শেখ হাসিনা চাউল দিছইন, আমরা ভাত খাইয়া দোয়া কররাম
- Update Time : ০৯:০৪:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০১৭
- / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
মো.শাহজাহান মিয়া :: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে ফসল হানির ঘটনায় দুঃখের সাগরে ভেসেছিল ক্ষগ্রিস্ত কৃষক সহ সাধারণ জনগণ।
তবে সরকার সারা বছর চাল-টাকা সহ বিভিন্ন অনুদান দেয়ায় সেই অসহায় মানুষদের মুখে ফুঠে উঠেছে আনন্দের হাসি।
জানাগেছে, গত বছরের বৈশাখ মৌসুমে অকাল বন্যায় জগন্নাথপুর উপজেলার সর্ববৃহৎ নলুয়ার হাওর সহ সুনামগঞ্জ জেলার ছোট-বড় প্রায় সকল হাওরের কাচা ধান তলিয়ে যায়।
এ সময় চোখের সামনে নিজেদের জমিতে উৎপাদিত ধান তলিয়ে যাচ্ছে দেখে কৃষকরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তখন চারদিকে শুরু হয় হাহাকার।
এ খবর দ্রুত দেশ ব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। তখন রাষ্ট্রপতি অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সুনামগঞ্জের তলিয়ে যাওয়া হাওরাঞ্চল পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সহ জনগণকে আশ্বস্ত করেন দেশে কোন মানুষ না খেয়ে মরবে না। সরকার সব সময় এসব অসহায় মানুষের পাশে থাকবে।
এরই ধারাবাহিকতায় সরকার সারা বছর চাল ও নগদ টাকা দিয়ে সহায়তা করে যাচ্ছে। বিশেষ করে জনপ্রতি ৩০ কেজি চাল ও নগদ ৫০০ টাকা করে চার মাসে মোট চার বার দেয়ার বিষয়টি সবচেয়ে আলোচিত হয়েছে। এছাড়া আরো বিভিন্ন অনুদান প্রদান করা হয়।
যদিও স্থানীয় কিছু সংখ্যক জন প্রতিনিধি ও দলীয় নেতাকর্মীদের স্বজনপ্রীতির কারণে সরকারের সেই মহৎ উদ্যোগ শতভাগ সফল হয়নি। তবুও সুবিধাভোগী জনগণের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে এবং বইছে আনন্দের বন্যা।
তবে বঞ্চিত প্রকৃত অসহায় জনগণের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। সরকারি এসব অনুদান দলীয় নেতাকর্মী ও জন প্রতিনিধিদের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়। এ ক্ষেত্রে দলীয় নেতাকর্মীরা নিজেদের দলকে বেশি প্রাধান্য দেয়ায় কিছু অসহায় মানুষ বঞ্চিত হন। এছাড়া জন প্রতিনিধিদের যারা ভোট দিয়েছেন, তাদেরকে বেশি প্রাধান্য দেয়ায় আরো কিছু প্রকৃত অসহায় মানুষ বঞ্চিত হয়েছেন। এতে বঞ্চিতদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দেয়।
১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের জনগণের মধ্যে জনপ্রতি ৩০ কেজির ভিজিএফ এর চাল ও নগদ ৫০০ টাকা করে বিতরণ করা হয়।
এ সময় ঈদুল আযহার আগের দিন সরকারি চাল ও টাকা পেয়ে আকিক মিয়া, আবদুর রহিম, তছলিম উদ্দিন, রংমালা বিবি, রেখা বেগম, জাহানারা বেগম সহ অভাবী পরিবারের লোকজন সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তাদের অনুভূতি প্রকাশ করে স্থানীয় আঞ্চলিক ভাষায় বলেন, শেখ হাসিনা আমরারে চাউল দিছইন, টাকা দিছইন, আমরা ভাত খাইয়া তাঁর লাগি দোয়া কররাম। আল্লাহ’য় তাইনের ভালা করুক। স্থানীয় ইউপি সদস্য সুজাত মিয়া সহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
এ ব্যাপারে জগন্নাথপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) শহিদুজ্জামান ও উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা ধীরাজ নন্দী উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে সঠিকভাবে সরকারি ভিজিএফ এর চাল ও টাকা বিতরণ হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন।



























