০৯:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নবদম্পতির বাসর সাজানো হলো না, বিয়ের শাড়িই হলো কাফন

  • Update Time : ০৯:১৯:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
  • / ৫ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট :: হাতে মেহেদির রঙ তখনও গাঢ়, নতুন জীবনের স্বপ্ন চোখে নিয়ে কনের বাড়ি থেকে বরের বাড়ির পথে রওনা হয়েছিলেন সাব্বির ও মার্জিয়া আক্তার (মিতু)। কিন্তু সেই যাত্রা যে তাদের চিরস্থায়ী গন্তব্যে নিয়ে যাবে, তা ঘুণাক্ষরেও ভাবেনি কেউ। বাগেরহাটের রামপালে সড়ক দুর্ঘটনায় নবদম্পতিসহ ১৩ জনের মৃত্যুর ঘটনায় এখন শোকের মাতম চলছে দুই পরিবারে। বিয়ের আনন্দ উৎসব যেন মুহূর্তেই পরিণত হলো ভয়াবহ এক বিভীষিকায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিবেশ। যেখানে আজ নতুন বউকে বরণ করে নেওয়ার কথা ছিল, সেখানে এখন সারি সারি লাশের মিছিল। নিহত মার্জিয়ার মামা আবু তাহের কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, দুপুরে কয়রা থেকে পরম আনন্দে মিতুকে শ্বশুরবাড়ি পাঠালাম। আমার বোনঝি আর নানি— সবাই তো একসঙ্গে ছিল। মুহূর্তেই সব শেষ হয়ে গেল!

দুর্ঘটনার খবর পেয়েই দুর্ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে ছুটে আসা স্বজনদের কান্না যেন থামছেই না। বর সাব্বিরের পরিবারের সদস্যরাও একইভাবে শোকাচ্ছন্ন। বিয়ের কনে মার্জিয়ার সঙ্গে তার বোন লামিয়া এবং নানিও মারা গেছেন। যারা আজ উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করতে এসেছিলেন, তাদের অনেককেই এখন নিতে হচ্ছে শেষ বিদায়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মাইক্রোবাসটিতে বরের আত্মীয়স্বজন ও বন্ধু-বান্ধব মিলে হাসি-তামাশা করতে করতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু রামপালের বেলাইব্রিজ এলাকা পার হওয়ার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা নৌবাহিনীর বাসের সঙ্গে সংঘর্ষে সব হাসি চিরতরে স্তব্ধ হয়ে যায়। দুমড়েমুচড়ে যাওয়া মাইক্রোবাস থেকে উদ্ধারের সময় যে ভয়াবহ দৃশ্য দেখেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা, তা এখনো ভুলতে পারছেন না তারা। এখন দুই পরিবারে চলছে শোকের ছায়া। নতুন সংসার সাজানোর স্বপ্ন ছিল যাদের, তাদের শেষ ঠিকানা হলো গোরস্থান। বিয়ের শাড়ি আর পাঞ্জাবির ওপরই যেন পড়ে গেল নিস্তব্ধ মৃত্যুর চাদর। এই শোক কাটানোর ভাষা নেই কারো জানা। কাটাখালী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কে এম হাসানুজ্জামান জানান, দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় হতাহতদের উদ্ধার করা হয়।

রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুকান্ত কুমার পাল জানান, চারজনের মরদেহ তাদের হাসপাতালে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মেহেনাজ মোশাররফ জানান, হাসপাতালে আনা ৯ জনের মরদেহ সেখানে রয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৩ জন শিশু, ৩ জন নারী ও ৩ জন পুরুষ রয়েছেন। এরমধ্যে একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

নবদম্পতির বাসর সাজানো হলো না, বিয়ের শাড়িই হলো কাফন

Update Time : ০৯:১৯:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট :: হাতে মেহেদির রঙ তখনও গাঢ়, নতুন জীবনের স্বপ্ন চোখে নিয়ে কনের বাড়ি থেকে বরের বাড়ির পথে রওনা হয়েছিলেন সাব্বির ও মার্জিয়া আক্তার (মিতু)। কিন্তু সেই যাত্রা যে তাদের চিরস্থায়ী গন্তব্যে নিয়ে যাবে, তা ঘুণাক্ষরেও ভাবেনি কেউ। বাগেরহাটের রামপালে সড়ক দুর্ঘটনায় নবদম্পতিসহ ১৩ জনের মৃত্যুর ঘটনায় এখন শোকের মাতম চলছে দুই পরিবারে। বিয়ের আনন্দ উৎসব যেন মুহূর্তেই পরিণত হলো ভয়াবহ এক বিভীষিকায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিবেশ। যেখানে আজ নতুন বউকে বরণ করে নেওয়ার কথা ছিল, সেখানে এখন সারি সারি লাশের মিছিল। নিহত মার্জিয়ার মামা আবু তাহের কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, দুপুরে কয়রা থেকে পরম আনন্দে মিতুকে শ্বশুরবাড়ি পাঠালাম। আমার বোনঝি আর নানি— সবাই তো একসঙ্গে ছিল। মুহূর্তেই সব শেষ হয়ে গেল!

দুর্ঘটনার খবর পেয়েই দুর্ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে ছুটে আসা স্বজনদের কান্না যেন থামছেই না। বর সাব্বিরের পরিবারের সদস্যরাও একইভাবে শোকাচ্ছন্ন। বিয়ের কনে মার্জিয়ার সঙ্গে তার বোন লামিয়া এবং নানিও মারা গেছেন। যারা আজ উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করতে এসেছিলেন, তাদের অনেককেই এখন নিতে হচ্ছে শেষ বিদায়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মাইক্রোবাসটিতে বরের আত্মীয়স্বজন ও বন্ধু-বান্ধব মিলে হাসি-তামাশা করতে করতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু রামপালের বেলাইব্রিজ এলাকা পার হওয়ার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা নৌবাহিনীর বাসের সঙ্গে সংঘর্ষে সব হাসি চিরতরে স্তব্ধ হয়ে যায়। দুমড়েমুচড়ে যাওয়া মাইক্রোবাস থেকে উদ্ধারের সময় যে ভয়াবহ দৃশ্য দেখেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা, তা এখনো ভুলতে পারছেন না তারা। এখন দুই পরিবারে চলছে শোকের ছায়া। নতুন সংসার সাজানোর স্বপ্ন ছিল যাদের, তাদের শেষ ঠিকানা হলো গোরস্থান। বিয়ের শাড়ি আর পাঞ্জাবির ওপরই যেন পড়ে গেল নিস্তব্ধ মৃত্যুর চাদর। এই শোক কাটানোর ভাষা নেই কারো জানা। কাটাখালী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কে এম হাসানুজ্জামান জানান, দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় হতাহতদের উদ্ধার করা হয়।

রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুকান্ত কুমার পাল জানান, চারজনের মরদেহ তাদের হাসপাতালে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মেহেনাজ মোশাররফ জানান, হাসপাতালে আনা ৯ জনের মরদেহ সেখানে রয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৩ জন শিশু, ৩ জন নারী ও ৩ জন পুরুষ রয়েছেন। এরমধ্যে একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ