১০:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভোটের মাঠে শিশু ঠেকাতে কঠোর ইসি

  • Update Time : ০৩:৩৭:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ নভেম্বর ২০১৭
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: নির্বাচনী প্রচারণাসহ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে শিশুদের ব্যবহার বন্ধে কঠোর হচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে সাংবিধানিক সংস্থাটি। কোনো রাজনৈতিক দল এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে মানবঢাল হিসেবে শিশুদের ব্যবহার বন্ধে সচেতনতা সৃষ্টি করতে চায় কমিশন। এ লক্ষ্যে প্রচারণা চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানের এক চিঠির প্রেক্ষিতে এসব ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে ইসি সূত্রে জানা গেছে। সূত্র জানায়, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে শিশুদের ব্যবহার বন্ধে গত জুলাই মাসে ইসিকে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক। বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখার জন্য সচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন সিইসি কেএম নূরুল হুদা। এ ছাড়া দাপ্তরিক প্রচারণা চালানো ও রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে বার্তা দেয়ার কথা বলা হয়েছে নির্দেশে। এ বিষয়ে ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, আমরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে বিষয়টি অবহিত করেছি। নির্বাচনী আচরণবিধির মধ্যে এটা আছে যে, যারা ভোটার নন এমন লোকেরা নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। আচরণবিধিতে শিশুদের ব্যবহার বন্ধে শাস্তির বিধান আছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, আচরণবিধি করার আগে এটা ব্যবহার করা হতো। এখন তেমন ব্যবহার করা হয় না। আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি। আচরণবিধির মধ্যে বলা আছে  যদি কেউ শিশুদের ব্যবহার করে তবে জেল জরিমানার বিধান আছে। সিইসি বরাবর পাঠানো মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানের চিঠিতে বলা হয়েছে- ইতিপূর্বে আমরা লক্ষ্য করেছি যে, শিশুদের রাজনৈতিক কাজে বিশেষত নির্বাচনকালীন মিছিলের অগ্রভাবে রাখা হয় এবং তাদের দিয়ে বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ কাজ ও অপরাধ করানো হয় যা শিশুদের অধিকারের লঙ্ঘন। তাদেরকে রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনকালীন মিছিলের অগ্রভাগে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করে। যার ফলে যে কোনো হামলার শিকার হয় শিশুরা। এ ছাড়া রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের নামে অসৎ উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম যেমন পিকেটিং, যানবাহন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো অপরাধও করানো হয় তাদের দ্বারা। এতে তারা সহিংস কার্যক্রমের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম (বিএসএএফ)-এর একটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে মানবাধিকার কমিশনের চিঠিতে বলা হয়, ২০১৬ সালে রাজনৈতিক সহিংসতায় ৪ জন শিশু মারা যায় এবং ৩ জন আহত হয়। ২০১৭ সালের প্রথম ছয়মাসে ২ জন শিশু মারা যায় এবং ৩ জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া আহত অনেক শিশুর অঙ্গহানি হচ্ছে যা থেকে স্থায়ী পঙ্গুত্বের আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। আর শিশুদের এ ধরনের সংবাদ গণমাধ্যমে প্রচার হওয়ায় তা অনেক শিশুর মনে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। এমতাবস্থায় আসন্ন জাতীয় নির্বাচনসহ অন্যান্য সব নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর মিছিল কিংবা অন্যান্য কর্মসূচিতে শিশুদের যাতে ব্যবহার করতে না পারে সে ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেছেন মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান। চিঠিতে আরো বলা হয়, আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার সনদ ১৯৮৯ এর অনুচ্ছেদ ৩২ (১) অনুযায়ী, শিশুকে ঝুঁকিপূর্ণ অথবা শিশু শিক্ষায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী কিংবা তার স্বাস্থ্য বা শারীরিক, মানসিক, আধ্যাত্মিক, নৈতিক বা সামাজিক বিকাশের পক্ষে ক্ষতিকর কাজ করানো থেকে রক্ষার ব্যবস্থা রাষ্ট্র গ্রহণ করবে। উক্ত আইনের অনুচ্ছেদ ৩৭ (ক) অনুযায়ী কোনো শিশুই নির্যাতন বা অন্য কোনো নিষ্ঠুর, অমানবিক বা মর্যাদাহানিকর কোনো আচরণ বা শাস্তির শিকার না হয় সেটি নিশ্চিত করবে রাষ্ট্র। এ ছাড়া, ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম বিষয়ক আইএলও কনভেনশন ১৯৮২ এর ৩ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, শিশুদের অনৈতিক ও অবৈধ কর্মকাণ্ডে ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। উল্লিখিত আন্তর্জাতিক সনদ দুটির অনুসাক্ষরকারী রাষ্ট্র হিসেবে উহার বিধান প্রতিপালনে বাংলাদেশ অঙ্গীকারাবদ্ধ। পাশাপাশি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ও শিশু আইন ২০১৩ অনুসারে শিশুর সর্বোত্তম কল্যাণ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সুত্র: মানবজমিন

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

ভোটের মাঠে শিশু ঠেকাতে কঠোর ইসি

Update Time : ০৩:৩৭:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ নভেম্বর ২০১৭

জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: নির্বাচনী প্রচারণাসহ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে শিশুদের ব্যবহার বন্ধে কঠোর হচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে সাংবিধানিক সংস্থাটি। কোনো রাজনৈতিক দল এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে মানবঢাল হিসেবে শিশুদের ব্যবহার বন্ধে সচেতনতা সৃষ্টি করতে চায় কমিশন। এ লক্ষ্যে প্রচারণা চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানের এক চিঠির প্রেক্ষিতে এসব ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে ইসি সূত্রে জানা গেছে। সূত্র জানায়, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে শিশুদের ব্যবহার বন্ধে গত জুলাই মাসে ইসিকে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক। বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখার জন্য সচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন সিইসি কেএম নূরুল হুদা। এ ছাড়া দাপ্তরিক প্রচারণা চালানো ও রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে বার্তা দেয়ার কথা বলা হয়েছে নির্দেশে। এ বিষয়ে ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, আমরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে বিষয়টি অবহিত করেছি। নির্বাচনী আচরণবিধির মধ্যে এটা আছে যে, যারা ভোটার নন এমন লোকেরা নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। আচরণবিধিতে শিশুদের ব্যবহার বন্ধে শাস্তির বিধান আছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, আচরণবিধি করার আগে এটা ব্যবহার করা হতো। এখন তেমন ব্যবহার করা হয় না। আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি। আচরণবিধির মধ্যে বলা আছে  যদি কেউ শিশুদের ব্যবহার করে তবে জেল জরিমানার বিধান আছে। সিইসি বরাবর পাঠানো মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানের চিঠিতে বলা হয়েছে- ইতিপূর্বে আমরা লক্ষ্য করেছি যে, শিশুদের রাজনৈতিক কাজে বিশেষত নির্বাচনকালীন মিছিলের অগ্রভাবে রাখা হয় এবং তাদের দিয়ে বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ কাজ ও অপরাধ করানো হয় যা শিশুদের অধিকারের লঙ্ঘন। তাদেরকে রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনকালীন মিছিলের অগ্রভাগে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করে। যার ফলে যে কোনো হামলার শিকার হয় শিশুরা। এ ছাড়া রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের নামে অসৎ উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম যেমন পিকেটিং, যানবাহন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো অপরাধও করানো হয় তাদের দ্বারা। এতে তারা সহিংস কার্যক্রমের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম (বিএসএএফ)-এর একটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে মানবাধিকার কমিশনের চিঠিতে বলা হয়, ২০১৬ সালে রাজনৈতিক সহিংসতায় ৪ জন শিশু মারা যায় এবং ৩ জন আহত হয়। ২০১৭ সালের প্রথম ছয়মাসে ২ জন শিশু মারা যায় এবং ৩ জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া আহত অনেক শিশুর অঙ্গহানি হচ্ছে যা থেকে স্থায়ী পঙ্গুত্বের আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। আর শিশুদের এ ধরনের সংবাদ গণমাধ্যমে প্রচার হওয়ায় তা অনেক শিশুর মনে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। এমতাবস্থায় আসন্ন জাতীয় নির্বাচনসহ অন্যান্য সব নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর মিছিল কিংবা অন্যান্য কর্মসূচিতে শিশুদের যাতে ব্যবহার করতে না পারে সে ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেছেন মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান। চিঠিতে আরো বলা হয়, আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার সনদ ১৯৮৯ এর অনুচ্ছেদ ৩২ (১) অনুযায়ী, শিশুকে ঝুঁকিপূর্ণ অথবা শিশু শিক্ষায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী কিংবা তার স্বাস্থ্য বা শারীরিক, মানসিক, আধ্যাত্মিক, নৈতিক বা সামাজিক বিকাশের পক্ষে ক্ষতিকর কাজ করানো থেকে রক্ষার ব্যবস্থা রাষ্ট্র গ্রহণ করবে। উক্ত আইনের অনুচ্ছেদ ৩৭ (ক) অনুযায়ী কোনো শিশুই নির্যাতন বা অন্য কোনো নিষ্ঠুর, অমানবিক বা মর্যাদাহানিকর কোনো আচরণ বা শাস্তির শিকার না হয় সেটি নিশ্চিত করবে রাষ্ট্র। এ ছাড়া, ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম বিষয়ক আইএলও কনভেনশন ১৯৮২ এর ৩ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, শিশুদের অনৈতিক ও অবৈধ কর্মকাণ্ডে ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। উল্লিখিত আন্তর্জাতিক সনদ দুটির অনুসাক্ষরকারী রাষ্ট্র হিসেবে উহার বিধান প্রতিপালনে বাংলাদেশ অঙ্গীকারাবদ্ধ। পাশাপাশি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ও শিশু আইন ২০১৩ অনুসারে শিশুর সর্বোত্তম কল্যাণ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সুত্র: মানবজমিন

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ