০৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বঙ্গবন্ধু হত্যায় রাঘব বোয়ালরা জড়িত ছিল

  • Update Time : ০৪:০১:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ আগস্ট ২০১৭
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার ষড়যন্ত্রে আরো অনেক রাঘব বোয়াল জড়িত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। তিনি বলেছেন, তদন্তের ত্রুটির কারণে সেই রাঘব বোয়ালদের বিচার করা যায়নি। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে গতকাল সুপ্রিম কোর্টের আয়োজনে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধনপূর্ব আলোচনাসভায় এসব কথা বলেন তিনি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগের সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলাই হত্যাকারীদের উদ্দেশ্য ছিল এবং বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডকে সম্পূর্ণ কাপুরুষোচিত বলে উল্লেখ করেন প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, এই ষড়যন্ত্রের মধ্যে আরো অনেক রাঘব বোয়াল জড়িত ছিল। কিন্তু তদন্তের ত্রুটির জন্য আমরা তাদের বিচারে সোপর্দ করতে পারিনি। যদিও আমাদের রায়ে আমরা পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছি, এটি একটি ক্রিমিনাল কন্সপিরেসি- পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছিল এবং তাদেরকে বিচারে সোপর্দ করার জন্য। প্রধান বিচারপতি বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে পৃথিবীর কোনো হত্যার মিল পাওয়া যায় না। আমরা স্তম্ভিত হয়ে যাই যে কি রকমভাবে তারা (হত্যাকারীরা) হত্যা করেছিল। আরো কষ্টদায়ক হলো    বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর হত্যাকারীদের রাষ্ট্রের আইন দ্বারা বিচারের পথ বন্ধ করে দেয়া। তিনি বলেন, এই বিচার বিভাগের একজন সদস্য হিসেবে আমি অত্যন্ত গৌরবান্বিত বোধ করছি। এই সুপ্রিম কোর্ট ওই ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে সেই বিচারের পথ প্রশস্ত করেছিল।
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেন, আমি তখন আপিল বিভাগের কনিষ্ঠ বিচারক, আমি তখন অসুস্থ ছিলাম। তখন সিঙ্গাপুরে আমার ক্যানসারের ট্রিটমেন্ট চলছিল। ট্রিটমেন্টে থাকাকালে মামলাটির বিচারের জন্য বেঞ্চ গঠন করা নিয়ে সমস্যা হয়েছিল। তখনই আমাকে তাড়াতাড়ি চলে আসার জন্য অনুরোধ করা হয়। তিনি বলেন, তখনও আমি জানি না, আমি বাঁচতে পারবো কি না। যা-ই হোক, ট্রিটমেন্ট বাদ দিয়ে আমি চলে আসলাম। শপথ নিয়ে তারপর সিঙ্গাপুরে গিয়ে ট্রিটমেন্ট নিলাম। আলোচনা সভায় আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্‌হাব মিঞা বলেন, বঙ্গবন্ধু জাতির জনক, এতে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। তিনি ছিলেন বলেই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। সেখানে আমি আজকে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি হতে পেরেছি। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে এই জন্য স্মরণ করছি যে, আমরা একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক এবং সেসঙ্গে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারপতির আসনে আসীন আছি। হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার আবু সৈয়দ দিলজার হোসেনের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী আলোচনা সভায় আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট  বিভাগের বিচারপতিগণসহ সুপ্রিম কোর্টের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সুত্র মনব জমিন

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

বঙ্গবন্ধু হত্যায় রাঘব বোয়ালরা জড়িত ছিল

Update Time : ০৪:০১:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ আগস্ট ২০১৭

জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার ষড়যন্ত্রে আরো অনেক রাঘব বোয়াল জড়িত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। তিনি বলেছেন, তদন্তের ত্রুটির কারণে সেই রাঘব বোয়ালদের বিচার করা যায়নি। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে গতকাল সুপ্রিম কোর্টের আয়োজনে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধনপূর্ব আলোচনাসভায় এসব কথা বলেন তিনি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগের সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলাই হত্যাকারীদের উদ্দেশ্য ছিল এবং বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডকে সম্পূর্ণ কাপুরুষোচিত বলে উল্লেখ করেন প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, এই ষড়যন্ত্রের মধ্যে আরো অনেক রাঘব বোয়াল জড়িত ছিল। কিন্তু তদন্তের ত্রুটির জন্য আমরা তাদের বিচারে সোপর্দ করতে পারিনি। যদিও আমাদের রায়ে আমরা পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছি, এটি একটি ক্রিমিনাল কন্সপিরেসি- পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছিল এবং তাদেরকে বিচারে সোপর্দ করার জন্য। প্রধান বিচারপতি বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে পৃথিবীর কোনো হত্যার মিল পাওয়া যায় না। আমরা স্তম্ভিত হয়ে যাই যে কি রকমভাবে তারা (হত্যাকারীরা) হত্যা করেছিল। আরো কষ্টদায়ক হলো    বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর হত্যাকারীদের রাষ্ট্রের আইন দ্বারা বিচারের পথ বন্ধ করে দেয়া। তিনি বলেন, এই বিচার বিভাগের একজন সদস্য হিসেবে আমি অত্যন্ত গৌরবান্বিত বোধ করছি। এই সুপ্রিম কোর্ট ওই ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে সেই বিচারের পথ প্রশস্ত করেছিল।
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেন, আমি তখন আপিল বিভাগের কনিষ্ঠ বিচারক, আমি তখন অসুস্থ ছিলাম। তখন সিঙ্গাপুরে আমার ক্যানসারের ট্রিটমেন্ট চলছিল। ট্রিটমেন্টে থাকাকালে মামলাটির বিচারের জন্য বেঞ্চ গঠন করা নিয়ে সমস্যা হয়েছিল। তখনই আমাকে তাড়াতাড়ি চলে আসার জন্য অনুরোধ করা হয়। তিনি বলেন, তখনও আমি জানি না, আমি বাঁচতে পারবো কি না। যা-ই হোক, ট্রিটমেন্ট বাদ দিয়ে আমি চলে আসলাম। শপথ নিয়ে তারপর সিঙ্গাপুরে গিয়ে ট্রিটমেন্ট নিলাম। আলোচনা সভায় আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্‌হাব মিঞা বলেন, বঙ্গবন্ধু জাতির জনক, এতে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। তিনি ছিলেন বলেই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। সেখানে আমি আজকে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি হতে পেরেছি। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে এই জন্য স্মরণ করছি যে, আমরা একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক এবং সেসঙ্গে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারপতির আসনে আসীন আছি। হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার আবু সৈয়দ দিলজার হোসেনের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী আলোচনা সভায় আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট  বিভাগের বিচারপতিগণসহ সুপ্রিম কোর্টের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সুত্র মনব জমিন

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ