেয়ে মূল ঘরের দক্ষিণ পাশের ঘরে ঘুমিয়ে থাকা আব্দুল জলিলের বড় ছেলে ইফজাল উদ্দিন (৪৫) এর ঘুম ভেঙ্গে যায়। তিনি জেগে উঠে ডাকাতের হানা বুঝতে পেরে তাদের একাই প্রতিরোধ করার চেষ্টা করেন। এতে ডাকাত দল তার প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে গুলি ছুড়ে তাকে গুরুতর আহত করে মুল্যবান কিছু জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে নির্বিঘেœ পালিয়ে যায়। এ সময় ডাকাতের হামলায় পরিবারের আরো ৩ সদস্য আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পরে পরিবারের লোকজনের চিৎকারে এলাকার লোকজন এগিয়ে এসে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ইফজাল উদ্দিনকে উদ্ধার করে দ্রুত সিওমেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

 

এ ব্যাপারে নিহতের বাবা আব্দুল জলিল জানান, তার ৪ ছেলের মধ্যে ৩ ছেলে দীর্ঘ দিন থেকে প্রবাসে রয়েছেন। বড় ছেলে ও তিনি ব্যাতিত বাড়িতে কোন পুরুষ লোক নেই। এমনকি একটি খোলা মাঠে তারা নতুন বাড়ি তৈরী করে বসতী স্থাপন করায় তাদের বিপদের চিৎকার কেউ শুনতে পায়নি। তার কাছে পরিবারের মালামাল লুটপাটের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন আমরা পুত্র হারানোর শোকে শোকাহত। তবে তার এক পুত্রবধুর কিছু স্বর্ণ ও মুল্যবান জিনিস ডাকাতরা লুট করে নেয় বলে তিনি জানান।

 

এ ঘটনার খবর পেয়ে সাথে সাথে ঘটনাস্থলে একদল পুলিশ নিয়ে ছুটে যান কানাইঘাট থানার ওসি মো: আব্দুল আহাদ। পরে ঘটনার খবর পেয়ে সিলেট উত্তর সার্কেলের এডিশনাল পুলিশ সুপার আবুল হাসনাত খাঁন, সিলেটের ডিএসবি’র এএসপি আনিছুর রহমান, কানাইঘাট সার্কেলের এএসপি আমিনুল ইসলাম সরকার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

 

এ ব্যাপারে কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আব্দুল আহাদ জানান, থানা পুলিশ সহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মাঠে রয়েছেন। অচিরেই এই ঘটনার সাথে জড়িতদের তথ্য উদঘাটন করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বাড়ীর মালিক আব্দুল জলিল ও ঘরের প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলেন এবং ডাকাতির আলামত ঘুরে দেখেন।

 

এডিশনাল পুলিশ সুপার আবুল হাসনাত খান স্থানীয় এলাকাবাসী ও সাংবাদিকদের আশ্বস্থ করে বলেন, যে ঘটনাটি সংগঠিত হয়েছে অত্যন্ত জগন্যতম ঘটনা। ডাকাতি করে মালামাল লুট ও হত্যার ঘটনার মতো বড় অপরাধ যারা ঘটিয়েছে তাদেরকে চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেফতার করা হবে। ঘটনার সাথে জড়িতদের আটক করতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

এদিকে, ডাকাতির ঘটনাস্থল সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় এলাকার শত শত নারী পুরুষ আব্দুল জলিলের বাড়ীতে ভিড় করছেন। তবে এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ