মরা গরুর মাংস বিক্রির দায়ে দোকান সিলগালা, মাংস জব্দ
- Update Time : ০৯:০৩:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬
- / ১০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
ডেস্ক রিপোর্ট :: বাজারে মরা গরুর মাংস বিক্রির দায়ে একটি মাংসের দোকান সিলগালা করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ সময় বিপুল পরিমাণ মাংস জব্দ করার পাশাপাশি দোকানে থাকা একটি জীবন্ত গরু নিলামে বিক্রি করা হয়েছে। অভিযুক্ত মাংস ব্যবসায়ীর নাম সমছুল ইসলাম (৫০)। তিনি সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার হেমু বেলোপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর বাজার কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাধারণত মাওলানা এমাদ উদ্দিন গরু জবাইয়ের তদারকি করেন। সোমবার দুপুর ১টার দিকে ব্যবসায়ী সমছুল ইসলাম কমিটির নিয়ম তোয়াক্কা না করেই মাংস বিক্রি শুরু করেন। এতে সন্দেহ হলে মাওলানা এমাদ উদ্দিন দোকানে গিয়ে মরা গরুর মাংস দেখতে পান। বিষয়টি দ্রুত জানাজানি হলে স্থানীয় শত শত মানুষ বাজারে জড়ো হয়। জনরোষের মুখে দোকান মালিক সমছুল ইসলাম পালিয়ে যান। খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিস পলি রাণী দেব এবং জৈন্তাপুর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করে। অভিযানে দোকান থেকে প্রায় ৯০ কেজি মরা গরুর মাংস (বাজারমূল্য প্রায় ৭০ হাজার টাকা) এবং ফ্রিজে রাখা আরও প্রায় ৫০ হাজার টাকা মূল্যের বাসি মাংস জব্দ করা হয়।
অভিযান চলাকালে দোকানে থাকা একটি জীবিত গরু জনসম্মুখে ডাকের মাধ্যমে ৭৩ হাজার টাকায় নিলামে বিক্রি করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হান্নান নিলামে গরুটি কিনে নেন। জব্দ করা ক্ষতিকর মাংসগুলো ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিক আহমদের জিম্মায় দেওয়া হয়।
জৈন্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মরা গরুর মাংস বিক্রির খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছি। উত্তেজিত জনতা দোকানটি ঘিরে রাখলেও ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। জব্দ করা মাংসগুলো যথাযথ প্রক্রিয়ায় মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে এবং দোকানটি সিলগালা করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের এমন তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে হরিপুর বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।



























