১২:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভণ্ডদের গুণ্ডামি রক্তাক্ত হল পর্যটননগরী জাফলং- রশীদ জামীল

  • Update Time : ০৮:৫৭:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ভণ্ডদের গুণ্ডামি রক্তাক্ত হল পর্যটননগরী জাফলং- রশীদ জামীল

 

যুক্তিতে না পারলে শক্তিতে দেখো নেব; এই বর্বর নীতিতে আটরশির ভণ্ডরা এবার গুণ্ডামিতে নেমে এসে প্রমাণ করল তারা শুধু ভণ্ডামিতেই না, গুণ্ডামিতেও সেরা। নিজ এলাকায় রাতের আঁধারে হামলা চালিয়ে হত্যা করল কওমি মাদরাসার দু’জন ছাত্রকে। জখমি হলেন অনেক। ছোটভাই সাংবাদিক শাহিদ হাতিম অন দ্যা স্পট ফোন দিয়ে নিশ্চিত হলাম ৪০ জন জখমি হয়েছেন। এরমধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশংকাজনক।

ভাবতে অবাক লাগছে এই ছিচকে সন্ত্রাসীরা এতবড় সাহস পেলো কী করে! ওদের জানার কথা বাইয়ামপুরি, আব্দুল্লাহ হরিপুরির সিলেটে উলামায়ে কেরাম লাগবে না, শুধু কওমি মাদরাসার ছেলেরাই যদি তাদের ধাওয়া করে, তাহলে পাগলা কুকুরের মত লেজ সোজা করে সিলেট ছেড়তে হবে তাদের। পালাবার পথ খুঁজে পাবে না। যদি পেয়েও যায়, তাহলে পালিয়ে তাদের ভণ্ডামীর বিন্দাবন ফরিদপুর পর্যন্ত গিয়ে পৌছাতেও পারবে না। রাস্তায় রাস্তায় কওমি ছেলেরা তাদেরকে জুতাপেটা করেই মেরে ফেলবে। নমরুদের পরিণতি বরণ করে রাস্তার কুকুরের মত মারা যেতে হবে।

 

২.
খোজ নিয়ে জানলাম, মাজারপুজারি আটরশির ভণ্ডদের ঈমানবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড নিয়ে অতিষ্ট জৈন্তাপুরের মানুষ। ইসলামের নামে নাচ গান বাজনা এবং পীর-মুরিদির নামে নারীপুরুরেষের অবাধ নষ্টামীতে জৈন্তার মাটিকে বিষিয়ে তুলেছিল তারা। এলাকার সাধারণ মুসলমান তাদের এই ঈমান বিধ্বংসী কার্যকলাপ থেকে সহজ সরল মুলমানের ঈমান রক্ষার জন্য আয়োজন করেছিল শান্তিপূর্ব মুনাযারার। ফেইস টু ফেইস বিতর্ক অনুষ্ঠানের। স্থান নির্ধারিত হয়েছিল জাফলং এর আসামপাড়া, আটরশীর পীরের মুরিদ নামের গুণ্ডাদের এলাকায়। কওমি আলেমরা সরল বিশ্বাসে সেখানে গিয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন। তারা জানতেন না ভণ্ডরা আগেই প্লান করে রেখেছিল। কথা শুরু হবার পর কথায় পেরে না ওঠে একপর্যায়ে অতর্কিত হামলা চালালো তারা। আবদুল্লাহ হরিপুরির হরিপুর মাদরাসার অসহায় ছাত্র উস্তাদের উপর দেশি অস্ত্র নিয়ে হামলে পড়লো পাগলা কুকুরের মত।

 

৩.
এর আগে, বেশ কয়েক বছর আগে মাওলানা মনিরকে হত্যা করা হয়েছিল। সিলেটের কিছু গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং প্রসাসন বিষয়টি আপোষ-রফা করার জন্য মাঝে পড়েছিলেন। আমার মনে আছে প্রিন্সিপাল হাবীবুর রহমান বলেছিলেন, ‘কিসের আপোস। আমার মানুষকে মারবে আর আপোস বৈঠকে বসে বলবে, সরি, ভুল হয়েগেছে। হাবীবুর রহমান এসবের বিশ্বাস করে না। প্রসাসনকে ৭২ ঘণ্টার ভেতর খুনিকে গ্রেফতার করতে হবে, আর নাহয় প্রসাসন বলুক, আমরা ব্যর্থ হয়েছি। ব্যাপারটি আমাদের হাতে ছেড়ে দিক। আমরা এখনো হাতে চুড়ি পরা শুরু করিনি। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তারমানে এই নায় যে, কেউ আমার ঘরে এসে আমাকে আঘাত করবে আর আমরা শান্তি শান্তি করব। সিলেটের কওমি কর্ণধারগণ ব্যাপারটি কঠোরভাবে মোকাবেলা করবেন, আমরা তাদের উপর সেই আস্থাটুকু রাখতে চাই

 

৪.
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ভণ্ডদের একটাকেও এলাকায় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এলাকার সাধারণ মানুষ তাদের উপর ক্ষিপ্ত হন্য হয়ে তাদেরকে খুঁজছে। থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে পুরো এলাকা জুড়ে। আমি জানি না শায়খ আব্দুল্লাহ হরিপুরি আজ বেঁচে থাকলে কী অবস্থা হত! আমার তো মনেহয় ফজর পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতেই রাজি হতেন না তিনি। আমরা আশা করতে চাই লোকাল প্রশাসন ব্যাপারটিকে হালকাভাবে নেওয়ার ভুল করবে না।

 

৫.
সিলেটের ১০ লক্ষ কওমি ছাত্রদের মনের অবস্থা কিছুটা হলেও মনেহয় আঁচ করতে পারছি। আমি জানি কওমি প্রজন্ম বিস্ফোরণোন্মুখ হয়েই আছে। অনুরোধ করতে চাই, সাহস ধৈর্য এবং আনুগত্যের সাথে পরিস্থিতির মোকাবেলা করুন। আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে মুরব্বিদের নির্দেশ এবং আনুগত্যের আওতায় থেকে খুনিদের খুঁজে বের করে পুলিশের হাতে তুলে দিন।

 


খুনিরা আইনের আওতায় আসুক। আসুক মানে আনতেই হবে। শোক পরিণত হোক শক্তিতে। সেই শক্তি কাজে লাগুক মাজারপুজা এবং শিরক ও বিদআতমুক্ত সিলেট গড়ায়।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

ভণ্ডদের গুণ্ডামি রক্তাক্ত হল পর্যটননগরী জাফলং- রশীদ জামীল

Update Time : ০৮:৫৭:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

ভণ্ডদের গুণ্ডামি রক্তাক্ত হল পর্যটননগরী জাফলং- রশীদ জামীল

 

যুক্তিতে না পারলে শক্তিতে দেখো নেব; এই বর্বর নীতিতে আটরশির ভণ্ডরা এবার গুণ্ডামিতে নেমে এসে প্রমাণ করল তারা শুধু ভণ্ডামিতেই না, গুণ্ডামিতেও সেরা। নিজ এলাকায় রাতের আঁধারে হামলা চালিয়ে হত্যা করল কওমি মাদরাসার দু’জন ছাত্রকে। জখমি হলেন অনেক। ছোটভাই সাংবাদিক শাহিদ হাতিম অন দ্যা স্পট ফোন দিয়ে নিশ্চিত হলাম ৪০ জন জখমি হয়েছেন। এরমধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশংকাজনক।

ভাবতে অবাক লাগছে এই ছিচকে সন্ত্রাসীরা এতবড় সাহস পেলো কী করে! ওদের জানার কথা বাইয়ামপুরি, আব্দুল্লাহ হরিপুরির সিলেটে উলামায়ে কেরাম লাগবে না, শুধু কওমি মাদরাসার ছেলেরাই যদি তাদের ধাওয়া করে, তাহলে পাগলা কুকুরের মত লেজ সোজা করে সিলেট ছেড়তে হবে তাদের। পালাবার পথ খুঁজে পাবে না। যদি পেয়েও যায়, তাহলে পালিয়ে তাদের ভণ্ডামীর বিন্দাবন ফরিদপুর পর্যন্ত গিয়ে পৌছাতেও পারবে না। রাস্তায় রাস্তায় কওমি ছেলেরা তাদেরকে জুতাপেটা করেই মেরে ফেলবে। নমরুদের পরিণতি বরণ করে রাস্তার কুকুরের মত মারা যেতে হবে।

 

২.
খোজ নিয়ে জানলাম, মাজারপুজারি আটরশির ভণ্ডদের ঈমানবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড নিয়ে অতিষ্ট জৈন্তাপুরের মানুষ। ইসলামের নামে নাচ গান বাজনা এবং পীর-মুরিদির নামে নারীপুরুরেষের অবাধ নষ্টামীতে জৈন্তার মাটিকে বিষিয়ে তুলেছিল তারা। এলাকার সাধারণ মুসলমান তাদের এই ঈমান বিধ্বংসী কার্যকলাপ থেকে সহজ সরল মুলমানের ঈমান রক্ষার জন্য আয়োজন করেছিল শান্তিপূর্ব মুনাযারার। ফেইস টু ফেইস বিতর্ক অনুষ্ঠানের। স্থান নির্ধারিত হয়েছিল জাফলং এর আসামপাড়া, আটরশীর পীরের মুরিদ নামের গুণ্ডাদের এলাকায়। কওমি আলেমরা সরল বিশ্বাসে সেখানে গিয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন। তারা জানতেন না ভণ্ডরা আগেই প্লান করে রেখেছিল। কথা শুরু হবার পর কথায় পেরে না ওঠে একপর্যায়ে অতর্কিত হামলা চালালো তারা। আবদুল্লাহ হরিপুরির হরিপুর মাদরাসার অসহায় ছাত্র উস্তাদের উপর দেশি অস্ত্র নিয়ে হামলে পড়লো পাগলা কুকুরের মত।

 

৩.
এর আগে, বেশ কয়েক বছর আগে মাওলানা মনিরকে হত্যা করা হয়েছিল। সিলেটের কিছু গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং প্রসাসন বিষয়টি আপোষ-রফা করার জন্য মাঝে পড়েছিলেন। আমার মনে আছে প্রিন্সিপাল হাবীবুর রহমান বলেছিলেন, ‘কিসের আপোস। আমার মানুষকে মারবে আর আপোস বৈঠকে বসে বলবে, সরি, ভুল হয়েগেছে। হাবীবুর রহমান এসবের বিশ্বাস করে না। প্রসাসনকে ৭২ ঘণ্টার ভেতর খুনিকে গ্রেফতার করতে হবে, আর নাহয় প্রসাসন বলুক, আমরা ব্যর্থ হয়েছি। ব্যাপারটি আমাদের হাতে ছেড়ে দিক। আমরা এখনো হাতে চুড়ি পরা শুরু করিনি। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তারমানে এই নায় যে, কেউ আমার ঘরে এসে আমাকে আঘাত করবে আর আমরা শান্তি শান্তি করব। সিলেটের কওমি কর্ণধারগণ ব্যাপারটি কঠোরভাবে মোকাবেলা করবেন, আমরা তাদের উপর সেই আস্থাটুকু রাখতে চাই

 

৪.
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ভণ্ডদের একটাকেও এলাকায় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এলাকার সাধারণ মানুষ তাদের উপর ক্ষিপ্ত হন্য হয়ে তাদেরকে খুঁজছে। থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে পুরো এলাকা জুড়ে। আমি জানি না শায়খ আব্দুল্লাহ হরিপুরি আজ বেঁচে থাকলে কী অবস্থা হত! আমার তো মনেহয় ফজর পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতেই রাজি হতেন না তিনি। আমরা আশা করতে চাই লোকাল প্রশাসন ব্যাপারটিকে হালকাভাবে নেওয়ার ভুল করবে না।

 

৫.
সিলেটের ১০ লক্ষ কওমি ছাত্রদের মনের অবস্থা কিছুটা হলেও মনেহয় আঁচ করতে পারছি। আমি জানি কওমি প্রজন্ম বিস্ফোরণোন্মুখ হয়েই আছে। অনুরোধ করতে চাই, সাহস ধৈর্য এবং আনুগত্যের সাথে পরিস্থিতির মোকাবেলা করুন। আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে মুরব্বিদের নির্দেশ এবং আনুগত্যের আওতায় থেকে খুনিদের খুঁজে বের করে পুলিশের হাতে তুলে দিন।

 


খুনিরা আইনের আওতায় আসুক। আসুক মানে আনতেই হবে। শোক পরিণত হোক শক্তিতে। সেই শক্তি কাজে লাগুক মাজারপুজা এবং শিরক ও বিদআতমুক্ত সিলেট গড়ায়।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ