১০:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মানবিক বিপর্যয়

  • Update Time : ০৩:২০:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ আগস্ট ২০১৭
  • / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: ভয়াল মৌসুমি বন্যা বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিচ্ছে। বন্যাক্রান্ত মানুষের সংখ্যা এ তিন দেশে ১ কোটি ৬০ লাখ ছাড়িয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তীব্র উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন মানবিক কর্মকাণ্ডমূলক বিশ্বের বৃহত্তম নেটওয়ার্ক আইএফআরসি’র শীর্ষ কর্মকর্তা মার্টিন ফলার। রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির বৈশ্বিক এই জোটের এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের উপ-পরিচালক ফলার বলেন, বন্যা খুব দ্রুত অন্যতম ভয়াবহ এক মানবিক দুর্যোগে পরিণত হচ্ছে, যেমনটা এই অঞ্চলের মানুষ বহুবছর ধরে দেখেনি। আর বিধ্বংসী এই বন্যায় আক্রান্ত লাখ লাখ মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিতে জরুরিভিত্তিতে পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালজুড়ে লাখ লাখ মানুষ খাদ্য সংকট ও দূষিত পানি থেকে ছড়ানো রোগের সম্মুখীন।’ সামনের দিনগুলোতে সৃষ্ট মানবিক সংকটের আরো অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
রিলিফওয়েবের এক প্রতিবেদনে ফলারের এমন উদ্বেগ উঠে এসেছে। জাতিসংঘের মানবিক কর্মকাণ্ড সমন্বয় বিষয়ক কার্যালয় ওসিএইচএ’র বিশেষায়িত ডিজিটাল সেবা রিলিফওয়েব বৈশ্বিক সংকট ও দুর্যোগ সংক্রান্ত শীর্ষ তথ্যসূত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।
প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে উল্লেখ হয়, বন্যার পানির উচ্চতা ইতিমধ্যেই পূর্বের সব রেকর্ড অতিক্রম করেছে। যমুনার মতো বড় নদীগুলোর পানি দেশের ইতিহাসের ভয়াবহতম ১৯৮৮ সালের বন্যার চেয়েও বেশি উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে।
মি. ফলার বলেন, ‘বাংলাদেশ ও নেপালের এক-তৃতীয়াংশের বেশি অঞ্চল ইতিমধ্যে বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। আমাদের আশঙ্কা সামনের দিন ও সপ্তাহগুলোতে মানবিক সংকট আরো শোচনীয় আকার ধারণ করবে।’
রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে, ভারতের ফুলেফেঁপে ওঠা নদীর পানি বাংলাদেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের জনবহুল নিচু এলাকাগুলোতে প্রবাহিত হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে বন্যা আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ৩৯ লাখের বেশি।
ওদিকে, নেপালে ১১ ও ১২ই আগস্ট হওয়া সবচেয়ে সাম্প্রতিক ধ্বংসাত্মক বন্যা ও ভূমিধসের পর অনেক এলাকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে এখনও। বহু গ্রাম ও জনগোষ্ঠী খাবার, পানি ও বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় দিনাতিপাত করছে। নেপাল রেডক্রস সোসাইটির মহাসচিব দেব রত্ন ধাকওয়া বলেন, ‘মর্মান্তিক এই বন্যা নেপালে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১২৮ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৩৩ জন।’ তিনি আরো বলেন, ‘নেপাল রেডক্রসের ৫ শ’র বেশি স্বেচ্ছাসেবী বন্যাদুর্গতদের কাছে ত্রাণ ও সাহায্য পৌঁছে দিতে লড়ে যাচ্ছেন। খাবার ও পানির পাশাপাশি অস্থায়ী আশ্রয় তৈরির জন্যে ত্রিপল সরবরাহ করছেন তারা। নেপালের দক্ষিণে দেশটির প্রধান চাষাবাদ ও কৃষিকাজের জমিগুলো থেকে ফসল ভাসিয়ে নিয়ে গেছে বানের পানি। আমাদের আশঙ্কা, এই ক্ষয়ক্ষতি মারাত্মক খাদ্য সংকট সৃষ্টি করবে।’
নেপাল রেডক্রসের বন্যা মোকাবিলা তৎপরতায় সাহায্য করতে আইএফআরসি তাদের দুর্যোগ ত্রাণ জরুরি তহবিল (ডিআরইএফ) থেকে ৫ লাখ সুইস ফ্রাঙ্ক অনুদান দিয়েছে। (বাংলাদেশি টাকায় এর পরিমাণ আনুমানিক ৪ কোটি ২১ লাখ)। কি পরিমাণ জরুরি সহায়তা প্রয়োজন তার পুরো চিত্র ধীরে ধীরে সামনে আসছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, সামনের দিনগুলোতে আরো বেশি সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে।
এদিকে, ভারতের উত্তরাঞ্চলের চারটি রাজ্যে বন্যাক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ১ কোটি ১০ লাখের বেশি। সামনের দিনগুলোতে এই অঞ্চলজুড়ে আরো ভারী বর্ষণের পূর্বাভাষ দিয়েছে ভারতের আবহাওয়া বিভাগ।
জুলাই মাসের শেষের দিকে পূর্ব ভারতে মারাত্মক বন্যাদূর্গত ২৫ হাজার ব্যক্তিকে জরুরি সহায়তা দিতে আইএফআরসি তাদের তহবিল থেকে ৩ লাখ ২০ হাজার সুইস ফ্রাঙ্ক অনুদান দিয়েছে। (বাংলাদেশি টাকায় এর পরিমান আনুমানিক ২ কোটি ৭০ লাখ)
ইন্ডিয়ান রেড ক্রস ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট ভারত ও বাংলাদেশে নিজ নিজ এলাকায় বন্যাদুর্গতদের দুর্ভোগ লাঘবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অবিরাম কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সুত্র মানবজমিন

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

মানবিক বিপর্যয়

Update Time : ০৩:২০:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ আগস্ট ২০১৭

জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: ভয়াল মৌসুমি বন্যা বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিচ্ছে। বন্যাক্রান্ত মানুষের সংখ্যা এ তিন দেশে ১ কোটি ৬০ লাখ ছাড়িয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তীব্র উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন মানবিক কর্মকাণ্ডমূলক বিশ্বের বৃহত্তম নেটওয়ার্ক আইএফআরসি’র শীর্ষ কর্মকর্তা মার্টিন ফলার। রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির বৈশ্বিক এই জোটের এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের উপ-পরিচালক ফলার বলেন, বন্যা খুব দ্রুত অন্যতম ভয়াবহ এক মানবিক দুর্যোগে পরিণত হচ্ছে, যেমনটা এই অঞ্চলের মানুষ বহুবছর ধরে দেখেনি। আর বিধ্বংসী এই বন্যায় আক্রান্ত লাখ লাখ মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিতে জরুরিভিত্তিতে পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালজুড়ে লাখ লাখ মানুষ খাদ্য সংকট ও দূষিত পানি থেকে ছড়ানো রোগের সম্মুখীন।’ সামনের দিনগুলোতে সৃষ্ট মানবিক সংকটের আরো অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
রিলিফওয়েবের এক প্রতিবেদনে ফলারের এমন উদ্বেগ উঠে এসেছে। জাতিসংঘের মানবিক কর্মকাণ্ড সমন্বয় বিষয়ক কার্যালয় ওসিএইচএ’র বিশেষায়িত ডিজিটাল সেবা রিলিফওয়েব বৈশ্বিক সংকট ও দুর্যোগ সংক্রান্ত শীর্ষ তথ্যসূত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।
প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে উল্লেখ হয়, বন্যার পানির উচ্চতা ইতিমধ্যেই পূর্বের সব রেকর্ড অতিক্রম করেছে। যমুনার মতো বড় নদীগুলোর পানি দেশের ইতিহাসের ভয়াবহতম ১৯৮৮ সালের বন্যার চেয়েও বেশি উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে।
মি. ফলার বলেন, ‘বাংলাদেশ ও নেপালের এক-তৃতীয়াংশের বেশি অঞ্চল ইতিমধ্যে বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। আমাদের আশঙ্কা সামনের দিন ও সপ্তাহগুলোতে মানবিক সংকট আরো শোচনীয় আকার ধারণ করবে।’
রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে, ভারতের ফুলেফেঁপে ওঠা নদীর পানি বাংলাদেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের জনবহুল নিচু এলাকাগুলোতে প্রবাহিত হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে বন্যা আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ৩৯ লাখের বেশি।
ওদিকে, নেপালে ১১ ও ১২ই আগস্ট হওয়া সবচেয়ে সাম্প্রতিক ধ্বংসাত্মক বন্যা ও ভূমিধসের পর অনেক এলাকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে এখনও। বহু গ্রাম ও জনগোষ্ঠী খাবার, পানি ও বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় দিনাতিপাত করছে। নেপাল রেডক্রস সোসাইটির মহাসচিব দেব রত্ন ধাকওয়া বলেন, ‘মর্মান্তিক এই বন্যা নেপালে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১২৮ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৩৩ জন।’ তিনি আরো বলেন, ‘নেপাল রেডক্রসের ৫ শ’র বেশি স্বেচ্ছাসেবী বন্যাদুর্গতদের কাছে ত্রাণ ও সাহায্য পৌঁছে দিতে লড়ে যাচ্ছেন। খাবার ও পানির পাশাপাশি অস্থায়ী আশ্রয় তৈরির জন্যে ত্রিপল সরবরাহ করছেন তারা। নেপালের দক্ষিণে দেশটির প্রধান চাষাবাদ ও কৃষিকাজের জমিগুলো থেকে ফসল ভাসিয়ে নিয়ে গেছে বানের পানি। আমাদের আশঙ্কা, এই ক্ষয়ক্ষতি মারাত্মক খাদ্য সংকট সৃষ্টি করবে।’
নেপাল রেডক্রসের বন্যা মোকাবিলা তৎপরতায় সাহায্য করতে আইএফআরসি তাদের দুর্যোগ ত্রাণ জরুরি তহবিল (ডিআরইএফ) থেকে ৫ লাখ সুইস ফ্রাঙ্ক অনুদান দিয়েছে। (বাংলাদেশি টাকায় এর পরিমাণ আনুমানিক ৪ কোটি ২১ লাখ)। কি পরিমাণ জরুরি সহায়তা প্রয়োজন তার পুরো চিত্র ধীরে ধীরে সামনে আসছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, সামনের দিনগুলোতে আরো বেশি সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে।
এদিকে, ভারতের উত্তরাঞ্চলের চারটি রাজ্যে বন্যাক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ১ কোটি ১০ লাখের বেশি। সামনের দিনগুলোতে এই অঞ্চলজুড়ে আরো ভারী বর্ষণের পূর্বাভাষ দিয়েছে ভারতের আবহাওয়া বিভাগ।
জুলাই মাসের শেষের দিকে পূর্ব ভারতে মারাত্মক বন্যাদূর্গত ২৫ হাজার ব্যক্তিকে জরুরি সহায়তা দিতে আইএফআরসি তাদের তহবিল থেকে ৩ লাখ ২০ হাজার সুইস ফ্রাঙ্ক অনুদান দিয়েছে। (বাংলাদেশি টাকায় এর পরিমান আনুমানিক ২ কোটি ৭০ লাখ)
ইন্ডিয়ান রেড ক্রস ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট ভারত ও বাংলাদেশে নিজ নিজ এলাকায় বন্যাদুর্গতদের দুর্ভোগ লাঘবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অবিরাম কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সুত্র মানবজমিন

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ