০৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রমজানের আগেই সিলেটসহ পাঁচ সিটিতে ভোটের পরিকল্পনা ইসির

  • Update Time : ০৫:০২:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ মার্চ ২০১৮
  • / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ পাঁচ সিটি করপোরেশনে নির্বাচন করতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটের দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে রমজানের আগেই ভোটের আয়োজন করতে চায় সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। সবার আগে ভোট হবে গাজীপুর সিটি নির্বাচনে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সিটিগুলোর ভোটার তালিকার সিডি প্রস্তুত করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এবার এই পাঁচ সিটি নির্বাচন আয়োজনে অধিক সতর্কতা অবলম্বনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি।
এরই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার ইসি সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব ফরহাদ আহম্মদ খান স্বাক্ষরিত চিঠি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এতে গাজীপুর, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট সিটির বিষয়ে আইনগত কোনো জটিলতা থাকলে তা নিরসন করে ইসিকে জানাতে বলা হয়েছে।

ইসির কর্মকর্তারা বলেছেন, আগামী ২ এপ্রিল থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হবে।  ১৩ মে পরীক্ষা শেষ হবে। ফলে রজমানের আগে নির্বাচন করার জন্য সময় পাচ্ছে ইসি। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ১৬ অথবা ১৭ মে রমজান শুরু হতে যাচ্ছে; সে হিসেবে ১৫, ১৬ ও ১৭ জুন ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হবে।

সে হিসেবে  দুই ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি। রমজানের আগেই পাঁচ সিটি নির্বাচনের ভোট আয়োজন করা হবে। তা না হলে রমজানের আগে শুধু ‘গাজীপুর সিটির ভোট এবং রমজানের পর বাকি চার সিটিতে ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

আগামী ১৮ মার্চ পাঁচ সিটি নির্বাচনের প্রস্তুতির জন্য সমন্বয় সভা আহ্বান করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ভোটের সামগ্রী কেনার তত্পরতাও শুরু হয়ে গেছে। ওই সভায় ভোটার তালিকা প্রস্তুত ও কেন্দ্রভিত্তিক ভোটার তালিকার সিডি তৈরিসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত করা হবে।

সিটি করপোরেশন নির্বাচনের বিধিমালা অনুযায়ী, মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। আর মেয়াদ হচ্ছে সিটির প্রথম সভা হতে পরবর্তী পাঁচ বছর।

নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে পাঁচ সিটির ভোট। সংসদ নির্বাচনের আগে জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের মূল হাতিয়ার হিসেবে এই পাঁচ সিটির নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেবে রাজনৈতিক দলগুলো। জাতীয় নির্বাচনের প্রাকপ্রস্তুতি হিসেবে দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠেয় সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফল নির্বাচনী রাজনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। এজন্য সংসদ নির্বাচনের আগে এই সিটি নির্বাচনে বিএনপিসহ অন্যান্য দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা ও সবার আস্থা অর্জনে পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে ইসিকে। যাতে করে একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে কোনোভাবেই এসব নির্বাচন বিতর্কিত না হয়।

নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা এবং সর্বশেষ রংপুর সিটির পরে এই পাঁচ সিটিতে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হবে। নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হলেও কুমিল্লায় জয়ী হয়েছে বিএনপি। রংপুরে বিজয়ী হয়েছে জাতীয় পার্টি-জাপার প্রার্থী। আসন্ন পাঁচটিতে বিগত সময়ে জয়লাভ করেছিল বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা। সেই হিসেবে সামনের সিটি নির্বাচন আওয়ামী লীগ-বিএনপির জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের মাপকাঠি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

রমজানের আগেই সিলেটসহ পাঁচ সিটিতে ভোটের পরিকল্পনা ইসির

Update Time : ০৫:০২:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ মার্চ ২০১৮

জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ পাঁচ সিটি করপোরেশনে নির্বাচন করতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটের দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে রমজানের আগেই ভোটের আয়োজন করতে চায় সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। সবার আগে ভোট হবে গাজীপুর সিটি নির্বাচনে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সিটিগুলোর ভোটার তালিকার সিডি প্রস্তুত করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এবার এই পাঁচ সিটি নির্বাচন আয়োজনে অধিক সতর্কতা অবলম্বনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি।
এরই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার ইসি সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব ফরহাদ আহম্মদ খান স্বাক্ষরিত চিঠি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এতে গাজীপুর, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট সিটির বিষয়ে আইনগত কোনো জটিলতা থাকলে তা নিরসন করে ইসিকে জানাতে বলা হয়েছে।

ইসির কর্মকর্তারা বলেছেন, আগামী ২ এপ্রিল থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হবে।  ১৩ মে পরীক্ষা শেষ হবে। ফলে রজমানের আগে নির্বাচন করার জন্য সময় পাচ্ছে ইসি। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ১৬ অথবা ১৭ মে রমজান শুরু হতে যাচ্ছে; সে হিসেবে ১৫, ১৬ ও ১৭ জুন ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হবে।

সে হিসেবে  দুই ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি। রমজানের আগেই পাঁচ সিটি নির্বাচনের ভোট আয়োজন করা হবে। তা না হলে রমজানের আগে শুধু ‘গাজীপুর সিটির ভোট এবং রমজানের পর বাকি চার সিটিতে ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

আগামী ১৮ মার্চ পাঁচ সিটি নির্বাচনের প্রস্তুতির জন্য সমন্বয় সভা আহ্বান করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ভোটের সামগ্রী কেনার তত্পরতাও শুরু হয়ে গেছে। ওই সভায় ভোটার তালিকা প্রস্তুত ও কেন্দ্রভিত্তিক ভোটার তালিকার সিডি তৈরিসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত করা হবে।

সিটি করপোরেশন নির্বাচনের বিধিমালা অনুযায়ী, মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। আর মেয়াদ হচ্ছে সিটির প্রথম সভা হতে পরবর্তী পাঁচ বছর।

নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে পাঁচ সিটির ভোট। সংসদ নির্বাচনের আগে জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের মূল হাতিয়ার হিসেবে এই পাঁচ সিটির নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেবে রাজনৈতিক দলগুলো। জাতীয় নির্বাচনের প্রাকপ্রস্তুতি হিসেবে দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠেয় সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফল নির্বাচনী রাজনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। এজন্য সংসদ নির্বাচনের আগে এই সিটি নির্বাচনে বিএনপিসহ অন্যান্য দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা ও সবার আস্থা অর্জনে পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে ইসিকে। যাতে করে একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে কোনোভাবেই এসব নির্বাচন বিতর্কিত না হয়।

নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা এবং সর্বশেষ রংপুর সিটির পরে এই পাঁচ সিটিতে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হবে। নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হলেও কুমিল্লায় জয়ী হয়েছে বিএনপি। রংপুরে বিজয়ী হয়েছে জাতীয় পার্টি-জাপার প্রার্থী। আসন্ন পাঁচটিতে বিগত সময়ে জয়লাভ করেছিল বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা। সেই হিসেবে সামনের সিটি নির্বাচন আওয়ামী লীগ-বিএনপির জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের মাপকাঠি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ