০৩:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

লেনদেন নিয়ে চেয়ারম্যান ও মেম্বারের মারামারি

  • Update Time : ০৩:০৯:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
  • / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :: ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যের মধ্যে পাওনা টাকা নিয়ে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৩০ মার্চ) বিকেলে পাওনা টাকা চাওয়া-কে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার ৩নং বাহাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কক্ষে এঘটনা ঘটে। ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, চেয়ারম্যান ও মেম্বারের মধ্যে খুব ভাল সম্পর্ক ছিল, কিন্তু হঠাৎ তাদের পাওনা টাকা নিয়ে বাক বিতণ্ডার এক পর্যায়ে চেয়ারম্যান নান্টু চৌধুরীকে মেম্বার সহদেব দাশ আক্রমণ করে। এসময় একই পরিষদের ইউপি সদস্য মধুসূদন দাস ও আলমাছ মিয়া এবং এলাকার কিছু মানুষ চেয়ারম্যানের অফিসে ছিল। মূলত তারাই উভয়কে কন্ট্রোল করে পরিবেশ শান্ত করেন। এ ব্যপারে বাহাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলমাছ মিয়া বলেন, “চেয়ারম্যান অফিসে ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সহদেব দাশ চেয়ারম্যান বিশ্বজিত চৌধুরী নান্টুর কাছে পাওনা টাকা চায়। এসময় চেয়ারম্যান বলেন যদি কোন টাকা পাওনা থাকে তাহলে পরে বসে আলোচনা করব। কিন্তু মেম্বার সহদেব দাশ আঙ্গুল তুলে কথা বললে চেয়ারম্যান সামনে এসে দাঁড়িয়ে মেম্বারকে আঙ্গুল নামিয়ে কথা বলেতেই মেম্বার তাকে আক্রমন করে। পরে আমি, মধু মেম্বারসহ আরো কিছু মানুষ মিলে দু’জনকেই আলাদা করে সহদেবকে কক্ষের বাহিরে বের করে দেই। পরে বাহিরে সহদেবের সাথে চেয়ারম্যানের ছোট ভাই জুয়েলের হাতাহাতি হয়।”

এব্যাপারে ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মধু দাস বলেন, “আমরা চেয়ারম্যানের রুমে বসা অবস্থায় সহদেব মেম্বার চেয়ারম্যানকে বলেন টাকা দিতে। তখন চেয়ারম্যান বলেন পরে কথা বলবে। একথা বলেতেই সহদেব মেম্বার আঙ্গুল উঁচিয়ে বলেন এই মুহুর্তে আমার টাকার দিতে হবে। তখন চেয়ারম্যান দাঁড়িয়ে মেম্বারকে শান্ত হয়ে আঙ্গুল নামিয়ে কথা বলতেই সহদেব মেম্বার ক্ষিপ্ত হয়ে চেয়ারম্যানকে ঘুষি মারেন। পরে আমরা দুই মেম্বার ও পাবলিক মিলে চেয়ারম্যানকে অফিসে আটকিয়ে মেম্বার সহদেবকে বাহিরে বের করে দেই।”

চেয়ারম্যান বিশ্বজিত চৌধুরী নান্টু বলেন, “হঠাৎ আলমাছ ও সহদেব মেম্বার একসাথে অফিসে ঢুকে। সহদেব মেম্বার আমাকে বলেতেছে টাকা দিতে। আমি বলছি কিসের টাকা এবং কোনো টাকা পাওনা থাকলে পরে বসে সমাধান করব। কিন্তু সহদেব মেম্বার উত্তেজিত হয়ে আমার দিকে আঙ্গুল তুলে এই মুহুর্তে টাকা দিতে বলে। আমি ভদ্রতার সহিত কথা বলার জন্য বল্লে সে আরোও উত্তেজিত হয়ে আমাকে একাধিক ঘুষি মারতে থাকে। এসময় মেম্বার মধু দাস ও তপনসহ আরো অনেকেই আহত অবস্থায় চিকিৎসার জন্য শাল্লা মেডিকেলে ভর্তি হই। আমার ছোট ভাই জুয়েলও মেডিকেল ভর্তি আছে।”

তিনি আরোও বলেন, এই ঘটনা সম্পূর্ণ পরিকল্পিত। এ বিষয়ে আমি আইনগত ব্যবস্থা নিব। জুয়েলের সাথে কথা বলার চেষ্টা করলে তার ফোন নাম্বার ফরোয়ার্ড দেখানোর ফলে কথা বলা হয় নি।

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য সহদেব দাশ বলেন, “আমি চেয়ারম্যানের কাছে ৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা পাই কিন্তু ২ বছর পার হলেও আমাকে দেই দিচ্ছি বলে হয়রানি করছে। আজ আমি পাওনা টাকা চাইতে গেলে এ বিষয়ে পরে কথা বলবে বলে জানান। তার কাছে দুধ নিয়ে গেলে এক ফোটা দুধও ফেরৎ আসে না। একথা বলেতেই চেয়ারম্যান রেগে আমার ঘাড় ধরে অফিস থেকে বের করে দেয় এবং তার অনুসারীদের এনে আমাকে বেধড়ক মারধর করে আহত করে। পরে আমি জীবন রক্ষার জন্য সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেনের ঘরে আশ্রয় নিলে এখানেও আমাকে আক্রমনের উদ্দেশ্যে মহড়া দেয়। তাই নিরাপত্তা জনিত কারণে আমি শাল্লা মেডিকেলে ভর্তি না হয়ে সিলেটে চিকিৎসার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। আইনি ব্যবস্থা নিতে থানায় লিখিত অভিযোগ করতেছি।”

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

লেনদেন নিয়ে চেয়ারম্যান ও মেম্বারের মারামারি

Update Time : ০৩:০৯:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক :: ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যের মধ্যে পাওনা টাকা নিয়ে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৩০ মার্চ) বিকেলে পাওনা টাকা চাওয়া-কে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার ৩নং বাহাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কক্ষে এঘটনা ঘটে। ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, চেয়ারম্যান ও মেম্বারের মধ্যে খুব ভাল সম্পর্ক ছিল, কিন্তু হঠাৎ তাদের পাওনা টাকা নিয়ে বাক বিতণ্ডার এক পর্যায়ে চেয়ারম্যান নান্টু চৌধুরীকে মেম্বার সহদেব দাশ আক্রমণ করে। এসময় একই পরিষদের ইউপি সদস্য মধুসূদন দাস ও আলমাছ মিয়া এবং এলাকার কিছু মানুষ চেয়ারম্যানের অফিসে ছিল। মূলত তারাই উভয়কে কন্ট্রোল করে পরিবেশ শান্ত করেন। এ ব্যপারে বাহাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলমাছ মিয়া বলেন, “চেয়ারম্যান অফিসে ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সহদেব দাশ চেয়ারম্যান বিশ্বজিত চৌধুরী নান্টুর কাছে পাওনা টাকা চায়। এসময় চেয়ারম্যান বলেন যদি কোন টাকা পাওনা থাকে তাহলে পরে বসে আলোচনা করব। কিন্তু মেম্বার সহদেব দাশ আঙ্গুল তুলে কথা বললে চেয়ারম্যান সামনে এসে দাঁড়িয়ে মেম্বারকে আঙ্গুল নামিয়ে কথা বলেতেই মেম্বার তাকে আক্রমন করে। পরে আমি, মধু মেম্বারসহ আরো কিছু মানুষ মিলে দু’জনকেই আলাদা করে সহদেবকে কক্ষের বাহিরে বের করে দেই। পরে বাহিরে সহদেবের সাথে চেয়ারম্যানের ছোট ভাই জুয়েলের হাতাহাতি হয়।”

এব্যাপারে ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মধু দাস বলেন, “আমরা চেয়ারম্যানের রুমে বসা অবস্থায় সহদেব মেম্বার চেয়ারম্যানকে বলেন টাকা দিতে। তখন চেয়ারম্যান বলেন পরে কথা বলবে। একথা বলেতেই সহদেব মেম্বার আঙ্গুল উঁচিয়ে বলেন এই মুহুর্তে আমার টাকার দিতে হবে। তখন চেয়ারম্যান দাঁড়িয়ে মেম্বারকে শান্ত হয়ে আঙ্গুল নামিয়ে কথা বলতেই সহদেব মেম্বার ক্ষিপ্ত হয়ে চেয়ারম্যানকে ঘুষি মারেন। পরে আমরা দুই মেম্বার ও পাবলিক মিলে চেয়ারম্যানকে অফিসে আটকিয়ে মেম্বার সহদেবকে বাহিরে বের করে দেই।”

চেয়ারম্যান বিশ্বজিত চৌধুরী নান্টু বলেন, “হঠাৎ আলমাছ ও সহদেব মেম্বার একসাথে অফিসে ঢুকে। সহদেব মেম্বার আমাকে বলেতেছে টাকা দিতে। আমি বলছি কিসের টাকা এবং কোনো টাকা পাওনা থাকলে পরে বসে সমাধান করব। কিন্তু সহদেব মেম্বার উত্তেজিত হয়ে আমার দিকে আঙ্গুল তুলে এই মুহুর্তে টাকা দিতে বলে। আমি ভদ্রতার সহিত কথা বলার জন্য বল্লে সে আরোও উত্তেজিত হয়ে আমাকে একাধিক ঘুষি মারতে থাকে। এসময় মেম্বার মধু দাস ও তপনসহ আরো অনেকেই আহত অবস্থায় চিকিৎসার জন্য শাল্লা মেডিকেলে ভর্তি হই। আমার ছোট ভাই জুয়েলও মেডিকেল ভর্তি আছে।”

তিনি আরোও বলেন, এই ঘটনা সম্পূর্ণ পরিকল্পিত। এ বিষয়ে আমি আইনগত ব্যবস্থা নিব। জুয়েলের সাথে কথা বলার চেষ্টা করলে তার ফোন নাম্বার ফরোয়ার্ড দেখানোর ফলে কথা বলা হয় নি।

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য সহদেব দাশ বলেন, “আমি চেয়ারম্যানের কাছে ৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা পাই কিন্তু ২ বছর পার হলেও আমাকে দেই দিচ্ছি বলে হয়রানি করছে। আজ আমি পাওনা টাকা চাইতে গেলে এ বিষয়ে পরে কথা বলবে বলে জানান। তার কাছে দুধ নিয়ে গেলে এক ফোটা দুধও ফেরৎ আসে না। একথা বলেতেই চেয়ারম্যান রেগে আমার ঘাড় ধরে অফিস থেকে বের করে দেয় এবং তার অনুসারীদের এনে আমাকে বেধড়ক মারধর করে আহত করে। পরে আমি জীবন রক্ষার জন্য সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেনের ঘরে আশ্রয় নিলে এখানেও আমাকে আক্রমনের উদ্দেশ্যে মহড়া দেয়। তাই নিরাপত্তা জনিত কারণে আমি শাল্লা মেডিকেলে ভর্তি না হয়ে সিলেটে চিকিৎসার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। আইনি ব্যবস্থা নিতে থানায় লিখিত অভিযোগ করতেছি।”

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ