০১:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬, ২২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিশ্বনাথে বিলুপ্তির পথে গরু, লাঙ্গল-জোয়াল’র ব্যবহার

  • Update Time : ০১:১৯:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ মে ২০১৮
  • / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

মো. আবুল কাশেম, বিশ্বনাথ থেকে :: সিলেটের বিশ্বনাথে বিলুপ্তির পথে গবাদি পশু গরু দিয়ে চাষাবাদ। কৃষিপ্রধান আমাদের দেশে এক সময় ক্ষেতে-খামারে কৃষকের গরু, লাঙ্গল ও মই দিয়ে চাষাবাদের দৃশ্য দেখা যেত। চাষাবাদে বহুল ব্যবহৃত বাঁশের তৈরি মই আজ বিলুপ্তির পথে।

 

এ উপজেলায় হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহি চাষাবাদের অন্যতম উপকরণ হিসেবে গরু, মই ও লাঙ্গল অপরির্হায। একসময় গরু ছাড়া গ্রাম বাংলায় চাষাবাদের কথা চিন্তাই করা হত না। কিন্তু বর্তমানে আধুনিক যুগে পর্দাপন করে চাষাবাদের যান্ত্রিক সব উপকরণ। আবিস্কারের প্রভাবে ক্রমশ; হারিয়ে যাচ্ছে কৃষি কাজে ব্যবহৃত ওই সব গরু, লাঙ্গল, জোয়াল, মই ও হালের বলদ। এসবের ব্যবহার স্বল্প আয়ের কিছু সংখ্যক কৃষক পরিবারে কোনো রকমে টিকে থাকলেও বিজ্ঞানের ক্রমশ উৎকর্ষের যুগে কৃষি কাজে ঠাই করে নিয়েছে পাওয়ার টিলার, ট্রাক্টর।

 

এর ফলে কৃষকরা আগের তুলানায় সময়, শ্রম এবং অর্থ উভয়ই সাশ্রয়ঘটাতে সক্ষম হয়েছে বৈকি। আধুনিক যুগে পাওয়ার টিলার, ট্রাক্টর যন্ত্রটির মূল্য সবার সাধ্যের মধ্যে না থাকায় এককভাবে অনেকই এটি ক্রয় করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বর্তমানে কৃষকদের কাছে পাওয়ার টিলার, ট্রাক্টর দিনদিন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। যন্ত্রটির ব্যাপক চাহিদা থাকায় বর্তমানে চাষাবাদের সব ধরণের কাজেই এটি ব্যবহার করছে কৃষক।

 

অপরদিকে, ব্যাপক চাহিদা থাকায় কেউ কেউ আবার বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পাওয়ার টিলার কিংবা ট্রাক্টর ভাড়াও দিচ্ছেন। এতে অনেকেই জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। এখনও গ্রাম-গঞ্জের অনেকেই কৃষি মৌসমে গ্রাম্য হাটবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে চাষাবাদের পুরনো দিনের কালের সাক্ষী লাঙ্গল, জোয়াল, মই ইত্যাদি সরঞ্জামের পসরা সাজিয়ে বসেন।

 

যারা এগুলোকে পেশা হিসেবে নিয়ে তৈরি করছেন, তাদের অনেককেই এজন্য বেশির ভাগ সময় বেকার বসে থাকতে হচ্ছে। তখনকার সময় এটিও ছিল কারও কারও পেশা। যার মাধ্যমে তারা জীবিকা নির্বাহ করত। বেশ কিছু কাল আগেও গ্রামাঞ্চলের কৃষকরা জমিতে চাষাবাদ করত হালের বলদ, লাঙ্গল ও মইয়ের ব্যবহার ছাড়া জমিতে চাষাবাদের কথা কল্পনাও করতে পারত না। তখন লাঙ্গল মইসহ কৃষি সরঞ্জাম তৈরিতে ব্যস্থ থাকত গ্রামাঞ্চলের অজ শ্রমিক। সেই বাশেঁর তৈরি মই যেন আজ ঐতিহ্য বহন করা আর স্মৃতি জাগানিয়া শুধুই কালের সাক্ষী। তবে উপজেলায় এখনও কিছু কিছু এলাকায় কৃষকরা গরু ও মই দিয়ে চাষাবাদ করতে দেখা যায়।

 

তাদের সাথে আলাপকালে জানা যায়, বর্তমানে আধুনিক যুগে চাষাবাদের জন্য বিভিন্ন উপকরণ তৈরি হয়েছে, তা সকল কৃষকের পক্ষে ক্রয় করা সম্ভব নয়। তাই তারা পুরোনো ঐতিহ্য গরু ও বাশেঁর তৈরি মই দিয়ে চাষাবাদ করে আসছেন।

 

কৃষকরা জানান, তবে গরু-লাঙ্গল ও মই দিয়ে খুব কম কৃষক চাষাবাদ করছেন। উপজেলার বেশির ভাগ কৃষক আধুনিক যন্ত্র পাওয়ার টিলার কিংবা ট্রাক্টর দিয়ে চাষাবাদ করে আসছেন। যার ফলে কাঠের লাঙ্গল, জোয়াল, মই ও হালের বলদ বিলুপ্তির পথে রয়েছে।

 

কৃষক মদরিছ আলী বলেন, বাশেঁর তৈরি মই এখনও আর আগের মত ব্যবহার করা হচ্ছে না। কারন বর্তমানে পাওয়ার টিলার কিংবা ট্রাক্টর দিয়ে জমিতে চাষাবাদ করা হয়। এর চাহিদাও কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।

 

অপর কৃষক রফিক আলী বলেন, আগে যেখানে জমিতে চাষাবাদের জন্য হালের বলদ, লাঙ্গল ও মই ক্রয় করত হতে, এখন এসেব কিছুই লাগে না। আধুনিক যন্ত্র দিয়েই চাষাবাদ করা হচ্ছে। যার ফলে বিলুপ্তির পথে রয়েছে আগেকার চাষাবাদের গ্রাম বাংলার পুরোনো লাঙ্গল, জোয়াল ও মই।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

বিশ্বনাথে বিলুপ্তির পথে গরু, লাঙ্গল-জোয়াল’র ব্যবহার

Update Time : ০১:১৯:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ মে ২০১৮

মো. আবুল কাশেম, বিশ্বনাথ থেকে :: সিলেটের বিশ্বনাথে বিলুপ্তির পথে গবাদি পশু গরু দিয়ে চাষাবাদ। কৃষিপ্রধান আমাদের দেশে এক সময় ক্ষেতে-খামারে কৃষকের গরু, লাঙ্গল ও মই দিয়ে চাষাবাদের দৃশ্য দেখা যেত। চাষাবাদে বহুল ব্যবহৃত বাঁশের তৈরি মই আজ বিলুপ্তির পথে।

 

এ উপজেলায় হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহি চাষাবাদের অন্যতম উপকরণ হিসেবে গরু, মই ও লাঙ্গল অপরির্হায। একসময় গরু ছাড়া গ্রাম বাংলায় চাষাবাদের কথা চিন্তাই করা হত না। কিন্তু বর্তমানে আধুনিক যুগে পর্দাপন করে চাষাবাদের যান্ত্রিক সব উপকরণ। আবিস্কারের প্রভাবে ক্রমশ; হারিয়ে যাচ্ছে কৃষি কাজে ব্যবহৃত ওই সব গরু, লাঙ্গল, জোয়াল, মই ও হালের বলদ। এসবের ব্যবহার স্বল্প আয়ের কিছু সংখ্যক কৃষক পরিবারে কোনো রকমে টিকে থাকলেও বিজ্ঞানের ক্রমশ উৎকর্ষের যুগে কৃষি কাজে ঠাই করে নিয়েছে পাওয়ার টিলার, ট্রাক্টর।

 

এর ফলে কৃষকরা আগের তুলানায় সময়, শ্রম এবং অর্থ উভয়ই সাশ্রয়ঘটাতে সক্ষম হয়েছে বৈকি। আধুনিক যুগে পাওয়ার টিলার, ট্রাক্টর যন্ত্রটির মূল্য সবার সাধ্যের মধ্যে না থাকায় এককভাবে অনেকই এটি ক্রয় করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বর্তমানে কৃষকদের কাছে পাওয়ার টিলার, ট্রাক্টর দিনদিন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। যন্ত্রটির ব্যাপক চাহিদা থাকায় বর্তমানে চাষাবাদের সব ধরণের কাজেই এটি ব্যবহার করছে কৃষক।

 

অপরদিকে, ব্যাপক চাহিদা থাকায় কেউ কেউ আবার বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পাওয়ার টিলার কিংবা ট্রাক্টর ভাড়াও দিচ্ছেন। এতে অনেকেই জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। এখনও গ্রাম-গঞ্জের অনেকেই কৃষি মৌসমে গ্রাম্য হাটবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে চাষাবাদের পুরনো দিনের কালের সাক্ষী লাঙ্গল, জোয়াল, মই ইত্যাদি সরঞ্জামের পসরা সাজিয়ে বসেন।

 

যারা এগুলোকে পেশা হিসেবে নিয়ে তৈরি করছেন, তাদের অনেককেই এজন্য বেশির ভাগ সময় বেকার বসে থাকতে হচ্ছে। তখনকার সময় এটিও ছিল কারও কারও পেশা। যার মাধ্যমে তারা জীবিকা নির্বাহ করত। বেশ কিছু কাল আগেও গ্রামাঞ্চলের কৃষকরা জমিতে চাষাবাদ করত হালের বলদ, লাঙ্গল ও মইয়ের ব্যবহার ছাড়া জমিতে চাষাবাদের কথা কল্পনাও করতে পারত না। তখন লাঙ্গল মইসহ কৃষি সরঞ্জাম তৈরিতে ব্যস্থ থাকত গ্রামাঞ্চলের অজ শ্রমিক। সেই বাশেঁর তৈরি মই যেন আজ ঐতিহ্য বহন করা আর স্মৃতি জাগানিয়া শুধুই কালের সাক্ষী। তবে উপজেলায় এখনও কিছু কিছু এলাকায় কৃষকরা গরু ও মই দিয়ে চাষাবাদ করতে দেখা যায়।

 

তাদের সাথে আলাপকালে জানা যায়, বর্তমানে আধুনিক যুগে চাষাবাদের জন্য বিভিন্ন উপকরণ তৈরি হয়েছে, তা সকল কৃষকের পক্ষে ক্রয় করা সম্ভব নয়। তাই তারা পুরোনো ঐতিহ্য গরু ও বাশেঁর তৈরি মই দিয়ে চাষাবাদ করে আসছেন।

 

কৃষকরা জানান, তবে গরু-লাঙ্গল ও মই দিয়ে খুব কম কৃষক চাষাবাদ করছেন। উপজেলার বেশির ভাগ কৃষক আধুনিক যন্ত্র পাওয়ার টিলার কিংবা ট্রাক্টর দিয়ে চাষাবাদ করে আসছেন। যার ফলে কাঠের লাঙ্গল, জোয়াল, মই ও হালের বলদ বিলুপ্তির পথে রয়েছে।

 

কৃষক মদরিছ আলী বলেন, বাশেঁর তৈরি মই এখনও আর আগের মত ব্যবহার করা হচ্ছে না। কারন বর্তমানে পাওয়ার টিলার কিংবা ট্রাক্টর দিয়ে জমিতে চাষাবাদ করা হয়। এর চাহিদাও কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।

 

অপর কৃষক রফিক আলী বলেন, আগে যেখানে জমিতে চাষাবাদের জন্য হালের বলদ, লাঙ্গল ও মই ক্রয় করত হতে, এখন এসেব কিছুই লাগে না। আধুনিক যন্ত্র দিয়েই চাষাবাদ করা হচ্ছে। যার ফলে বিলুপ্তির পথে রয়েছে আগেকার চাষাবাদের গ্রাম বাংলার পুরোনো লাঙ্গল, জোয়াল ও মই।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ