০৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রেসিডেন্টকে রায়ের বিষয়ে জানালেন কাদের

  • Update Time : ০৩:০৭:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ আগস্ট ২০১৭
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বৈঠকের একদিন পর বঙ্গভবনে গিয়ে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। গতকাল বেলা ১২টা ২০ থেকে একঘণ্টা বঙ্গভবনে অবস্থান করেন তিনি। বঙ্গভবন থেকে বেরিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর অবজারভেশনের বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের
পার্টির অবস্থানের কথা মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরেছি। রায় নিয়ে আমাদের দলের প্রকৃত অবস্থান কী সেই বিষয়ে ব্যাখ্যা করেছি। তিনি বলেন, যেহেতু রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের অভিভাবক, প্রধান বিচারপতি তিনিই নিয়োগ দেন। তাকে আমি বিষয়টি জানিয়েছি। প্রধান বিচারপতির সঙ্গে যেসব কথাবার্তা হয়েছে সে বিষয়েও রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেছি। পরে বিকালে এক অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের বলেন, ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে উদ্বেগ থাকতে পারে, কিন্তু শঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। এ ক্ষণিকের মেঘ কেটে যাবে। তিনি বলেন,  রায়ের পর্যবেক্ষণ নিয়ে আমি প্রধান বিচারপতির সঙ্গে  বৈঠক করেছি, আমাদের দলের সভাপতি শেখ হাসিনার অনুমতি নিয়ে। প্রধান বিচারপতিকে আমাদের দলের অবস্থান জানিয়েছি। আমি  গতকাল আবার প্রধানমন্ত্রীর উপদেশ অনুযায়ী মহামান্য রাষ্ট্রপতিকেও সেই পর্যবেক্ষণের বিষয়ে প্রধান বিচারপতিকে যে বক্তব্য জানিয়েছি, সেটা রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেছি। এই নিয়ে শঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। এ সময় কাদের বলেন, আকাশের মেঘ ক্ষণিকের, সূর্য চিরদিনের। ক্ষণিকের মেঘ কেটে যাবে, চির দিবসের সূর্য উঠবে আবার। এর আগে শনিবার রাতে কাকরাইলে প্রধান বিচারপতির বাসভবনে সাক্ষাৎ করেন ওবায়দুল কাদের। গতকাল বঙ্গভবনে ওবায়দুল কাদেরের সাক্ষাতের কিছুক্ষণ আগে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়  শেষ করে বঙ্গভবন ছাড়েন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা। তার সঙ্গে দেখা হয়েছে কি না জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, তার সঙ্গে আমার দেখা হয়নি। এখানে যে অনুষ্ঠান আছে আমার জানা ছিল না। রায় পুনর্বিবেচনার আবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে সরকারের এই মন্ত্রী বলেন, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে, শেষ হওয়ার আগে কোনো মন্তব্য করা যাবে না। এদিকে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ওবায়দুল কাদের ও প্রধান বিচারপতির পৃথক সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্টের প্রেস সেক্রেটারি জয়নাল আবেদিন গতকাল মানবজমিনকে বলেন, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ওবায়দুল কাদেরের সাক্ষাৎটি অফিসিয়াল ছিল না। উনি এমনি আসছেন, দেখা করছেন। মন্ত্রী হিসেবে তো আসতেই পারেন। এরপর উনারা দুইজন কথা বলেছেন। এ সময় আমরা কেউ ছিলাম না। রায় নিয়ে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধান বিচারপতির কোনো বৈঠক হয়েছে কিনা প্রশ্নে তিনি জানান, না, না। প্রধান বিচারপতি এসেছিলেন জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে। ওটা ছিলো একটি নরমাল মিটিং। প্রধান বিচারপতি চলে যাওয়ার অনেক পরে ওবায়দুল কাদের বঙ্গভবনে আসেন। এদিকে সাক্ষাতের বিষয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা আবু নাসের সাংবাদিকদের বলেন, গত শনিবার রাতে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বাসভবনে যান মন্ত্রী। সেখানে দুজনের মধ্যে বৈঠক হয়। এই  বৈঠকের বিষয়বস্তু প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাতে অবহিত করেছেন সেতুমন্ত্রী। উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে নিতে সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদের যে পরিবর্তন ষোড়শ সংশোধনীতে আনা হয়েছিল, তা অবৈধ ঘোষণা করে দেয়া রায় গত ১লা আগস্ট প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট। ওই রায়ের পর্যবেক্ষণে প্রধান বিচারপতি দেশের রাজনীতি, সামরিক শাসন, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি, সুশাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। তাতে ‘বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটাক্ষ ও অবমূল্যায়ন করা হয়েছে’ অভিযোগ তুলে রায়ে সংক্ষুব্ধ সরকারি দল কড়া সমালোচনা করছে।
ষোড়শ সংশোধনীর ক্ষণিকের কালো মেঘ কেটে যাবে: এদিকে গতকাল বিকালে রাজধানীর পলাশী মোড়ে সনাতন ধর্মালম্বীদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান জন্মাষ্টমীর র‌্যালি উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের বলেন, ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে উদ্বেগ থাকতে পারে, কিন্তু শঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। এ ক্ষণিকের মেঘ কেটে যাবে। তিনি বলেন,  রায়ের পর্যবেক্ষণ নিয়ে আমি প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বৈঠক করেছি, আমাদের দলের সভাপতি শেখ হাসিনার অনুমতি নিয়ে। প্রধান বিচারপতিকে আমাদের দলের অবস্থান জানিয়েছি।  আমি গতকাল আবার প্রধানমন্ত্রীর উপদেশ অনুযায়ী মহামান্য রাষ্ট্রপতিকেও সেই পর্যবেক্ষণের বিষয়ে প্রধান বিচারপতিকে যে বক্তব্য জানিয়েছি, সেটা রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেছি। এই নিয়ে শঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। এ সময় কাদের বলেন, আকাশের মেঘ ক্ষণিকের, সূর্য চিরদিনের। ক্ষণিকের মেঘ কেটে যাবে, চির দিবসের সূর্য উঠবে আবার। তিনি বলেন, সীমান্ত চুক্তির বাস্তবায়ন হয়েছে। ছিটমহল সমস্যার সমাধান হয়েছে। ওবায়দুল কাদের বলেন, সীমান্ত চুক্তির বাস্তবায়ন এবং ছিটমহল সমস্যার সমাধান হয়েছে। এর চেয়ে তিস্তার পানি বণ্টন খুব বেশি সমস্যা নয়। আলাপ আলোচনা অনেক দূর এগিয়ে গেছে। এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা। তিস্তা নিয়ে আমাদের যে প্রাণের দাবি সমাধান ও চুক্তি সম্পাদন হবে। এই আশ্বাস আমি দিতে পারি। অচিরেই তিস্তা নদীর পানির বণ্টনের চুক্তি সম্পাদন হবে। এ সময় একজন বাঙালি হিসাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে’ দিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যয়ের প্রতি ‘অনুরোধ’ জানান মন্ত্রী। হিন্দুদের বলছি, আপনারা মাথা উঁচু করে চলবেন। অসাম্প্রদায়িক এই বাংলাদেশে আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, আপনারা নিজেদের সেকেন্ড ক্লাস সিটিজেন মনে করবেন না। আপনারা এদেশের ফার্স্ট ক্লাস সিটিজেন। এদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের যে অধিকার, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সবারই একই অধিকার। সনাতন ধর্মালম্বীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা নিজেদের মাইনরিটি ভাবেন কেন? মাথা উঁচু করে চলবেন। কার কাছে মাথানত করবেন। আপনার সমান অধিকার। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আপনারা নিজেদের মাইনরিটি ভাবলে কিছু দুর্বৃত্ত আপনাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়বে। এ দুর্বৃত্তদের রুখে দাঁড়াতে শেখ হাসিনা সরকার আপনাদের সঙ্গে আছে। তিনি বলেন, নীরবে চলে যাবেন না। কথা বলুন। কারা আপনাদের জমি-জমা, বাড়িঘর নিয়ে সংকীর্ণ স্বার্থ চরিতার্থ করছে। এসব দুর্বৃত্তদের মোকাবেলায় এগিয়ে আসুন। ভয় করবেন না। ভয় করার কোনো কারণ নেই। শেখ হাসিনা সরকার আপনাদের নিরাপত্তায় আছেন এবং থাকবেন। শুধু মুসলমান নয়, হিন্দু বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সবাই মুক্তিযোদ্ধা। একাত্তরে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছি। সেদিন মুক্তিযুদ্ধের জন্য কয়েক হাজার ভারতীয় সৈন্য রক্ত দিয়েছে। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমরা একাত্তরে ভারতের সঙ্গে আমাদের রক্তের যে রাখি বন্ধন, সে রাখি বন্ধন আজো আমাদের চেতনায় ও মানসভূমিতে জেগে আছে। আমরা আমাদের সেই চেতনার বিশ্বাস থেকে সরে দাঁড়াই নাই। ওবায়দুল কাদের বলেন, মাঝখানে কিছু সময় প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে টানাপড়েন হয়েছে। সম্পর্কে একটা মহল অবিশ্বাস ও সন্দেহের দেয়াল তুলেছিল। বঙ্গবন্ধু কন্যা ক্ষমতায় আসার পর, বিশেষ করে বর্তমান ডাইনামিক প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ক্ষমতায় আসার পরে, সেই সন্দেহ ও অবিশ্বাসের দেয়াল আমরা ভেঙে ফেলেছি। আর কোনো অবিশ্বাস নয়। অবিশ্বাস ও সন্দেহের বাতাবরণে দুই প্রতিবেশীর সহাবস্থান শান্তিপূর্ণ হয়নি। তাই আজকে সংশয়-সন্দেহের অবসান ঘটিয়েছি বলেই চুয়াত্তর সালের ইন্দিরা-মুজিব চুক্তির বাস্তবায়ন আমরা করতে পেরেছি। ঢাকা মহানগর সর্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি ডি এল চ্যাটার্জীর সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন, সংসদ সদস্য হাজী সেলিম, আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া প্রমুখ।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

প্রেসিডেন্টকে রায়ের বিষয়ে জানালেন কাদের

Update Time : ০৩:০৭:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ আগস্ট ২০১৭

জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বৈঠকের একদিন পর বঙ্গভবনে গিয়ে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। গতকাল বেলা ১২টা ২০ থেকে একঘণ্টা বঙ্গভবনে অবস্থান করেন তিনি। বঙ্গভবন থেকে বেরিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর অবজারভেশনের বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের
পার্টির অবস্থানের কথা মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরেছি। রায় নিয়ে আমাদের দলের প্রকৃত অবস্থান কী সেই বিষয়ে ব্যাখ্যা করেছি। তিনি বলেন, যেহেতু রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের অভিভাবক, প্রধান বিচারপতি তিনিই নিয়োগ দেন। তাকে আমি বিষয়টি জানিয়েছি। প্রধান বিচারপতির সঙ্গে যেসব কথাবার্তা হয়েছে সে বিষয়েও রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেছি। পরে বিকালে এক অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের বলেন, ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে উদ্বেগ থাকতে পারে, কিন্তু শঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। এ ক্ষণিকের মেঘ কেটে যাবে। তিনি বলেন,  রায়ের পর্যবেক্ষণ নিয়ে আমি প্রধান বিচারপতির সঙ্গে  বৈঠক করেছি, আমাদের দলের সভাপতি শেখ হাসিনার অনুমতি নিয়ে। প্রধান বিচারপতিকে আমাদের দলের অবস্থান জানিয়েছি। আমি  গতকাল আবার প্রধানমন্ত্রীর উপদেশ অনুযায়ী মহামান্য রাষ্ট্রপতিকেও সেই পর্যবেক্ষণের বিষয়ে প্রধান বিচারপতিকে যে বক্তব্য জানিয়েছি, সেটা রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেছি। এই নিয়ে শঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। এ সময় কাদের বলেন, আকাশের মেঘ ক্ষণিকের, সূর্য চিরদিনের। ক্ষণিকের মেঘ কেটে যাবে, চির দিবসের সূর্য উঠবে আবার। এর আগে শনিবার রাতে কাকরাইলে প্রধান বিচারপতির বাসভবনে সাক্ষাৎ করেন ওবায়দুল কাদের। গতকাল বঙ্গভবনে ওবায়দুল কাদেরের সাক্ষাতের কিছুক্ষণ আগে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়  শেষ করে বঙ্গভবন ছাড়েন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা। তার সঙ্গে দেখা হয়েছে কি না জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, তার সঙ্গে আমার দেখা হয়নি। এখানে যে অনুষ্ঠান আছে আমার জানা ছিল না। রায় পুনর্বিবেচনার আবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে সরকারের এই মন্ত্রী বলেন, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে, শেষ হওয়ার আগে কোনো মন্তব্য করা যাবে না। এদিকে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ওবায়দুল কাদের ও প্রধান বিচারপতির পৃথক সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্টের প্রেস সেক্রেটারি জয়নাল আবেদিন গতকাল মানবজমিনকে বলেন, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ওবায়দুল কাদেরের সাক্ষাৎটি অফিসিয়াল ছিল না। উনি এমনি আসছেন, দেখা করছেন। মন্ত্রী হিসেবে তো আসতেই পারেন। এরপর উনারা দুইজন কথা বলেছেন। এ সময় আমরা কেউ ছিলাম না। রায় নিয়ে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধান বিচারপতির কোনো বৈঠক হয়েছে কিনা প্রশ্নে তিনি জানান, না, না। প্রধান বিচারপতি এসেছিলেন জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে। ওটা ছিলো একটি নরমাল মিটিং। প্রধান বিচারপতি চলে যাওয়ার অনেক পরে ওবায়দুল কাদের বঙ্গভবনে আসেন। এদিকে সাক্ষাতের বিষয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা আবু নাসের সাংবাদিকদের বলেন, গত শনিবার রাতে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বাসভবনে যান মন্ত্রী। সেখানে দুজনের মধ্যে বৈঠক হয়। এই  বৈঠকের বিষয়বস্তু প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাতে অবহিত করেছেন সেতুমন্ত্রী। উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে নিতে সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদের যে পরিবর্তন ষোড়শ সংশোধনীতে আনা হয়েছিল, তা অবৈধ ঘোষণা করে দেয়া রায় গত ১লা আগস্ট প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট। ওই রায়ের পর্যবেক্ষণে প্রধান বিচারপতি দেশের রাজনীতি, সামরিক শাসন, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি, সুশাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। তাতে ‘বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটাক্ষ ও অবমূল্যায়ন করা হয়েছে’ অভিযোগ তুলে রায়ে সংক্ষুব্ধ সরকারি দল কড়া সমালোচনা করছে।
ষোড়শ সংশোধনীর ক্ষণিকের কালো মেঘ কেটে যাবে: এদিকে গতকাল বিকালে রাজধানীর পলাশী মোড়ে সনাতন ধর্মালম্বীদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান জন্মাষ্টমীর র‌্যালি উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের বলেন, ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে উদ্বেগ থাকতে পারে, কিন্তু শঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। এ ক্ষণিকের মেঘ কেটে যাবে। তিনি বলেন,  রায়ের পর্যবেক্ষণ নিয়ে আমি প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বৈঠক করেছি, আমাদের দলের সভাপতি শেখ হাসিনার অনুমতি নিয়ে। প্রধান বিচারপতিকে আমাদের দলের অবস্থান জানিয়েছি।  আমি গতকাল আবার প্রধানমন্ত্রীর উপদেশ অনুযায়ী মহামান্য রাষ্ট্রপতিকেও সেই পর্যবেক্ষণের বিষয়ে প্রধান বিচারপতিকে যে বক্তব্য জানিয়েছি, সেটা রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেছি। এই নিয়ে শঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। এ সময় কাদের বলেন, আকাশের মেঘ ক্ষণিকের, সূর্য চিরদিনের। ক্ষণিকের মেঘ কেটে যাবে, চির দিবসের সূর্য উঠবে আবার। তিনি বলেন, সীমান্ত চুক্তির বাস্তবায়ন হয়েছে। ছিটমহল সমস্যার সমাধান হয়েছে। ওবায়দুল কাদের বলেন, সীমান্ত চুক্তির বাস্তবায়ন এবং ছিটমহল সমস্যার সমাধান হয়েছে। এর চেয়ে তিস্তার পানি বণ্টন খুব বেশি সমস্যা নয়। আলাপ আলোচনা অনেক দূর এগিয়ে গেছে। এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা। তিস্তা নিয়ে আমাদের যে প্রাণের দাবি সমাধান ও চুক্তি সম্পাদন হবে। এই আশ্বাস আমি দিতে পারি। অচিরেই তিস্তা নদীর পানির বণ্টনের চুক্তি সম্পাদন হবে। এ সময় একজন বাঙালি হিসাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে’ দিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যয়ের প্রতি ‘অনুরোধ’ জানান মন্ত্রী। হিন্দুদের বলছি, আপনারা মাথা উঁচু করে চলবেন। অসাম্প্রদায়িক এই বাংলাদেশে আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, আপনারা নিজেদের সেকেন্ড ক্লাস সিটিজেন মনে করবেন না। আপনারা এদেশের ফার্স্ট ক্লাস সিটিজেন। এদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের যে অধিকার, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সবারই একই অধিকার। সনাতন ধর্মালম্বীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা নিজেদের মাইনরিটি ভাবেন কেন? মাথা উঁচু করে চলবেন। কার কাছে মাথানত করবেন। আপনার সমান অধিকার। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আপনারা নিজেদের মাইনরিটি ভাবলে কিছু দুর্বৃত্ত আপনাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়বে। এ দুর্বৃত্তদের রুখে দাঁড়াতে শেখ হাসিনা সরকার আপনাদের সঙ্গে আছে। তিনি বলেন, নীরবে চলে যাবেন না। কথা বলুন। কারা আপনাদের জমি-জমা, বাড়িঘর নিয়ে সংকীর্ণ স্বার্থ চরিতার্থ করছে। এসব দুর্বৃত্তদের মোকাবেলায় এগিয়ে আসুন। ভয় করবেন না। ভয় করার কোনো কারণ নেই। শেখ হাসিনা সরকার আপনাদের নিরাপত্তায় আছেন এবং থাকবেন। শুধু মুসলমান নয়, হিন্দু বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সবাই মুক্তিযোদ্ধা। একাত্তরে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছি। সেদিন মুক্তিযুদ্ধের জন্য কয়েক হাজার ভারতীয় সৈন্য রক্ত দিয়েছে। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমরা একাত্তরে ভারতের সঙ্গে আমাদের রক্তের যে রাখি বন্ধন, সে রাখি বন্ধন আজো আমাদের চেতনায় ও মানসভূমিতে জেগে আছে। আমরা আমাদের সেই চেতনার বিশ্বাস থেকে সরে দাঁড়াই নাই। ওবায়দুল কাদের বলেন, মাঝখানে কিছু সময় প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে টানাপড়েন হয়েছে। সম্পর্কে একটা মহল অবিশ্বাস ও সন্দেহের দেয়াল তুলেছিল। বঙ্গবন্ধু কন্যা ক্ষমতায় আসার পর, বিশেষ করে বর্তমান ডাইনামিক প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ক্ষমতায় আসার পরে, সেই সন্দেহ ও অবিশ্বাসের দেয়াল আমরা ভেঙে ফেলেছি। আর কোনো অবিশ্বাস নয়। অবিশ্বাস ও সন্দেহের বাতাবরণে দুই প্রতিবেশীর সহাবস্থান শান্তিপূর্ণ হয়নি। তাই আজকে সংশয়-সন্দেহের অবসান ঘটিয়েছি বলেই চুয়াত্তর সালের ইন্দিরা-মুজিব চুক্তির বাস্তবায়ন আমরা করতে পেরেছি। ঢাকা মহানগর সর্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি ডি এল চ্যাটার্জীর সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন, সংসদ সদস্য হাজী সেলিম, আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া প্রমুখ।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ