০৭:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিদ্যুত্ উত্পাদনের চেয়ে সাশ্রয়ে জোর দেওয়া বেশি জরুরি

  • Update Time : ০৪:৩৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট :: টেকসই জ্বালানি নিশ্চিত করার জন্য বিদ্যুত্ উত্পাদনের চেয়ে বিদ্যুত্ সাশ্রয়ে জোর দেয়া বেশি জরুরি। প্রতি কিলোওয়াট কিংবা মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদনে যে বিপুল অর্থ, জনবল এবং সময় খরচ হয় তা যতটুকু সম্ভব কম খরচ করা উচিত। কম বিদ্যুত্ ব্যবহার করে বেশি প্রয়োজন মেটাতে হবে। জ্বালানির সচেতন ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। টেকসই উন্নয়নের জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি।

গতকাল রবিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এক সেমিনারে বক্তারা এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানের পৃথক দুইটি পর্বে প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী এবং বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিদ্যুত্ সাশ্রয়ে সকল পর্যায়ের গ্রাহকদের সচেতন করতে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের কার্যকর ভূমিকা রাখার আহবান জানান। বাংলাদেশ সোলার এন্ড রিনিউয়েবল এনার্জি এসোসিয়েশন (বিএসআরইএ) এবং ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স ফোরাম (এফইআরবি) যৌথ উদ্যোগে এ সেমিনারের আয়োজন করে।

সেমিনারের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. তৌফিক-ই-ইলাহি চৌধুরী বলেন, সরকার বিদ্যুত্ সাশ্রয়ে বেসরকারি খাতকে উদ্বুদ্ধ করতে চায়। এ জন্য সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো কিভাবে একসাথে কাজ করতে পারে সে উপায়ও বের করা দরকার। তিনি বলেন, আমাদের অনেকে পশ্চিমা চিন্তাধারায় এবং তাদের মত জীবনযাপন করতে চায়। এটা ঠিক না। সকল জায়গায় আমাদের সাশ্রয়ী হতে হবে। আমাদের নিজেদের মডেল তৈরি করতে হবে। অপচয় রোধের বিকল্প নেই।

জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা বিদ্যুতের সরবরাহের দিকটি নিয়ে কাজ করছি। কিন্তু বিদ্যুতের সাশ্রয়ী ব্যবহার নিয়ে কোন কাজ করছি না। এখন সময় হয়েছে বিদ্যুতের সাশ্রয়ের দিকটি নিয়ে কাজ করতে হবে। ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের কাতারে আমরা যেতে চাই। সেজন্য আমাদের এখনই ভাবতে হবে।

অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে বিদ্যুত্ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, অনেক উন্নত দেশই এখন বিদ্যুত্ সাশ্রয় করছে। যাদের প্রাচুর্য বেশি তারা বেশি সাশ্রয় করছে। কিন্তু বাংলাদেশসহ নিম্ন আয়ের কিংবা মধ্যম আয়ের পথে যাওয়া দেশগুলো বেশি অপচয় করছে। এই অপচয় বন্ধ করতে হবে। বিদ্যুত্ সাশ্রয়ী পণ্য ব্যবহার করতে হবে।

সুইডেনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সুইডেনে বিদ্যুত্ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বিদ্যুত্ বিক্রি করতে পারছে না। কারণ সেখানকার ব্যবহারকারীরা বিদ্যুত্ সাশ্রয়ের কারণে তাদের বিদ্যুত্ কম লাগছে। কিন্তু আমরা এর বিপরীত। যে কারণে দেশের সরকার প্রধানকেও বিদ্যুত্ সাশ্রয়ের কথা বলতে হয় ।

বিদ্যুত্ প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুত্ সাশ্রয়ে বিল্ডিং কোড একটা প্রয়োজনীয় অংশ। বিল্ডিং কোডের মধ্যে সাশ্রয়ী বিষয়টা রাখা এবং সঠিক তদারকি করতে হবে। এছাড়া আমাদের পাঠ্যপুস্তকে একজন দায়িত্বশীল নাগরিকের দায়িত্ব ও কর্তব্য লিপিবদ্ধ থাকতে হবে। বিদ্যুত্ সরবরাহের দায়িত্বে থাকা কোম্পানিগুলোতে পরিবর্তন প্রয়োজন। বিতরণ লস কমাতে হবে। বিদ্যুত্ সাশ্রয়ের জন্য গ্রাহক পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য প্রচারণা চালাতে হবে। আগামীতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি একটা বড় অংশ দখল করে নেবে। সেজন্য আমাদের এখনই প্রস্তুতি নিতে হবে।

সেমিনারে মূল্য প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক মিজার আর খান। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিদ্যুত্ সচিব ড. আহমেদ কায়কাউস, স্রেডার চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দিন, পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন, পিডিবির চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার খালেদ মাহমুদ, বাংলাদেশ সোলার এন্ড রিনিউবল এনার্জি এসোসিয়েশনের সভাপতি দীপাল সি বড়ুয়া, এফইআরবি’র চেয়ারম্যান অরুণ কর্মকার, নির্বাহী পরিচালক সদরুল হাসান।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

বিদ্যুত্ উত্পাদনের চেয়ে সাশ্রয়ে জোর দেওয়া বেশি জরুরি

Update Time : ০৪:৩৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

ডেস্ক রিপোর্ট :: টেকসই জ্বালানি নিশ্চিত করার জন্য বিদ্যুত্ উত্পাদনের চেয়ে বিদ্যুত্ সাশ্রয়ে জোর দেয়া বেশি জরুরি। প্রতি কিলোওয়াট কিংবা মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদনে যে বিপুল অর্থ, জনবল এবং সময় খরচ হয় তা যতটুকু সম্ভব কম খরচ করা উচিত। কম বিদ্যুত্ ব্যবহার করে বেশি প্রয়োজন মেটাতে হবে। জ্বালানির সচেতন ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। টেকসই উন্নয়নের জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি।

গতকাল রবিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এক সেমিনারে বক্তারা এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানের পৃথক দুইটি পর্বে প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী এবং বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিদ্যুত্ সাশ্রয়ে সকল পর্যায়ের গ্রাহকদের সচেতন করতে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের কার্যকর ভূমিকা রাখার আহবান জানান। বাংলাদেশ সোলার এন্ড রিনিউয়েবল এনার্জি এসোসিয়েশন (বিএসআরইএ) এবং ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স ফোরাম (এফইআরবি) যৌথ উদ্যোগে এ সেমিনারের আয়োজন করে।

সেমিনারের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. তৌফিক-ই-ইলাহি চৌধুরী বলেন, সরকার বিদ্যুত্ সাশ্রয়ে বেসরকারি খাতকে উদ্বুদ্ধ করতে চায়। এ জন্য সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো কিভাবে একসাথে কাজ করতে পারে সে উপায়ও বের করা দরকার। তিনি বলেন, আমাদের অনেকে পশ্চিমা চিন্তাধারায় এবং তাদের মত জীবনযাপন করতে চায়। এটা ঠিক না। সকল জায়গায় আমাদের সাশ্রয়ী হতে হবে। আমাদের নিজেদের মডেল তৈরি করতে হবে। অপচয় রোধের বিকল্প নেই।

জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা বিদ্যুতের সরবরাহের দিকটি নিয়ে কাজ করছি। কিন্তু বিদ্যুতের সাশ্রয়ী ব্যবহার নিয়ে কোন কাজ করছি না। এখন সময় হয়েছে বিদ্যুতের সাশ্রয়ের দিকটি নিয়ে কাজ করতে হবে। ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের কাতারে আমরা যেতে চাই। সেজন্য আমাদের এখনই ভাবতে হবে।

অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে বিদ্যুত্ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, অনেক উন্নত দেশই এখন বিদ্যুত্ সাশ্রয় করছে। যাদের প্রাচুর্য বেশি তারা বেশি সাশ্রয় করছে। কিন্তু বাংলাদেশসহ নিম্ন আয়ের কিংবা মধ্যম আয়ের পথে যাওয়া দেশগুলো বেশি অপচয় করছে। এই অপচয় বন্ধ করতে হবে। বিদ্যুত্ সাশ্রয়ী পণ্য ব্যবহার করতে হবে।

সুইডেনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সুইডেনে বিদ্যুত্ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বিদ্যুত্ বিক্রি করতে পারছে না। কারণ সেখানকার ব্যবহারকারীরা বিদ্যুত্ সাশ্রয়ের কারণে তাদের বিদ্যুত্ কম লাগছে। কিন্তু আমরা এর বিপরীত। যে কারণে দেশের সরকার প্রধানকেও বিদ্যুত্ সাশ্রয়ের কথা বলতে হয় ।

বিদ্যুত্ প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুত্ সাশ্রয়ে বিল্ডিং কোড একটা প্রয়োজনীয় অংশ। বিল্ডিং কোডের মধ্যে সাশ্রয়ী বিষয়টা রাখা এবং সঠিক তদারকি করতে হবে। এছাড়া আমাদের পাঠ্যপুস্তকে একজন দায়িত্বশীল নাগরিকের দায়িত্ব ও কর্তব্য লিপিবদ্ধ থাকতে হবে। বিদ্যুত্ সরবরাহের দায়িত্বে থাকা কোম্পানিগুলোতে পরিবর্তন প্রয়োজন। বিতরণ লস কমাতে হবে। বিদ্যুত্ সাশ্রয়ের জন্য গ্রাহক পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য প্রচারণা চালাতে হবে। আগামীতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি একটা বড় অংশ দখল করে নেবে। সেজন্য আমাদের এখনই প্রস্তুতি নিতে হবে।

সেমিনারে মূল্য প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক মিজার আর খান। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিদ্যুত্ সচিব ড. আহমেদ কায়কাউস, স্রেডার চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দিন, পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন, পিডিবির চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার খালেদ মাহমুদ, বাংলাদেশ সোলার এন্ড রিনিউবল এনার্জি এসোসিয়েশনের সভাপতি দীপাল সি বড়ুয়া, এফইআরবি’র চেয়ারম্যান অরুণ কর্মকার, নির্বাহী পরিচালক সদরুল হাসান।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ