০৬:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

১ সেপ্টেম্বর রানীগঞ্জ গণহত্যা দিবস

  • Update Time : ১০:০৬:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ আগস্ট ২০১৭
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিনিধি :: ১ সেপ্টেম্বর রানীগঞ্জ গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ বাজারে ইতিহাসের নৃশংস গণহত্যা সংঘটিত হয়েছিল। পাক হানাদার বাহিনী জগন্নাথপুর থেকে নৌকা যোগে রানীগঞ্জ বাজারে যায়। বাজারে গিয়ে তাঁদের সঙ্গে থাকা দোসর-রাজাকার-আল বদরদের দিয়ে শান্তি কমিটির আহ্বানে বাজারে আসা প্রায় শতাধিক লোকজনদের এক স্থানে সমবেত করে। এ সময় সমবেত লোকজনদের পাক বাহিনী শান্তি কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেয়। এ প্রস্তাবে রাজি না হলে পাক সেনারা ক্ষিপ্ত হয়ে সমবেত লোকজনকে পিচমোড়া করে বেঁধে সারিবদ্ধভাবে লাইন ধরিয়ে নির্বিচারে ব্রাশফায়ার করে হত্যাযজ্ঞ চালায়। তখন তাঁদের আর্তচিৎকারে জমি ও আকাশ কেঁপে উঠেছিল। এ সময় ভাগ্যক্রমে মৃত ব্যক্তিদের সঙ্গে নদীর পানিতে পড়ে কয়েকজন বেঁচে গিয়েছিলেন। তখন ছিল জোহরের নামাজের সময়। তাঁদের নামাজ পড়ারও সুযোগ দেয়নি পাক বাহিনী। হত্যার পর শহীদ হওয়া লোকজনদের মৃতদেহ পার্শ্ববর্তী রত্না ও কুশিয়ারা নদীর মোহনায় ফেলে দেওয়া হয়। তখন তাঁদের তাজা রক্তে নদীর পানি লাল হয়ে গিয়েছিল। পরে পাক বাহিনী রানীগঞ্জ বাজারে আগুন ধরিয়ে দেয়। অগ্নিকানডে বাজারের প্রায় সব দোকান পুড়ে যায়। পাক বাহিনী চলে যাওয়ার পর শহীদ হওয়া লোকজনের আত্মীয়-স্বজনসহ এলাকার লোকজন ঘটনাস্থলে আসেন। এ সময় তাঁদের আর্তনাদে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠে। পাক বাহিনী বাজারের ব্যবসায়ী, ক্রেতা, কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, শিক্ষকসহ সর্বর্স্তরের শতাধিক লোকজনকে হত্যা করলেও মাত্র ৪২ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে।
দেশ স্বাধীনের পর এসব শহীদদের স্মরণে স্থানীয় রানীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়। প্রতিবছরের ১ সেপ্টেম্বর রানীগঞ্জ আঞ্চলিক গণহত্যা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে দিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠান পালিত হয়ে থাকে। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে এবার জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ, শোক র‍্যালি, আলোচনাসভা, মিলাদ মাহফিল সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
রানীগঞ্জ গণহত্যা গ্রন্থের লেখক ও শহীদ পরিবারের প্রতিনিধি আবুল কাশেম আকমল বলেন, এসব শহীদ ও গাজীদের বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের স্বাধীনতা। আমরা পেয়েছি একটি লাল-সবুজের পতাকা ও একটি মানচিত্র। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরও আজ পর্যন্ত অনেক শহীদ ও গাজীদের ভাগ্যে জুটেনি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি না থাকার কারণে তাঁদের অনেকের পরিবারের লোকজন মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

১ সেপ্টেম্বর রানীগঞ্জ গণহত্যা দিবস

Update Time : ১০:০৬:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ আগস্ট ২০১৭

বিশেষ প্রতিনিধি :: ১ সেপ্টেম্বর রানীগঞ্জ গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ বাজারে ইতিহাসের নৃশংস গণহত্যা সংঘটিত হয়েছিল। পাক হানাদার বাহিনী জগন্নাথপুর থেকে নৌকা যোগে রানীগঞ্জ বাজারে যায়। বাজারে গিয়ে তাঁদের সঙ্গে থাকা দোসর-রাজাকার-আল বদরদের দিয়ে শান্তি কমিটির আহ্বানে বাজারে আসা প্রায় শতাধিক লোকজনদের এক স্থানে সমবেত করে। এ সময় সমবেত লোকজনদের পাক বাহিনী শান্তি কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেয়। এ প্রস্তাবে রাজি না হলে পাক সেনারা ক্ষিপ্ত হয়ে সমবেত লোকজনকে পিচমোড়া করে বেঁধে সারিবদ্ধভাবে লাইন ধরিয়ে নির্বিচারে ব্রাশফায়ার করে হত্যাযজ্ঞ চালায়। তখন তাঁদের আর্তচিৎকারে জমি ও আকাশ কেঁপে উঠেছিল। এ সময় ভাগ্যক্রমে মৃত ব্যক্তিদের সঙ্গে নদীর পানিতে পড়ে কয়েকজন বেঁচে গিয়েছিলেন। তখন ছিল জোহরের নামাজের সময়। তাঁদের নামাজ পড়ারও সুযোগ দেয়নি পাক বাহিনী। হত্যার পর শহীদ হওয়া লোকজনদের মৃতদেহ পার্শ্ববর্তী রত্না ও কুশিয়ারা নদীর মোহনায় ফেলে দেওয়া হয়। তখন তাঁদের তাজা রক্তে নদীর পানি লাল হয়ে গিয়েছিল। পরে পাক বাহিনী রানীগঞ্জ বাজারে আগুন ধরিয়ে দেয়। অগ্নিকানডে বাজারের প্রায় সব দোকান পুড়ে যায়। পাক বাহিনী চলে যাওয়ার পর শহীদ হওয়া লোকজনের আত্মীয়-স্বজনসহ এলাকার লোকজন ঘটনাস্থলে আসেন। এ সময় তাঁদের আর্তনাদে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠে। পাক বাহিনী বাজারের ব্যবসায়ী, ক্রেতা, কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, শিক্ষকসহ সর্বর্স্তরের শতাধিক লোকজনকে হত্যা করলেও মাত্র ৪২ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে।
দেশ স্বাধীনের পর এসব শহীদদের স্মরণে স্থানীয় রানীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়। প্রতিবছরের ১ সেপ্টেম্বর রানীগঞ্জ আঞ্চলিক গণহত্যা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে দিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠান পালিত হয়ে থাকে। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে এবার জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ, শোক র‍্যালি, আলোচনাসভা, মিলাদ মাহফিল সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
রানীগঞ্জ গণহত্যা গ্রন্থের লেখক ও শহীদ পরিবারের প্রতিনিধি আবুল কাশেম আকমল বলেন, এসব শহীদ ও গাজীদের বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের স্বাধীনতা। আমরা পেয়েছি একটি লাল-সবুজের পতাকা ও একটি মানচিত্র। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরও আজ পর্যন্ত অনেক শহীদ ও গাজীদের ভাগ্যে জুটেনি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি না থাকার কারণে তাঁদের অনেকের পরিবারের লোকজন মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ