১১:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রেন্টাল বিদ্যুতে আগামী বছর থেকেই রাশ টানতে চায় সরকার

  • Update Time : ০৫:২৮:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ জুন ২০১৭
  • / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: বিদ্যুৎ উৎপাদন দ্রুত বাড়াতে ভাড়াভিত্তিক (রেন্টাল) বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের প্রক্রিয়া চালু করা হয় কয়েক বছর আগে। আগামী বছর থেকেই রেন্টাল বিদ্যুতে রাশ টানতে চায় সরকার। গতকাল বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীলতা, আগামী ২০১৮ সালে যখন বিদ্যুৎ সরবরাহে একটি স্বস্তির অবস্থান সৃষ্টি হবে, তখন থেকেই কমানোর কার্যক্রম শুরু হবে।

 

 

 

বাজেট বক্তৃতায় মুহিত নির্মাণাধীন ১১ হাজার ২১৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৩৩টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অতিরিক্ত ১১ হাজার ১২৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৪২টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে দেশের ৮০ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে। অবশিষ্ট ২০ শতাংশ আগামী ২০২১ সালের আগেই বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আসবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে আশা করছি। রামপাল, মাতারবাড়ি, পটুয়াখালীর পায়রা এবং বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন অব্যাহত থাকবে। এছাড়া মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও সিঙ্গাপুরের আর্থিক সহায়তায় মহেশখালীতে চারটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেয়ার কথা বলেন তিনি।

 

 

 

এছাড়া গ্যাসভিত্তিক পুরনো বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো সংরক্ষণ ও মেরামতের পাশাপাশি উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার আওতায় নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে বিদ্যুৎ আমদানির পরিকল্পনার কথাও জানান অর্থমন্ত্রী। বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যুতের নতুন সঞ্চালন ও বিতরণ লাইন স্থাপনের উপরও জোর দেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রায় ১০ হাজার কিলোমিটার নতুন সঞ্চালন লাইন এবং প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার কিলোমিটার নতুন বিতরণ লাইন নির্মাণের পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।

 

 

সিস্টেম লস কমানো, লোড ম্যানেজমেন্ট এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ২০২১ সালের মধ্যে আরো ২ কোটি প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান মুহিত। একই সঙ্গে মহেশখালীতে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ কাজের অগ্রগতির কথা জানিয়ে ২০১৮ সালের শেষ নাগাদ সব শিল্প প্রতিষ্ঠানে গ্যাস সরবরাহের আশা প্রকাশ করেন তিনি। চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর পারিকল্পনা জানিয়ে মুহিত বলেন, বাপেক্স কর্তৃক ২০২১ সালের মধ্যে মোট ১০৮টি কূপ খননের লক্ষ্যমাত্রা আমাদের রয়েছে। পরিকল্পনা মোতাবেক কূপ খনন ও এসব কূপ থেকে গ্যাস উৎপাদন শুরু হলে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হবে। গ্যাসের দাম নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০১৮ সালে গ্যাস আমদানি শুরু হলে আন্তর্জাতিক দামে আমাদের তা খরিদ করতে হবে।

 

 

এ জন্য গ্যাসের উপর ধার্য বর্তমান করাদি যৌক্তিকীকরণ করা হবে। এর ফলে ইউনিটপ্রতি গ্যাসের দাম যে বাড়বে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে বিদ্যুৎ ব্যবহারে ভর্তুকি প্রদানের অনুরূপ নীতি অনুসরণ করে গ্যাসের দামও সমন্বয় করা হবে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

রেন্টাল বিদ্যুতে আগামী বছর থেকেই রাশ টানতে চায় সরকার

Update Time : ০৫:২৮:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ জুন ২০১৭

জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: বিদ্যুৎ উৎপাদন দ্রুত বাড়াতে ভাড়াভিত্তিক (রেন্টাল) বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের প্রক্রিয়া চালু করা হয় কয়েক বছর আগে। আগামী বছর থেকেই রেন্টাল বিদ্যুতে রাশ টানতে চায় সরকার। গতকাল বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীলতা, আগামী ২০১৮ সালে যখন বিদ্যুৎ সরবরাহে একটি স্বস্তির অবস্থান সৃষ্টি হবে, তখন থেকেই কমানোর কার্যক্রম শুরু হবে।

 

 

 

বাজেট বক্তৃতায় মুহিত নির্মাণাধীন ১১ হাজার ২১৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৩৩টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অতিরিক্ত ১১ হাজার ১২৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৪২টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে দেশের ৮০ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে। অবশিষ্ট ২০ শতাংশ আগামী ২০২১ সালের আগেই বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আসবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে আশা করছি। রামপাল, মাতারবাড়ি, পটুয়াখালীর পায়রা এবং বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন অব্যাহত থাকবে। এছাড়া মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও সিঙ্গাপুরের আর্থিক সহায়তায় মহেশখালীতে চারটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেয়ার কথা বলেন তিনি।

 

 

 

এছাড়া গ্যাসভিত্তিক পুরনো বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো সংরক্ষণ ও মেরামতের পাশাপাশি উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার আওতায় নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে বিদ্যুৎ আমদানির পরিকল্পনার কথাও জানান অর্থমন্ত্রী। বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যুতের নতুন সঞ্চালন ও বিতরণ লাইন স্থাপনের উপরও জোর দেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রায় ১০ হাজার কিলোমিটার নতুন সঞ্চালন লাইন এবং প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার কিলোমিটার নতুন বিতরণ লাইন নির্মাণের পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।

 

 

সিস্টেম লস কমানো, লোড ম্যানেজমেন্ট এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ২০২১ সালের মধ্যে আরো ২ কোটি প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান মুহিত। একই সঙ্গে মহেশখালীতে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ কাজের অগ্রগতির কথা জানিয়ে ২০১৮ সালের শেষ নাগাদ সব শিল্প প্রতিষ্ঠানে গ্যাস সরবরাহের আশা প্রকাশ করেন তিনি। চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর পারিকল্পনা জানিয়ে মুহিত বলেন, বাপেক্স কর্তৃক ২০২১ সালের মধ্যে মোট ১০৮টি কূপ খননের লক্ষ্যমাত্রা আমাদের রয়েছে। পরিকল্পনা মোতাবেক কূপ খনন ও এসব কূপ থেকে গ্যাস উৎপাদন শুরু হলে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হবে। গ্যাসের দাম নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০১৮ সালে গ্যাস আমদানি শুরু হলে আন্তর্জাতিক দামে আমাদের তা খরিদ করতে হবে।

 

 

এ জন্য গ্যাসের উপর ধার্য বর্তমান করাদি যৌক্তিকীকরণ করা হবে। এর ফলে ইউনিটপ্রতি গ্যাসের দাম যে বাড়বে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে বিদ্যুৎ ব্যবহারে ভর্তুকি প্রদানের অনুরূপ নীতি অনুসরণ করে গ্যাসের দামও সমন্বয় করা হবে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ