০৮:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নির্বাচনকালীন সরকার অক্টোবরে

  • Update Time : ০২:১০:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ এপ্রিল ২০১৮
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আগামী অক্টোবরে গঠিত হতে যাচ্ছে ‘সর্বদলীয় নির্বাচনকালীন সরকার’। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী ৭টি রাজনৈতিক দল এবং স্বতন্ত্র জোটের এমপিদের সমন্বয়ে গঠিত হবে ছোট আকারের এই মন্ত্রিসভা। বর্তমান সংসদে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের কোনো প্রতিনিধি না থাকায় নির্বাচনকালীন সরকারেও তাদের প্রতিনিধিত্বও থাকবে না। সরকারের নিয়মিত কাজ পরিচালনার পাশাপাশি একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করবে নির্বাচনকালীন সরকার। ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতার কাছ থেকে এমন তথ্যই পাওয়া গেছে।
আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য এবং কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী গতকাল সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে আমাদের সময়ের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বর্তমান সংসদের প্রতিনিধিদের দিয়েই এ সরকারের মন্ত্রিসভা সাজানো হবে।
একই বিষয়ে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম গতকাল আমাদের সময়কে বলেন, গতবার নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন ২৯ জন। এবারও ৩০ থেকে ৩২ সদস্য নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রিসভায় থাকতে পারেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, টেকনোক্র্যাট কোটায় নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রিসভায় কারো থাকার সুযোগ নেই।
আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা বলছেন, অক্টোবরের শুরুতে নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা স্পষ্ট হবে। বর্তমান সরকারের যেসব মন্ত্রী একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পাবেন না, তাদের বেশিরভাগই এই নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রিসভায় থাকবেনÑ এটা প্রায় নিশ্চিত। এ ছাড়া বর্তমান মন্ত্রিসভায় যারা রয়েছেন তাদের মধ্যেই কয়েকজনকে সরিয়ে মন্ত্রিসভায় কাটছাঁট করে নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রিসভা গঠিত হবে। সে ক্ষেত্রে নির্বাচনকালীন সরকারে নতুন কোনো মন্ত্রীর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। ক্ষমতাসীন দলটির নেতারা বলছেন, বিএনপিসহ যেসব দল দশম সংসদে নেই, তারা নির্বাচনকালীন সরকারে থাকবে না। সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দল আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন, জাতীয় পার্টি (জেপি), বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট এবং স্বতন্ত্র জোটের এমপিদের মধ্য থেকে প্রধানমন্ত্রীর পছন্দের প্রতিনিধিরা থাকবেন ওই মন্ত্রিসভায়।
আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপিকে আর ডাকার সুযোগ আছে বলে মনে করেন না সরকারি দলের নেতারা।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার সফিক আহমেদ আমাদের সময়কে বলেন, গতবার আর এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। নির্বাচনকালীন সরকারে এবার বিএনপির থাকার কোনো সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন, দশম সংসদ নির্বাচনের পর ২৯ জানুয়ারি প্রথম সংসদ অধিবেশন বসেছিল। সেই হিসাবে তিন মাস আগে আগামী ২৯ অক্টোবর মেয়াদ শেষ হচ্ছে বর্তমান সংসদের। নির্বাচন কমিশনের কর্মকা-ের আলামতে আমরা যা বুঝছি, তাতে মনে হচ্ছে, আগামী ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে পারে একাদশ সংসদ নির্বাচন। সে ক্ষেত্রে সেপ্টেম্বরের শেষে বা অক্টোবরের শুরুতে বর্তমান মন্ত্রিসভা ভেঙে দিয়ে অপেক্ষাকৃত ছোট আকারের মন্ত্রিসভা গঠন করে নির্বাচনকালীন সরকার সাজাতে পারেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আওয়ামী লীগের নেতারা জানান, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ‘সর্বদলীয় সরকার’ গঠন করা হলেও এটির কোনো প্রয়োজন ছিল না। সব রাজনৈতিক দল যেন নির্বাচনে অংশ নেয়, সে জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই সরকার গঠন করেছিলেন। তৎকালীন বিরোধী দল বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে, মন্ত্রিসভায় তাদের স্থান দিতেই প্রধানমন্ত্রী প্রথমে এমন প্রস্তাব দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী সে সময় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে টেলিফোন করে মন্ত্রিসভায় তার দলের প্রতিনিধি দেওয়ারও প্রস্তাব করেছিলেন। কিন্তু বিএনপি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে নির্বাচনে না আসায় সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী অন্য দলগুলোকে নিয়ে তিনি ওই সরকার গঠন করেন।
আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে সেটি ‘নির্বাচনকালীন সরকার’ নামে পরিচিত হলেও বাস্ততে স্বাভাবিক সরকারই ছিল। দলটির নেতারা আরও বলেন, আমাদের দেশের সংবিধানেও নির্বাচনকালীন সরকার বলে পৃথক কোনো সরকারের কথা উল্লেখ নেই। কিন্তু যেহেতু ওই সরকারের সময় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে তাই প্রচলিত অর্থে আমরা ওই সরকারকে নির্বাচনকালীন সরকার বলে থাকি। এ বিষয়ে সংবিধানের ৫৭(৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘প্রধানমন্ত্রীর উত্তরাধিকারী কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীকে স্বীয় পদে বহাল থাকিতে এই অনুচ্ছেদের কোনোকিছুই অযোগ্য করিবে না।’
সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর অর্থ হচ্ছে, যিনি জাতীয় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন, নতুন একজন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত তিনি স্বপদে বহাল থাকবেন। সুত্র: অামাদের সময়

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

নির্বাচনকালীন সরকার অক্টোবরে

Update Time : ০২:১০:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ এপ্রিল ২০১৮

জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আগামী অক্টোবরে গঠিত হতে যাচ্ছে ‘সর্বদলীয় নির্বাচনকালীন সরকার’। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী ৭টি রাজনৈতিক দল এবং স্বতন্ত্র জোটের এমপিদের সমন্বয়ে গঠিত হবে ছোট আকারের এই মন্ত্রিসভা। বর্তমান সংসদে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের কোনো প্রতিনিধি না থাকায় নির্বাচনকালীন সরকারেও তাদের প্রতিনিধিত্বও থাকবে না। সরকারের নিয়মিত কাজ পরিচালনার পাশাপাশি একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করবে নির্বাচনকালীন সরকার। ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতার কাছ থেকে এমন তথ্যই পাওয়া গেছে।
আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য এবং কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী গতকাল সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে আমাদের সময়ের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বর্তমান সংসদের প্রতিনিধিদের দিয়েই এ সরকারের মন্ত্রিসভা সাজানো হবে।
একই বিষয়ে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম গতকাল আমাদের সময়কে বলেন, গতবার নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন ২৯ জন। এবারও ৩০ থেকে ৩২ সদস্য নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রিসভায় থাকতে পারেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, টেকনোক্র্যাট কোটায় নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রিসভায় কারো থাকার সুযোগ নেই।
আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা বলছেন, অক্টোবরের শুরুতে নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা স্পষ্ট হবে। বর্তমান সরকারের যেসব মন্ত্রী একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পাবেন না, তাদের বেশিরভাগই এই নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রিসভায় থাকবেনÑ এটা প্রায় নিশ্চিত। এ ছাড়া বর্তমান মন্ত্রিসভায় যারা রয়েছেন তাদের মধ্যেই কয়েকজনকে সরিয়ে মন্ত্রিসভায় কাটছাঁট করে নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রিসভা গঠিত হবে। সে ক্ষেত্রে নির্বাচনকালীন সরকারে নতুন কোনো মন্ত্রীর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। ক্ষমতাসীন দলটির নেতারা বলছেন, বিএনপিসহ যেসব দল দশম সংসদে নেই, তারা নির্বাচনকালীন সরকারে থাকবে না। সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দল আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন, জাতীয় পার্টি (জেপি), বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট এবং স্বতন্ত্র জোটের এমপিদের মধ্য থেকে প্রধানমন্ত্রীর পছন্দের প্রতিনিধিরা থাকবেন ওই মন্ত্রিসভায়।
আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপিকে আর ডাকার সুযোগ আছে বলে মনে করেন না সরকারি দলের নেতারা।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার সফিক আহমেদ আমাদের সময়কে বলেন, গতবার আর এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। নির্বাচনকালীন সরকারে এবার বিএনপির থাকার কোনো সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন, দশম সংসদ নির্বাচনের পর ২৯ জানুয়ারি প্রথম সংসদ অধিবেশন বসেছিল। সেই হিসাবে তিন মাস আগে আগামী ২৯ অক্টোবর মেয়াদ শেষ হচ্ছে বর্তমান সংসদের। নির্বাচন কমিশনের কর্মকা-ের আলামতে আমরা যা বুঝছি, তাতে মনে হচ্ছে, আগামী ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে পারে একাদশ সংসদ নির্বাচন। সে ক্ষেত্রে সেপ্টেম্বরের শেষে বা অক্টোবরের শুরুতে বর্তমান মন্ত্রিসভা ভেঙে দিয়ে অপেক্ষাকৃত ছোট আকারের মন্ত্রিসভা গঠন করে নির্বাচনকালীন সরকার সাজাতে পারেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আওয়ামী লীগের নেতারা জানান, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ‘সর্বদলীয় সরকার’ গঠন করা হলেও এটির কোনো প্রয়োজন ছিল না। সব রাজনৈতিক দল যেন নির্বাচনে অংশ নেয়, সে জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই সরকার গঠন করেছিলেন। তৎকালীন বিরোধী দল বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে, মন্ত্রিসভায় তাদের স্থান দিতেই প্রধানমন্ত্রী প্রথমে এমন প্রস্তাব দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী সে সময় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে টেলিফোন করে মন্ত্রিসভায় তার দলের প্রতিনিধি দেওয়ারও প্রস্তাব করেছিলেন। কিন্তু বিএনপি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে নির্বাচনে না আসায় সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী অন্য দলগুলোকে নিয়ে তিনি ওই সরকার গঠন করেন।
আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে সেটি ‘নির্বাচনকালীন সরকার’ নামে পরিচিত হলেও বাস্ততে স্বাভাবিক সরকারই ছিল। দলটির নেতারা আরও বলেন, আমাদের দেশের সংবিধানেও নির্বাচনকালীন সরকার বলে পৃথক কোনো সরকারের কথা উল্লেখ নেই। কিন্তু যেহেতু ওই সরকারের সময় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে তাই প্রচলিত অর্থে আমরা ওই সরকারকে নির্বাচনকালীন সরকার বলে থাকি। এ বিষয়ে সংবিধানের ৫৭(৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘প্রধানমন্ত্রীর উত্তরাধিকারী কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীকে স্বীয় পদে বহাল থাকিতে এই অনুচ্ছেদের কোনোকিছুই অযোগ্য করিবে না।’
সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর অর্থ হচ্ছে, যিনি জাতীয় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন, নতুন একজন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত তিনি স্বপদে বহাল থাকবেন। সুত্র: অামাদের সময়

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ