সবার দৃষ্টি রংপুরে সিটি নির্বাচন আজ
- Update Time : ০৩:০৯:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০১৭
- / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
ডেস্ক রিপোর্ট :: রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন আজ। বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গতকাল বুধবার সব ভোট কেন্দ্রেই পাঠানো হয়েছে ব্যালট বাক্স, ব্যালট পেপারসহ নির্বাচন সামগ্রী। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোট গ্রহণ চলবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শহরজুড়ে এখন শুধুই উত্সবের আমেজ। তবে সহিংস ঘটনারও আশঙ্কা করা হচ্ছে। ১৯৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১০৮টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে থাকছে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মাঠে রয়েছেন বিজিবি, র্যাব, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা।
প্রথম বারের মত দলীয় প্রতীকে এই ভোটযুদ্ধের মধ্য দিয়ে নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন রংপুরের দ্বিতীয় নগর পিতা। কে হচ্ছেন নগর পিতা- এনিয়ে গোটা শহরে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টু, জাতীয় পার্টির (এ) মেয়র প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা ও বিএনপির মেয়র প্রার্থী কাওসার জামান বাবলার মধ্য থেকেই নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন নগর পিতা।
একটি কেন্দ্রে ইভিএম:এবার নির্বাচনে মোট ১৯৩টি ভোটকেন্দ্রের ১ হাজার ১৭৭টি ভোট কক্ষে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। বর্তমানে ভোটার রয়েছেন ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৯৯৪ জন। মেয়র পদে মোট ৭ জন প্রার্থী ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন। এছাড়া সিটি কর্পোরেশনের ৩৩টি ওয়ার্ডের সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২১১ জন এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৬৫ জন প্রার্থী বিভিন্ন প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বাংলাদেশে এই প্রথম সিটি নির্বাচনে রংপুর বেগম রোকেয়া কলেজ কেন্দ্রে ইভিএম’র মাধ্যমে ভোট নেয়া হবে বলে জানা গেছে। এছাড়া ওই কেন্দ্রসহ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে থাকবে সিসি ক্যামেরা। বুধবার রাতে রংপুর অফিসে সংবাদ সম্মেলন করে রিটার্নিং ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সরকার বলেছেন, উত্সবমুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানে সকল ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত মাত্র ২৭ জন প্রার্থীকে আচরণবিধি লংঘনের দায়ে সামান্য জরিমানা করা হয়েছে। এর বাইরে বড় ধরনের কোন আচরণবিধি লংঘনের ঘটনা ঘটেনি।
নিরাপত্তা প্রস্তুতি : নির্বাচনী পরিবেশ বিষয়ক কমিটির সদস্য পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, ভোটে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের কঠোর হাতে দমন করা হবে। নির্বাচনের নিরাপত্তায় থাকবেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৫ হাজার ৫শ সদস্য। একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ৩৩টি স্ট্রাইকিং ফোর্স, একজন করে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ১১টি ভ্রাম্যমাণ আদালত সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়া নির্বাচনী মাঠে নামছে নির্বাচন কমিশনের ১১টি নীরব পর্যবেক্ষক দল। নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব এসব কর্মকর্তা পরিচয় গোপন রেখে নির্বাচনের সামগ্রিক পরিবেশ সমপর্কে তথ্য নির্বাচন কমিশনকে জানাবেন। ডিআইজি জানান, জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটসহ সব স্তরের কর্মকর্তা সার্বক্ষণিক মাঠে থাকবেন। কোনও কেন্দ্রে কোনও ধরনের গোলযোগ হলে যাতে দুই মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে যাওয়া সম্ভব হয় সেজন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এদিকে নির্বাচন উপলক্ষে গতকাল দুপুরে নগরীতে মোটরসাইকেল ও গাড়ি নিয়ে মহড়া দিয়েছে র্যাব। পরে নগরীর পায়রা চত্বরে সংবাদ সম্মেলন করে র্যাব-১৩ এর অধিনায়ক কমান্ডার এ টি এম আতিকুল্ল্যাহ বলেন, নির্বাচন উপলক্ষে রংপুরের আকাশে টহল দেবে হেলিকপ্টার। যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকবে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, ডগ স্কোয়াডসহ র্যাবের সদস্যরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রংপুরের প্রবেশদ্বার, রংপুর শহর, গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বসানো হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক চৌকি। পাড়া-মহল্লায় র্যাব, পুলিশ ও বিজিবি টহল দিচ্ছে। এর আগে সকালে রংপুর পুলিশ লাইন মাঠে নির্বাচনী সরঞ্জাম গ্রহণ এবং ভোটকেন্দ্রে সার্বিক নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়ে পুলিশ ও আনসার সদস্যদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, রিটার্নিং ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সরকার, রংপুরের জেলা প্রশাসক ওয়াহিদুজ্জামান ও পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান।
প্রার্থীরা যা বললেন: নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টু বলেন, ‘আমি জনগণের আমানত নিয়ে কখনও খেয়ানত করিনি। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা রংপুরের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় আমাকে নৌকা প্রতীক দিয়েছেন। আমি বিশ্বাস করি, রংপুরবাসী প্রধানমন্ত্রীর সম্মান রক্ষা করবেন।’
বিএনপি মেয়র প্রার্থী কাওসার জামান বাবলা বলেন, ‘রংপুরের মানুষ নৌকা আর লাঙ্গলকে চায় না। তাদের দুঃশাসনে পিষ্ট রংপুরবাসী ব্যালটের মাধ্যমে জবাব দেবে। ধানের শীষ মার্কায় সিল মেরে নিরব বিপ্লব ঘটিয়ে আমাকে জয়ী করবে।’
জাতীয় পার্টির (এ) মেয়র প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, ‘রংপুরবাসী লাঙ্গল ছাড়া আর কিছুই বুঝে না। লাঙ্গলের জোয়ার উঠেছে। নির্বাচনে লাঙ্গলের জয় অবশ্যই হবে।’
এছাড়া নির্বাচনে জাপা চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদের ভাতিজা দলের বহিস্কৃত কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক এইচএম আসিফ শাহরিয়ার (হাতি-স্বতন্ত্র), বাসদের আব্দুল কুদ্দুস (মই), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এটিএম গোলাম মোস্তফা বাবু (হাত পাখা) ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির সেলিম আখতার (আম) মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
রংপুরে এরশাদ: সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোট দিতে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ এবং স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় পার্টি রংপুর জেলা আহ্বায়ক মশিয়ার রহমান রাঙ্গা গত তিন দিন ধরে রংপুরে অবস্থান করছেন। এছাড়া ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে জাপার (এ) একাধিক শীর্ষ নেতা রংপুরে অবস্থান করছেন।
বাবার জন্য ভোট প্রার্থনা: আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টুর পুত্র একটি বেসরকারি কোম্পানির উর্ধ্বতন কর্মকর্তা রিয়াজ আহমেদ হিমন সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমার বাবার একজন সত্ মানুষ, অন্যায়ের প্রতিবাদ করা তার ধর্ম। রংপুরের মানুষের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে দীর্ঘ ৮ বছর কারাবরণ করেছেন। রংপুরবাসী নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আমার পিতাকে জয়ী করবেন বলে আমার বিশ্বাস।’
জাতীয় পার্টির (এ) মেয়র প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা’র কন্যা মেডিক্যাল কলেজের এমবিবিএস প্রথম বর্ষের ছাত্রী জারিন তাসনিম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি শতভাগ গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি আমি তার সন্তান হিসেবে যেভাবে নিজেকে গর্বিত মনে করি, ঠিক তেমনি তাকে নির্বাচিত করলে পুরো মহানগরবাসী গর্বিত হবেন।’



























