০১:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সিলেটে ভূমি খেকো সালেহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে জালিয়াতি মামলা

  • Update Time : ০৭:০২:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ জুন ২০১৮
  • / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট :: সিলেট সদর উপজেলায় দলিল জালিয়াতি করে সম্পত্তি আত্মসাত ও মিথ্যা মামলা করে হয়রাণী করার অভিযোগ উঠেছে।

 

রেজিস্টার বিহীন দলিল দিয়ে ভূমি জালিয়াতি করায় এর মূল হোতা সালেহ আহমদ চৌধুরীসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে সিলেট মেট্রোপলিটন চীফ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন দক্ষিন সুরমা থানাধীন এলাকা বরই কান্দীর মৃত আকরম আলীর পূত্র মো. ফয়ছল উদ্দীন আহমদ। মোকাদ্দমা ১০১/২০১৭ইং ও জি.আর মামলা নং- ১৩৪/২০১৭ইং।

 

মামলায় অভিযুক্ত আসামীরা হলেন- হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার হিয়ালা গ্রামের মৃত ইদ্রিছ আলীর পুত্র ইউনুছ আলী চৌধুরী, সিলেট শাহপরাণ থানাধীন খাদিমপাড়া এলাকার সঞ্জব আলীর পুত্র সালেহ আহমদ চৌধুরী, শাহজালাল উপশহর বি-ব্লকের ১নং বাসার মামুনুর রশিদ চৌধুরী, জকিগঞ্জ উপজেলার পাত্রমাটি গ্রামের মৃত তজ¤মূল আলীর পুত্র মো. আব্দুল লতিফ, দক্ষিণ সুরমার জালালপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মনাফের পুত্র মো. নুরুল ইসলাম, এসএমপির শাহপরাণ থানাধীন মৃত ইনতাজ আলীর পুত্র আছরাফ আলী, মৃত কুদরত উল্লাহর পুত্র তাজ উদ্দিন, কানাইঘাট উপজেলার আগফৌদগ্রামের সৈয়দ আনোয়ারুল হকের পুত্র সৈয়দ ফয়জুল্লাহ বাহার। বর্তমানে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন।

 

মামলার এজাহারে জানা যায়, সিলেট সদর সাব-রেজিষ্টারি অফিসে মৌজা- বহর, জেল নং-৭০, ছাপা খতিয়ান নং- ৩৫২, দাগ নং- ১০৫ ও ১০৬ এই দুই দাগে মোট ৪ একর ৪ শতক ভূমি মামলার বাদী ফয়ছল উদ্দীন আহমদের পিতা আক্রম আলী ও আরব আলীর নামে ১৯৫৬ ইংরেজিতে এসএ রেকর্ডভূক্ত হয়। ২০১০ সালে তপসিল বর্ণিত ভূমির খাজনা দিতে গেলে তিনি জানতে পারেন, তাদের ১০০ শতক ভূমি অন্যায়ভাবে ২২৫২/৫৬ইংরেজিতে নামজারী মোকাদ্দমা ১৭২/৭-৮ইংরেজি, ২৯৬৬/৮-৯, ৩৪৪৯/৮-৯ইংরেজি সহকারী কমিশনার ভূমি সিলেটকে ভূল বুঝাইয়া নামজারী আদেশ হাসিল করেন। এরপর সম্পত্তি রক্ষার্থে নামজারীগুলো বাতিলের জন্য সহকারী কমিশনার ভূমি সিলেট বরাবরে রিভিউ মোকাদ্দমা ০৬/২০১০ দায়ের করে মো. ফয়ছল উদ্দীন আহমদ।

 

উক্ত মোকাদ্দমা উভয় পক্ষের শুনানিঅন্তে আদালত নামজারী বাতিলক্রমে ১০০ শতক ভূমি বাদীর পক্ষে রায় দেন এবং তাদের নামে নামজারীর আদেশ প্রদান করেন বিগত ২০১১ সালের ১৭ জানুয়ারী। পরবর্তী এ ভূমি খেকো কুচক্রি মহল ফয়ছল উদ্দীনের নামজারী বাতিলের বিরুদ্ধে সিলেট অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আদালতে বিবিদ আপিল ৩০/২০১১ ইং দায়ের করেন। উক্ত আপিলও আদালত নামঞ্জুর করায় ফয়ছল উদ্দীন আহমদ মৌরসীসূত্রে নামজারী পেয়ে বেচা-বিক্রি শুরু করেন।

 

কিন্তু গেল বছরের ১ এপ্রিল মামলার প্রধান আসামী ইউনুছ আলী রেজিস্টার বিহীন দলিল দেখিয়ে আমমোক্তার সালেহ আহমদ চৌধুরী মিথ্যা তথ্য দিয়ে সিলেট জেলার যুগ্ম জেলা জজ ২য় আদালতে নালিশা ভূমিতে একটি স্বত্ত্ব ঘোষণা মামলা (২৫.০৫.১৯৬১ সালের দলিলের উল্লেখপূর্বক) দায়ের করেন। মামলায় ফয়ছল উদ্দীন ভাই-বোন সবাইকে আসামী করা হয়।

 

সালেহ আহমদ চৌধুরী এভাবে মিথ্যা তথ্য ও ভূমি জালিয়াতি করে আসছেন। সাধারণ মানুষকে ফাসিয়ে ভূমি খেকো সালেহ ইতোমধ্যে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। জাল দলিল দিয়ে সম্পত্তি আত্মসাৎ করে সাধারণ মানুষকে পথে নামিয়েছেন।

 

ভূমিখেকো সালেহ চৌধুরীসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে মো. ফয়ছল উদ্দীন আহমদ সিলেট মেট্রোপলিটন চীফ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলা দায়ের করেন।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

সিলেটে ভূমি খেকো সালেহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে জালিয়াতি মামলা

Update Time : ০৭:০২:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ জুন ২০১৮

ডেস্ক রিপোর্ট :: সিলেট সদর উপজেলায় দলিল জালিয়াতি করে সম্পত্তি আত্মসাত ও মিথ্যা মামলা করে হয়রাণী করার অভিযোগ উঠেছে।

 

রেজিস্টার বিহীন দলিল দিয়ে ভূমি জালিয়াতি করায় এর মূল হোতা সালেহ আহমদ চৌধুরীসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে সিলেট মেট্রোপলিটন চীফ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন দক্ষিন সুরমা থানাধীন এলাকা বরই কান্দীর মৃত আকরম আলীর পূত্র মো. ফয়ছল উদ্দীন আহমদ। মোকাদ্দমা ১০১/২০১৭ইং ও জি.আর মামলা নং- ১৩৪/২০১৭ইং।

 

মামলায় অভিযুক্ত আসামীরা হলেন- হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার হিয়ালা গ্রামের মৃত ইদ্রিছ আলীর পুত্র ইউনুছ আলী চৌধুরী, সিলেট শাহপরাণ থানাধীন খাদিমপাড়া এলাকার সঞ্জব আলীর পুত্র সালেহ আহমদ চৌধুরী, শাহজালাল উপশহর বি-ব্লকের ১নং বাসার মামুনুর রশিদ চৌধুরী, জকিগঞ্জ উপজেলার পাত্রমাটি গ্রামের মৃত তজ¤মূল আলীর পুত্র মো. আব্দুল লতিফ, দক্ষিণ সুরমার জালালপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মনাফের পুত্র মো. নুরুল ইসলাম, এসএমপির শাহপরাণ থানাধীন মৃত ইনতাজ আলীর পুত্র আছরাফ আলী, মৃত কুদরত উল্লাহর পুত্র তাজ উদ্দিন, কানাইঘাট উপজেলার আগফৌদগ্রামের সৈয়দ আনোয়ারুল হকের পুত্র সৈয়দ ফয়জুল্লাহ বাহার। বর্তমানে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন।

 

মামলার এজাহারে জানা যায়, সিলেট সদর সাব-রেজিষ্টারি অফিসে মৌজা- বহর, জেল নং-৭০, ছাপা খতিয়ান নং- ৩৫২, দাগ নং- ১০৫ ও ১০৬ এই দুই দাগে মোট ৪ একর ৪ শতক ভূমি মামলার বাদী ফয়ছল উদ্দীন আহমদের পিতা আক্রম আলী ও আরব আলীর নামে ১৯৫৬ ইংরেজিতে এসএ রেকর্ডভূক্ত হয়। ২০১০ সালে তপসিল বর্ণিত ভূমির খাজনা দিতে গেলে তিনি জানতে পারেন, তাদের ১০০ শতক ভূমি অন্যায়ভাবে ২২৫২/৫৬ইংরেজিতে নামজারী মোকাদ্দমা ১৭২/৭-৮ইংরেজি, ২৯৬৬/৮-৯, ৩৪৪৯/৮-৯ইংরেজি সহকারী কমিশনার ভূমি সিলেটকে ভূল বুঝাইয়া নামজারী আদেশ হাসিল করেন। এরপর সম্পত্তি রক্ষার্থে নামজারীগুলো বাতিলের জন্য সহকারী কমিশনার ভূমি সিলেট বরাবরে রিভিউ মোকাদ্দমা ০৬/২০১০ দায়ের করে মো. ফয়ছল উদ্দীন আহমদ।

 

উক্ত মোকাদ্দমা উভয় পক্ষের শুনানিঅন্তে আদালত নামজারী বাতিলক্রমে ১০০ শতক ভূমি বাদীর পক্ষে রায় দেন এবং তাদের নামে নামজারীর আদেশ প্রদান করেন বিগত ২০১১ সালের ১৭ জানুয়ারী। পরবর্তী এ ভূমি খেকো কুচক্রি মহল ফয়ছল উদ্দীনের নামজারী বাতিলের বিরুদ্ধে সিলেট অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আদালতে বিবিদ আপিল ৩০/২০১১ ইং দায়ের করেন। উক্ত আপিলও আদালত নামঞ্জুর করায় ফয়ছল উদ্দীন আহমদ মৌরসীসূত্রে নামজারী পেয়ে বেচা-বিক্রি শুরু করেন।

 

কিন্তু গেল বছরের ১ এপ্রিল মামলার প্রধান আসামী ইউনুছ আলী রেজিস্টার বিহীন দলিল দেখিয়ে আমমোক্তার সালেহ আহমদ চৌধুরী মিথ্যা তথ্য দিয়ে সিলেট জেলার যুগ্ম জেলা জজ ২য় আদালতে নালিশা ভূমিতে একটি স্বত্ত্ব ঘোষণা মামলা (২৫.০৫.১৯৬১ সালের দলিলের উল্লেখপূর্বক) দায়ের করেন। মামলায় ফয়ছল উদ্দীন ভাই-বোন সবাইকে আসামী করা হয়।

 

সালেহ আহমদ চৌধুরী এভাবে মিথ্যা তথ্য ও ভূমি জালিয়াতি করে আসছেন। সাধারণ মানুষকে ফাসিয়ে ভূমি খেকো সালেহ ইতোমধ্যে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। জাল দলিল দিয়ে সম্পত্তি আত্মসাৎ করে সাধারণ মানুষকে পথে নামিয়েছেন।

 

ভূমিখেকো সালেহ চৌধুরীসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে মো. ফয়ছল উদ্দীন আহমদ সিলেট মেট্রোপলিটন চীফ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলা দায়ের করেন।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ