সিলেটে সৎ বাবা কর্তৃক দুই মাস ধরে দ্বিত্বীয় শ্রেণীর ছাত্রী ধর্ষিত : পাষন্ড আটক
- Update Time : ০৩:৩৩:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ জুলাই ২০১৮
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
সুলতান সুমন :: সিলেটে দ্বিত্বীয় শ্রেণীর ছাত্রীকে টানা দুই মাস ধর্ষণ করেছে তার সৎ বাবা। ধর্ষিতা ঐ শিশুটি সিলেট নগরীর বখতিয়ার বিবি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী। শনিবার রাতে ঐ ধর্ষিতা ১০ বছরের শিশু মেয়েকে উদ্ধার করেছে এসএমপি’র কোতয়ালি থানা পুলিশ।
একই সাথে ধর্ষক বাবাকেও আটক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে গতকাল রবিবার ধর্ষিতা শিশুটির নানী সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার মানিকোণা হাওরতলা গ্রামের আব্দুল মালিকের স্ত্রী বাদি হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। যার নং ২৩(০৭)১৮ইং। আর এই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে ধর্ষক বগুড়া জেলার গাবতলি থানার সরধনকুঠি গ্রামের অলি মন্ডলের ছেলে পিটু মিয়া (২৮) কে। সে বর্তমানে সিলেট নগরীর রায়নগর দর্জিপাড়া এলাকার সৌরভ ২০ নং বাসার মালিক মৃত আফতাব দারোগার কলোনীর বাসিন্দা।
সূত্র জানায়, ধর্ষিতা শিশু (১০)। তার মা গোলাপগঞ্জ উপজেলার মানিকোণা হাওরতলা গ্রামের আব্দুল মালিকের মেয়ে জাকেরা বেগম। পূর্বে তার বিয়ে হয়েছিল বরিশালের এক যুবকের সাথে। সে পেশায় ছিল সিএনজি চালক। ঐ স্বামির ঘরে জন্ম হয় ধর্ষিতা মেয়েটির। মেয়ের জন্মের পর জাকেরাকে চেড়ে যায় বরিশালের ছেলেটি। আর এই মেয়েকে নিয়ে দ্বিত্বীয় বিয়ে বসে জাকেরা। জাকেরা প্রায় ১৬ মাস পূর্বে গৃহকর্মীর কাজে সৌদি আরব গিয়েছেন। আর মেয়েকে রেখে যান তার দ্বিত্বিয় স্বামীর কাছে। ধর্ষক পিটু ঐ মেয়েকে নিয়ে সিলেট নগরীর রায়নগর দর্জিপাড়া এলাকার সৌরভ ২০ নং বাসার মালিক মৃত আফতাব দারোগার কলোনীতে বসবাস করে আসছেন। আর শিশু মেয়েটিকে তার মা বিদেশ যাওয়ার পূর্বে ভর্তি করে যান বখতিয়ার বিবি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েটি সেখানে থেকে লেখা পড়া করে আসছে।
কিন্তু বিগত দুই মাস পূর্ব থেকে ঐ শিশূ মেয়েটিকে জোর পূর্বক প্রতিদিন রাত্রে ধর্ষণ করে পাষন্ড সৎ বাবা। মেয়েটি এসকল ঘটনা কাউকে বলতে চাইলে তাকে প্রতিনিয়তই মারপিট করতো তার সৎ বাবা। শুক্রবার রাতেও মেয়েটিকে কয়েকবার ধর্ষণ করে পিটু। সকালে শিশুটিকে মারপিট করে গোসল করায় তার পাষন্ড পিতা। আর বলে যদি এসকল ঘটনা কোথাও বলে, তাহলে তাকে গলায় ফাস লাগিয়ে আতœহত্যা বলে মেরে ফেলবে।
মারপিটের ভয়ে শিশুটি তার এক বান্দবীর বাসায় চলে যায়। সেখানে গিয়ে তার বান্ধবীর মায়ের কাছে সমস্থ ঘটনা খোলে বলে। বান্ধবির মা ঐ শিশুটির কথা তার ভাইয়ের কাছে বলেন। পরবর্তীতে ধর্ষিতার বান্ধবীর মামার পরিচিত এক সংবাদকর্মীকে জানান। ঐ সংবাদ কর্মী ধর্ষিতার বান্ধবীর বাসায় গিয়ে বক্তব্য শুনেন ও তা রেকর্ড করেন। পরবর্তীতে ঐ সংবাদকর্মী সিলেট জেলা প্রবেশন অফিসারকে জানান ও এসএমপি’র কোতয়ালি থানায় শিশুটিকে নিয়ে যান।
থানায় নিয়ে যাওয়ার পর কোতয়ালি থানার এসি সাদেক কাউছার দস্তগীর বিষয়টি শুনে ধর্ষককে গ্রেফতারের ব্যবস্তা করেন। শনিবার রাত ১১ টায় সোবহানীগাট পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ এসআই কামাল হোসেন পুলিশ নিয়ে গিয়ে ধর্ষককে গ্রেফতার করেন। আর ধর্ষণের শিকার শিশুটিকে ভিকটিম সার্পোট সেন্টারে রাখেন। এ ঘটনায় খবর পেয়ে গতকাল রবিবার সিলেট জেলা সমাজ সেবা প্রবেশন অফিসার মো. তমির হোসেন চৌধুরী এসএমপি’র কোতয়ালি থানায় গিয়ে ভিকটিম শিশুটিকে দেখে আসেন।
ধর্ষিতার মা জাকেরা বেগম সৌদি আরব থেকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানান, তার মেয়ে তাকে পূর্বে কয়েকবার বলেছিল । তিনি মধ্যখানে একবার দেশে এসে তার স্বামীকে স্থানিয় জামাল কামাল মাজারের সামনে নিয়ে শপথ করান। এতে তিনি তার স্বামি পিটুকে বলেন সৎ মেয়ে হলেও সে তোমার মেয়ে। একে মেয়ের চোখে দেখো। তিনি তার মেয়ের ধর্ষণের কথা শুণে অবাক হয়ে বলেন। যদি তার স্বামী সত্যি এমন কাজ করে থাকে তাহলে তার শাস্তি হওয়া দরকার।
এ ব্যাপারে এসএমপি’র কোতয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোশাররফ হোসেন জানান, শিশু ধর্ষণের খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করে। আর ধর্ষক সৎ বাবাকে গ্রেফতার করে নিয়মিত মামলা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ্যাডভোকেট মোহাম্ম্দ লালা জানান, এটি একটি অমানবিক কাজ। সৎ বাবা হক আর যাই হউক একটি শিশু মেয়েকে ধর্ষণ করা দন্ডনীয় অপরাধ। তাই ধর্ষক ঐ পাষন্ডকে এমন শাস্তি দেয়া হউক যাতে ভবিষতে আর কেউ এমন কাজ করতে না পারে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রিংকু রাণী দাশ জানান, মামলাটি তার উপর তদন্তের বার দেয়া হয়েছে। তিনি তদন্ত সাপেক্ষে ধর্ষককে শাস্তির জন্য সকল ধরণের ব্যবস্থা করবেন।
সিলেট জেলা সমাজ সেবা প্রবেশন অফিসার মো. তমির হোসেন চৌধুরী জানান, যে শিশুটি ধর্ষিত হয়েছে সে বখতিয়ার বিবি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিত্বিয় শ্রেণীর ছাত্রী। আর তার সৎ বাবা মেয়েটির সাথে যে অন্যায় করেছে তা আসলেই একটি ঘৃণ্য কাজ। আমরা ধর্ষিতা মেয়েটিকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাবে।


























