মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে উচ্ছেদ আতঙ্কে ৪ শতাধিক মানুষ
- Update Time : ০৫:৪৮:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ আগস্ট ২০১৭
- / ২ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
জগন্নাথপুর পত্রিকা :: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে উচ্ছেদ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে ৫০ পরিবারের দরিদ্র মানুষ। প্রভাবশালীদের ভাড়াটিয়া বাহিনী কর্তৃক বসত ভিটে থেকে উচ্ছেদ আতঙ্কে এসব পরিবারের ৪ শতাধিক মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছে।শ্রীমঙ্গল উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের পাহাড় ঘেরা প্রত্যন্ত গ্রাম ববানপুর। ১৯৫২ সালে ছরিম উল্টা নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় ১৫ একর জমি ক্রয় করে বসতি গড়ে তোলেন ২৪টি পরিবার। পরবর্তিকালে পরিবারগুলি সেই জমির খাজনা দিয়ে বংশানুক্রমে
অদ্যাবধি তারা এই গ্রামে বসবাস করে আসছে। ১৯৬৫ সালে এই গ্রামের পাশের একটি চা বাগান গড়ে উঠলে ২০০৭ সালে হঠাৎ
করে বাগান কর্তৃপক্ষ ভূমিটির মালিকানা দাবী করে ৫৫ বছরের পুরনো গ্রামটি দখলে নিতে গ্রামবাসীকে উচ্ছেদ নোটিশ দেয়। দেশের বিশিষ্ট সমাজসেবক লায়লা কবিরের মালিকানাধিন দিনারপুর টি এস্টেট নামে এই বাগান কর্তৃপক্ষ দাবী করছে- বাগান সম্প্রসারণ লক্ষে তারা বিবাদমান জমিটিসহ কিছু ভূমি সরকার থেকে ৩৬ বছরের লীজ বন্দোবস্ত নিয়েছে। এ নিয়ে গ্রামবাসীর পক্ষে ছতির মিয়া গং আদালতে মামলা করে পরে হেরে যায়। এরপর গ্রামবাসীরা আপিল করলে এ পর্যন্ত মামলাটি স্থিতিবস্থায় রয়ে যায়। এ অবস্থায় দিনারপুর টি এস্টেট কর্তৃপক্ষ মামলার রায়ের জোরে গ্রামটি উচ্ছেদে চেষ্টা করায় এই ৫০টি পরিবারের ৪ শতাধিক মানুষ চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
সরেজমিন পরিদর্শনে গেলে এলাকার অবাল বৃদ্ধ নারী পুরুষ সাংবাদিকদের ঘিরে ধরেন। চোখে মুখে অনিশ্চয়তার ছাপ নিয়ে ৭৫ বছর বয়সী খোদেজা বিবি বলেন, ৬০ বছর আগে সে এই গ্রামে এসেছিলেন নববধূর পোষাকে। এরপর একে একে শ্বশুর,শাশুড়ি, স্বামী মারা গেছেন এখানেই। নাতি নাতনি নিয়ে এখানে বসবাস করছেন। প্রত্যন্ত অঞ্চলে গ্রামটির চারিদিকে দরিদ্রতার ছাপ।
৫০টি পরিবারের সবগুলি ঘর মাটির তৈরী। বিদ্যুতের আলোহীন গ্রামে কোন কৃষি জমি নেই। উঠানে সবজি, বাঁশ চাষাবাদ ও দিনমজুরী গ্রামবাসীদের আয়ের উৎস। ৬৫ বছর বয়সী গ্রামের আব্রু মিয়া বলেন, চা বাগান মালিকদের টাকা আছে। আমরা দরিদ্র মানুষ। এ ভিটে নিয়ে আমরা খুব দুশ্চিন্তায় আছি। ওরা আমাদের গ্রাম থেকে উচ্ছেদ করলে কোথায় যাব, আমাদের তো যাবার কোন জায়গা নেই। মোছদ্দর আলী বলেন, ওরা জোর করে উচ্ছেদ করতে বাগান কর্তৃপক্ষ তাদের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী দিয়ে হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছে। এব্যাপারে তারা প্রধান মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
স্থানীয় মির্জাপুর ইউনিয়নের সদস্য লুৎফুর রহমান বলেন, একদিকে উচ্ছেদ অন্যদিকে সন্ত্রাসী হামলার আশংকায় গ্রামের দরিদ্র মানুষরা তাদের নারী ও শিশুদের নিয়ে চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।
যোগাযোগ করা হলে দিনারপুর চা বাগানের ম্যানেজার মিজানুর রহমান জোর করে গ্রামবাসীদের উচ্ছেদ করার অভিযোগ সত্য
নয়। বিবাদমান ভূমির মালিকানা প্রশ্নে কোর্ট বাগানের পক্ষে যে রায় দিয়েছে তার প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল। কোর্ট আবার যদি গ্রামবাসীদের পক্ষে রায় দেয় তবে তারা থাকবে। তিনি আরো বলেন, সন্ত্রাসী ভাড়াটে দিয়ে গ্রামবাসীদের উচ্ছেদের অভিযোগ
অস্বীকার করে বলেন, আদালতের রায় পাওয়ার পর সন্ত্রাসী দিয়ে ভূমি দখল নেয়ার প্রয়োজন পড়েনা।



























